বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

আগের সংবাদ

বাংলাদেশকে রুখে দিল ওমান

পরের সংবাদ

রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর

সম্রাটকে জয়েন্ট সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১০, ২০১৯ , ১১:২১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

Avatar

ক্যাসিনো বাণিজ্যের প্রধান পৃষ্টপোষকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আড়ালের অপরাধীদের ধরতেই আরমান, খালেদ, শামীম, ফিরোজ ও লোকমানদের মুখোমুখি করা হবে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদ্য বহিষ্কৃত এ সভাপতিকে। এতে অনেক গোপন ও অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি সম্রাটের হৃদস্পন্দন গত মঙ্গলবার রাতে অনিয়মিত হয়ে পড়ায় তাকে আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মেডিকেল বোর্ড। তবে তার কোনো ঝুঁকি নেই ও তাকে বিদেশে নেয়ারও প্রয়োজন নেই বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়াও হাসপাতালে থাকায় রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে করা দুই মামলায় সম্রাটের রিমান্ড আবেদন শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর ধার্য করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার হোতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেপ্তারের পর এবার তার গডফাদার, মদদ ও আশ্রয়দাতাদের খোঁজে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খোঁজা হচ্ছে ক্যাসিনোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে। সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার ভাগিদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম আসবে তাদের কেউ ছাড়া পাবে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে থাকা প্রায় ২০ জনের তালিকা ধরে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে। সম্রাট ছাড়াও ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার রয়েছেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে শামীম, লোকমান ভূঁইয়া, ফিরোজ ও আরমানসহ শীর্ষ ৭ হোতা।

র‌্যাব জানায়, ক্যাসিনোতে জড়িত মোল্লা আবু কাওসার, মমিনুল হক সাঈদ, এনামুল হক এনুসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়াও সম্রাটের সূত্র ধরে তারা খুজঁছে নেপথ্যের গডফাদারদের। তার অবৈধ অর্থ যাদের কাছে যেত তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

র‌্যাব জানায়, আড়ালের অপরাধীদের ধরতে মুখোমুখি করা হবে সম্রাট-আরমান-খালেদ-শামীম-ফিরোজ ও লোকমানদের। এতে তাদের গোপন অনেক তথ্যই বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছে র‌্যাব। সম্রাট ও আরমানের দেশবাংলা মাল্টিমিডিয়া নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও আছে। ক্যাসিনোর অবৈধ টাকা চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ হয়েছে কিনা বা এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অন্য কোনো অপকর্ম হয়েছে কিনা র‌্যাব তা খতিয়ে দেখছে। র‌্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, অভিযানে ক্যাসিনো বন্ধ করা হয়েছে। এখন তদন্তের স্বার্থে যা প্রয়োজন আমরা তা করছি- ভবিষ্যতেও করব। এর নেপথ্যে যারা আছেন সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

গত রবিবার ভোরে গ্রেপ্তার যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেয়া হয়। এর আগে বুকে ব্যথা অনুভব করলে সকাল সাড়ে ৭টায় সম্রাটকে কারাগার থেকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর ঢামেক চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখানে তার সুচিকিৎসার জন্য ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান হিসেবে রয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. আফজালুর রহমান।

গতকাল বুধবার (১০ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে সম্রাটের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. মহসিন আহমেদ বলেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ভর্তির পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে সবগুলো রিপোর্টই ভালো এসেছে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিলিয়ে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন। তবে গতরাতে (মঙ্গলবার) তার হৃদস্পন্দন অনিয়মিত ছিল। তাই তাকে আরো ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না জানতে চাইলে ড. মহসিন বলেন, তার কোনো ঝুঁকি নেই ও বিদেশে নেয়ারও প্রয়োজন নেই।