ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন

আগের সংবাদ

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

পরের সংবাদ

সবার বিচার হবে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১০, ২০১৯ , ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল করে, কী করে, তা আমি দেখি না, অপরাধী অপরাধীই। বুুয়েটের ঘটনা সকালে শুনে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। ছাত্রদের আন্দোলনের আগেই তৎপরতা শুরু করি। কে ছাত্রলীগ, কিসের ছাত্রলীগ? সব অপরাধী ও অন্যায়কারীর বিচার হবে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গণভবনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন ও ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দুই রাষ্ট্র সফরের বিস্তারিত ছাড়াও বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি, গ্যাস ও পানি বণ্টন চুক্তি, ক্যাসিনো ও শুদ্ধি অভিযান নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহ্সানুল করিম।

আবরার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন এই নৃসংসতা? এই জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দল বুঝি না। ছাত্রলীগ বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি, যেন জড়িতদের বহিষ্কার করা হয়। এখানে আমি বিবেচনা করব না কিসের ছাত্রলীগ। অপরাধী অপরাধীই। যে অন্যায় করে সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবেই।

তিনি বলেন, যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদের ঘেরাও করা হলো, ফুটেজ আনতে দেয়া হবে না। পুলিশকে আটকে রাখা হয়েছে কেন? কেন ফুটেজ আনতে দেয়া হবে না? তাদের দাবি ফুটেজ পুলিশ নষ্ট করবে। ডেড বডির যাতে পোস্টমর্টেম হয়, সে ব্যবস্থা করা হলো। অন্যায়ভাবে ২১ বছরের একটা বাচ্চা ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা অমানবিক! আমি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখেছি। সমস্ত ইনজুরি ভেতরে। তখন আমার মনে পড়ল, ২০০১ সালে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে এমনভাবে পিটানো হতো। বাইরে থেকে ইনজুরি নেই। তারা মারা যেত। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে তারা আমার পার্টির হলেও কখনোই মেনে নেব না।

ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির চুক্তির সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলপিজি রপ্তানি করবে, প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিরও কোনো অবকাশ নেই। আমরা বিদেশ থেকে এলপিজি এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে রপ্তানি করব। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রকৃত মজুদ কত, তা না জেনে রপ্তানি করার কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। এলপিজি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না, এখন এই গ্যাস আমরা আমদানি করছি। রান্নায় সিলিন্ডারে সরবরাহ করছি। আগে স্বল্প পরিমাণে আমাদের এলপিজি উৎপাদন হতো। আমদানি করা গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। আগে ১০ কেজির সিলিন্ডার ১৬শ টাকা দাম পড়ত। বাজার উন্মুক্ত করে দেয়ায় এখন ৯০০ টাকা। গ্যাস উত্তোলনের সময় বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলজি পাওয়া যায়। আর আমরা ত্রিপুরায় যে গ্যাস দিচ্ছি তা আমদানি করা এলপিজি। তাছাড়া আমি যেটাই করছি তাতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

ফেনী নদীর পানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রিপুরাবাসীকে ফেনী নদীর যে পানি দেয়া হচ্ছে, তা খাবার পানি। কেউ খাবার পানি চাইলে, তা যদি না দেই, সেটা কেমন হয়! ত্রিপুরা আমাদের ঐতিহাসিক বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার মানুষ আমাদের আগলে রেখেছে। সেই ত্রিপুরায় সামান্য খাবার পানি দেয়ার জন্য আপত্তি থাকতে পারে না।

‘দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে, এটা কখনো হতে পারে না’ এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এর বিরোধিতায় সোচ্চার সেই বিএনপিকে ২০০১ সালের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমেরিকা যখন গ্যাস বিক্রির জন্য বলেছিল, আমি বলেছিলাম দেশের চাহিদা মিটিয়ে তারপর বিক্রি করব। যে কারণে ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। বিএনপি গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, একটা ঘটনা ঘটেছে বলেই ছাত্র রাজনীতি ব্যান করার দাবি উঠবে? আমি নিজে ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। ছাত্র রাজনীতি ব্যান করব কেন? বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের উজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে তা কলুষিত করতে সামরিক শাসকদের দায়ী করে তিনি বলেন, নষ্ট রাজনীতি আইয়ুব খান শুরু করেছিল, আবার জিয়াউর রহমান এসে শুরু করল একইভাবে। তাছাড়া এই দুজনের ক্ষমতা দখলের চরিত্র একই রকম। আর ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বলেন। এই দেশের প্রতিটি সংগ্রামের অগ্রণী ভ‚মিকা কিন্তু ছাত্ররাই নিয়েছেন। আবরার হত্যার বিচারের দাবিতেও ছাত্ররাই আন্দোলন করছে।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট যদি মনে করে তারা নিষিদ্ধ করতে পারে। এটা তাদের ওপর। কিন্তু একবারে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা তো মিলিটারি ডিক্টেটরদের কথা। আসলে তারা এসে তো সব সময় পলিটিকস ব্যান, স্টুডেন্ট পলিটিক্স ব্যান তারাই করে গেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাত্র রাজনীতি থেকেই উঠে এসেছে। আমি ছাত্র রাজনীতি করেই কিন্তু এখানে এসেছি। কিন্তু আমাদের দেশের অসুবিধাটা হলো বারবার মিলিটারি রুলাররা এসেছে। আর এসে এসে মানুষের চরিত্র হরণ করে গেছে।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোর আবাসিক হলে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আ?ইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে আমি বলবÑ যখন এ ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে, দেখা গেছে ওখানে এক রুম নিয়ে বসে জমিদারি চালানো, প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা দরকার। কোথায় কী আছে না আছে খুঁজে বের করতে হবে। এ ধরনের কারা মাস্তানি করে বেড়ায়, কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সেটা দেখতে হবে। শুধু ঢাকা না, সারাদেশের প্রত্যেকটা জায়গায় সার্চ করা হবে।তিস্তা ও এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। তিস্তা ছাড়াও আরো সাতটি নদী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

ক্যাসিনো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জুয়াড়িদের উপহাস করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা ক্যাসিনো ও জুয়া খেলে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাদের কেউ কেউ হয়ত দেশ থেকে ভেগে গেছে। এখানে সেখানে খেলার জায়গা খোঁজাখুঁজি করছে। অভ্যাস যদি বদভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, এই বদভ্যাস যাবে না। তাদের একটা জায়গা ঠিক করে দেব। ভাসানচর খুব বড় জায়গা। ১০ লাখ লোকের বসতি দেয়া যাবে। তার একটা এলাকায় না হয় ক্যাসিনো বানাবে। এখন যারা লুকায় চুরায় এটা সেটা করে, তারা সেখানে গিয়ে খেলতে পারবেন। কারা কারা করতে চায় নীতিমালা তৈরি করে লাইসেন্স নিতে হবে। ট্যাক্স দিতে হবে। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। এতে আমরা ট্যাক্স পাব, টাকা পাব।