বুয়েটকে অবরুদ্ধ করবে প্রগতিশীল ছাত্র ফ্রন্ট

আগের সংবাদ

পর্তুগালের জয়, ইংল্যান্ডের হার

পরের সংবাদ

আশাবাদের বাংলাদেশ পর্দায় ফুটে উঠবে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১২, ২০১৯ , ৪:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৯, ৪:৩২ অপরাহ্ণ

Avatar

শিশুতোষ টেলিভিশন চ্যানেল দুরন্ত টিভিতে রবিবার থেকে প্রচার শুরু হবে নতুন অনুষ্ঠান ‘মাস্টারমাইন্ড ফ্যামিলি বাংলাদেশ’। বিবিসির পৃথিবীবিখ্যাত কুইজ শো ‘মাস্টারমাইন্ড’র আদলে অনুষ্ঠানটি নির্মিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন নবনীতা চৌধুরী। তার সঙ্গে কথা বলেছেন শাহনাজ জাহান

দুরন্ত টিভির নতুন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন এই বিষয়ে যদি বলেন?
বাংলাদেশে এই প্রথম দুরন্ত টেলিভিশন নিয়ে এসেছে বিবিসির পৃথিবীবিখ্যাত কুইজ শো ‘মাস্টারমাইন্ড’। শিশু এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে তৈরি হয়েছে মেধাভিত্তিক এই কুইজ শো ‘মাস্টারমাইন্ড ফ্যামিলি বাংলাদেশ’। ১৩ অক্টোবর থেকে প্রতি রবি-বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা এবং রাত ৮টায় প্রচারিত হবে অনুষ্ঠানটি। এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছি, এটা আমার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

কী থাকবে অনুষ্ঠানটিতে?
ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র একটা আশাবাদের বাংলাদেশ পর্দায় ফুটে উঠবে। আমরা অনেকেই ভাবি এখনকার শিশুরা পড়ালেখা করে না, মানে পড়ার বইয়ের বাইরে কিছু জানে না, কোনো বিষয়ে তাদের কৌত‚হল নেই, জিপিএ পাঁচ এর কথা ভাবতে ভাবতে তাদের আর দেশ দুনিয়া সাহিত্য-সংস্কৃতি কিছু সম্পর্কে জানার কোনো আগ্রহ বা উপায় নেই। এগুলো যে কত ভুল ধারণা সেটা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শক জানতে পারবেন। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে দেশ, মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ এবং এসব সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের গভীরতা দেখেও।

অনুষ্ঠানটির আলাদা বিশেষত্ব কী?
পরিবারের বাবা-মাসহ অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে এরকম পারিবারিক কুইজ শো বাংলাদেশে এই প্রথম। এতগুলো পরিবার, সেসব পরিবারের বাবা-মা-শিশু-আত্মীয়, মানে আমাদের মতোই আরো ৬৪টি পরিবারকে টেলিভিশনের পর্দায় চিনতে পারার সুযোগও এই প্রথম। এই আকারের কোনো রিয়েলিটি শো বোধহয় হয়নি কখনো আগে বাংলাদেশে।

বাচ্চাদের মধ্যে কেমন সাড়া জাগাবে বলে আপনি মনে করেন?
শুধু শিশুরা নয়, পুরো পরিবারই খুব মজা পাবে। তবে আমার মনে হয় এ ধরনের মেধার প্রতিযোগিতা শিশুদের মধ্যে একটা বিশ্বাস তৈরি করে যে, আমি যেই অর্থনৈতিক অবস্থানেই বড় হইনা কেন, আমি ছেলে হই বা মেয়ে, আমার বাবা মায়ের প্রতিপত্তি থাকুক আর না থাকুক আমি নিজের চেষ্টার জোরে অনেকদূর যেতে পারি। আর আমার মনে হয় মাস্টারমাইন্ড ছেলেমেয়েদের মধ্যে পড়ালেখার ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করবে।

আপনার সঞ্চালনায় ‘রাজকাহন’ টকশোটি বেশ জনপ্রিয়। নতুন কোনো অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় কি দেখা যাবে?
আপাতত কোনো রাজনৈতিক টকশো করছি না। রাজনৈতিক টকশোতে আমাদের তো অনেক রূঢ় বাস্তবতা, নেতিবাচকতা নিয়ে কথা বলতে হয়, অনেক সময় আমরা প্রত্যাশিত পরিবর্তনে রাজনৈতিক অঙ্গীকার না দেখে হতাশ হই, সেখানে ‘মাস্টারমাইন্ড ফ্যমিলি বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি আসলে আমার ভেতরে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি করেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন বিজ্ঞানী, নভোচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, পরিষ্কার সুন্দর শহর তৈরি করতে চাইছে, নদী, মাঠ রক্ষায়, শব্দ দূষণ কমাতে নিজেরা দায়িত্ব নেয়ার কথা বলছে। আমাদের দেশটা যে এমন ভাবনার ছেলেমেয়ে তৈরি করতে পারছে সেটাই তো দারুণ খবর।

সঞ্চালনায় আসার গল্পটা জানতে চাই…
দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করেছি। ভোরের কাগজের ফিচার পাতায় লিখতাম স্কুলজীবন থেকে। তারপর ভোরের কাগজেই নিউজ ডেস্কে সাব এডিটর হিসেবে সংবাদিকতার শুরু। এরপর একুশে টেলিভিশনে গবেষক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, ঢাল চর থেকে সুন্দরবন ঘুরে বেড়িয়ে খবর সংগ্রহ করেছি। মানুষের গল্প জানার, তাদের কথা শোনার আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়া। সাংবাদিকতার পথ ধরেই টেলিভিশনে সঞ্চালনায় আসা।

বিষয়: