মাঠে আমরাও থাকবো

আগের সংবাদ

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বুয়েট উপাচার্য

পরের সংবাদ

সবজির দাম চড়া

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১১, ২০১৯ , ৫:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৯, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

Avatar

প্রতিদিনই বাজারে আসছে শীতের নানা ধরনের সবজি। শীতের আগাম এই সবজির সরবরাহ বাড়লেও বাজারে এর দাম চড়া। সরবরাহ থাকলেও নানা অজুহাতে সবজির দাম বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা সহনীয় হলেও খুচড়া বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে শীতের এই আগাম সবজি। শীতের সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিম ও টমেটো।

এদিকে, ইলিশ মাছ বাজারে না থাকায় অন্যান্য মাছের দাম বাড়তির দিকে। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখো গেছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শান্তিনগর, রামপুরা, খিলগাঁও রেলে গেট কাঁচা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি টমেটো মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১শ থেকে ১২০ টাকা, সিম বিক্রি হচ্ছে মানভেদে প্রতিকেজি ১শ থেকে ১২০টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৯০ টাকা। তবে এক সপ্তাহ আগেও একই দামে বিক্রি হয়েছে। একইভাবে আগের দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে অন্য সব সবজি। প্রতিকেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, করলা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৪০ টাকা, শসা (দেশি) ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, কচুর ছড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতা ৪০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, এখন সবজির দাম কম হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে দাম কমছে না। পাইকারি বাজারে বাড়তি দাম হওয়ায় খুচরাতেও বাড়তি রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। সবজির বাড়তি দাম নিয়ে বিক্রেতারা বন্যাকে দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ বন্যার কারণে অনেক এলাকায় সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আগে থেকে সবজির সরবরাহ বেড়েছে।

এদিকে, বাজারভেদে বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া, আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধা কপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। সবজির মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সবধরনের শাক। প্রতি আটি (মোড়া) লালশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, মুলাশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, কুমড়া শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

যাত্রাবাড়ীর কাঁচা বাজারে কথা হয় সবজি বিক্রেতা জহির উদ্দিনে সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে জানান, দেশের মধ্যে অনেক এলাকায় বন্যা হওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে পণ্য কম আসছে। এতে পাইকার বাজারে দাম বেড়ে যায়। আর এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ে। দাম বাড়াটা একটা রীতিতে পরিণত হয়েছে। বাজারে সব ধরনের মৌসুম সবজিতে ভরপুর, তবুও দাম না কমার কারণ দেখি না।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙাশ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাচকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি গরু ও মহিষের মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা, খাসি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, লাল লেয়ার ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পাকিস্তানি কক ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ডজন।

খিলগাঁও রেলগেট কাঁচা বাজারে কথা হয় রাজধানীর বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, বাজারের দামের যা অবস্থা ইতিমধ্যে গরুর মাংস অনেক আগেই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। মাছও নিয়মিত খাওয়া হয় না। মাছ-মাংস বাদ দিয়ে সবজি কিনে খাবো তারও উপায় নেই। অতিরিক্ত দামের কারণে মানুষের রাজধানীতে জীবন-যাপন কঠিন হয়ে উঠছে।