ঋণের বোঝা বইতে পারছিলেন না বায়েজিদ...

আগের সংবাদ

ভেতর থেকে তাগিদ না এলে লিখতে চাই না

পরের সংবাদ

দোহারের ছদ্মবেশ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১০, ২০১৯ , ৭:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ৭:০১ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

তবে দীনেশ এখন আর শ্রীধর কিংবা রণজয় অথবা পরিতোষের আলোচনার বিষয় নয়। বিষয়টা হলো : সরকার বদলের পর পরই দীনেশ কী কারও কাছে থেকে কথা আদায় করেছে যে, তাকে এখনই হরিসভা মন্দির তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। এ পাড়ার লোকজন সবাই ভেবেছিল এবারের দুর্গাপূজার পরে রসিকসহ সবার সঙ্গে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

পর্ব-৬: সে কথাও এখন উঠতে পারত। উঠতও, যদিও সে বিষয়ে আগে ফয়সালা হয়ে গেছে। সুনীল এসে যা বলার বলেছে একদিন পরিতোষকে। সেখানে রণজয়ের বিষয়টাও বাদ যায়নি। পরিতোষ সেদিনই বুঝতে পেরেছিল, হালদাররা এই সুযোগটা নেবে। হয়তো পরে জল আরও গড়াবে। সঞ্জয় কি ছেড়ে দেবে। এখনও ছাত্র মানুষ। চেনা পরিচয় অনেক। কচুয়ার ছাত্রনেতারা অনেকেই তার বন্ধু! তবে সে সবই ইলেকশনের আগের কিছু নয়। যা-ই ঘটুক পরে ঘটবে।
অজিয়র বলে, ‘শোনো স্বপন কা, যা গেছে গেছে। ওই দক্ষিণ দিকদে কেউ ক্যানভাস করাত আসলি বাধানো যাবে না। এই গ্রামের ছোট ছেলেপেলে আছে কিছু উলটোপালটা কথা কওয়ায় ওস্তাদ-’
‘কথা একটু ঘুরেছে। লালমোহন উঠে একটা বিড়ি ধরিয়ে হরিসভার দিকে গেছে। সম্ভবত সেখান থেকে তাকে ইশারায় অমলের ছোটভাই অচিন্ত্য ডেকেছে। হরিষতের বাড়িতে কাজ আছে, তাই সে চলে যাবে। যদিও বিষয়টা কোনোভাবেই তা নয়, এখান থেকে উঠে সে যাবে রসিকের দোকানে। এখানকার এই আসরে সে যেকোনো কারণেই হোক সেভাবে পাত্তা পেল না। হরষিত সব সময়ই নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। কোথায় কখনও কতটুকু থাকলে নিজের সামাজিক গুরুত্ব ঠিক থাকে তা মেপে চলে। আর আশেপাশে অনেকের তুলনায় সে বৈষয়িকভাবে সফল, সে হিসাবও তার থাকে। তবে ছোটভাই রিপনের বরং সে হিসাব বেশির ভাগ সময় থাকে না। ভাইটাকে বুঝিয়েও সে বাগে আনতে পারেনি। এমনকি হরষিত এখান থেকে উঠে যাওয়ার পরে যদি দেখে রিপন এই আড্ডার দিকে আসছে, হয়তো পথের মাঝখানেই সে রিপনকে বলবে, ওদিকে যাস না। কিন্তু তখন ঘটনা ঘটবে উলটো, রিপন তার কথা শুনবে না। একবার দুইবার এদিকে ওদিকে তাকাবে, একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে, তারপর হয়তো খালপাড়ের একচালার নিচে যে বেঞ্চিতে বসেছিল হরষিত, সেখানে এসে বসে পড়বে। এখন অবশ্য এসব কিছুই ঘটল না। হরষিত উঠে যাওয়ার পর পরই অজিয়রের দিকে তাকিয়ে পুলক বলে, ‘এডার কোনো বোধ হবে না জনমেও। খালি পারে কথা কইতে। ও ইলেকশনের বোঝে এইয়ে!’ পুলক বুড়ো আঙুল দেখা। স্বপন শব্দ করে হাসে, ‘আমি ওরে চিনি সবার চাইতে ভালো! যাক, সেইয়ে ওই অজিয়র ভাইপোর সামনে কব নামে-’
