সঙ্গীতে ৫০ বছর পূর্তিতে তিমির নন্দীর ‘মেঘলা দু’চোখ’

আগের সংবাদ

রিশা হত্যা মামলার রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক

পরের সংবাদ

আগরতলা থেকে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু স্মারক গ্রন্থ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১১, ২০১৯ , ৮:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৯, ৮:৪২ অপরাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে নানাভাবে মিশে আছে ভারত। ভারতের ত্রিপুরা বা আগরতলায় একাত্তরে প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদান, সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা, স্বীকৃতি প্রদান আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে একত্ব করেছে ভারতকে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের এই বহুমাত্রিক ভূমিকাকে উপজীব্য করে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহর।

মুক্তিযুদ্ধের তীর্থভূমি অরণ্যদুহিতা ত্রিপুরার সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক ছিল অকৃত্রিম যেন আজও অটুট। সেখানে কাঁটাতারের বেড়া কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং ভালোবাসা আলো পড়ল আরো দ্বিগুন হয়ে জ্বলে উঠল অন্যরকম সম্পর্কের প্রেরণায়। সে সম্পর্কের সূত্র ধরেই আগরতলা থেকে এবার প্রকাশিত হলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আন্তর্জাতিক স্মারক গ্রন্থ।

শুক্রবার (১১অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো এই স্মারক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব। বিকেলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। স্মারক গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন স্মারকগ্রন্থের সম্পাদক ড. দেবব্রত দেব রায়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক আনিসুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শরনার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরম আশ্রয়স্থল ছিল ত্রিপুরা। সেখানে বাংলাদেশ থেকে এতো মানুষ তখন গিয়েছিল যা প্রায় সেখানকার জনসংখ্যার সমান। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছিল। শরণার্থীদের জন্য সরকার ত্রিপুরা রাজ্যে আলাদা কর পর্যন্ত চালু করেন। তবু তাদের সুবিধা দিতে সারা দিনের পর গভীর রাত পর্যন্তও অফিস আদালত খোলা রাখা হতো। যেই ত্রিপুরার সাথে আমাদের এতো গভীর সম্পর্ক, সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এমন একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে, এটি মোটেই আশ্চর্যজনক নয়। স্বাধীনতার এতোদিন পরেও তারা মনে রেখেছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এবং দেশে দেশে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্থান পেয়েছেন।

ড. গওহর রিজভী বলেন, আগরতলার সাথে বাংলার সম্পর্ক কোনো বাঙালি কোনদিন ভুলতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাঙালিদের নিজেদের অতিথি মনে করে যেভাবে সাহায্য করেছে, এই উদাহরণ পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। তাদের এমন সহযোগিতা ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তারা সহযোগিতা না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে আরো অনেক সময় লেগে যেতো। আর স্বাধীনতার এতো বছর পরেও যে সেই ভালোবাসা তারা এখনো অটুট রেখেছে, এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

স্মারকগ্রন্থের সম্পাদক ড. দেবব্রত দেব রায় বলেন, দীর্ঘ একটা সময়ের ফসল এই স্মারকগ্রন্থটি। এটি বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার এবং আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা। এই গ্রন্থে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০০ জন কবি, লেখক, আলোচক, গবেষক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের লেখা লিখেছেন। আর ঢাকায় গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসব করতে পারাটা যেন গ্রন্থটির পূর্ণতা এনে দিল।

এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, কবি অসীম সাহা, শিশু সাহিত্যিক আনসারুল হক, ত্রিপুরার বিশিষ্ট লেখক ড. আশীষ কুমার বৈদ্য, নিয়তি রায় বর্মণ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক।

এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য এবং ধন্যবাদ জ্ঞান করেন স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনা কমিটির ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু এবং ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্ধিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক ড. নীপা চৌধুরী।

প্রকাশনা অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। গান, কবিতা, নৃত্যে সে আয়োজনে অংশ নেন বাংলাদেশ এবং ভারতীয় শিল্পীরা।