‘ক, ক’ শুনলি হবে কী?’ পুলক বলে।
‘না। ওয়া এহোন কব না-’ স্বপন হাসতে হাসতে বলে, ‘ও ব্যাটা শুনলি ভাববে কী?’ কত গল্প। ওর বাপ থাকলি ক’তাম। যাক, শোন ও অজি, ঘটনা তে সব শুনিচিস সঞ্জয়েরে নিয়ে। এহোন সেই ঘটনার জন্যি আমাগো গুষ্টির লোকজনের সাথে এই মল্লিকরা আর আত্মীয় হিসেবে হরষিতরা সব মিলেমিশে গেইচে। এহোন পরিতোষের ক্যাচাল ছাড়াতি তো সেই আমরা আমরাই-’
ধীরাজ বরং ব্যাপারটারে গোছায়। যদিও অজিয়র সবই জানে। তাদের বাড়ি থেকে এই হিন্দু বাড়িগুলোর মাঝে পগার ছাড়া আর তো কিছু নেই। খাওয়া ছাড়া বাদবাকি সকল যোগাযোগ তাদের ভিতরে সব সময়ই আছে। ফলে সঞ্জয় আর রচনার ঘটনা- সেইদিন হোক আর এক দুইদিন বাদেই হোক অজিয়র কিংবা তার বাপ অথবা অন্য যারা মোজাম জোনাব কিংবা ওমরদের বাড়ির লোকজনের কানে না যাওয়ার কোনো কারণ নেই। আর সেকথা জানার পরে সেখানকার কেউ হাসাহাসি করেনি তাও তো না। যেমন, সানপুকুরিয়া খাঁ কি ঘরামিরা, ওদিকে গোড়াখালের পাইক-মলঙ্গি কি মাতা কি রায়রা কেউ হাসাহাসি করেনি তাও তো না, একইভাবে সেখানেও এ নিয়ে কথা হয়েছে আবার মুসলমানপাড়ায় কথা হয়েছে। এর ভিতরে হবিই যা ব্যতিক্রম। হালদারদের সঙ্গে অনেকদিনের সম্পর্ক, সুনীল আর লালমোহনের সঙ্গে একত্রে ব্যবসা করেছে। সেই নৌকায় এই অজিয়রও গেছে। ফলে সেই বরং এই ঘটনায় অজিয়রের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমনকি অজিয়র একদিন কুচয়ায় এ নিয়ে সঞ্জয়ের সঙ্গে কথাও বলেছে। এখন আলাদা করে স্বপনের অজিয়রকে বলার কিছু নেই।
ধীরাজ তাই এই ঘটনায় একটা সুষ্ঠু সমাধান কী হতে পারে তা আলোচনা করে। কিন্তু এখন আলোচনার বিষয় সঞ্জয় ও রচনার সম্পর্ক নয়। বরং সেই ঘটনায় এই ইলেকশনের আগে যে চাপা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে তাই। ফলে পরিতোষ তাদের আলোচনার বিষয়। হরষিতের পরে সেও যখন উঠে গেছে। রসিকের দোকানে গিয়ে বসেছে। সেখানে স্বপনের জেঠাতদাদা অবিনাশ কিংবা রণজয় আর গোড়াখাল থেকে আসা দীনেশ কী বলে তাই শুনবে। তারপর সেই কথার জোরে কেষ্ট কিংবা কৃপাসিন্ধুকে বোঝাবে, বোঝাতে চেষ্টা করবে শ্রীধর বা গুণধরকে; এমনকি পার্বতী বা ছবিকেও বোঝাবে। তারপর একসময়ে এই মল্লিকবাড়ির প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলায় গিয়ে জানিয়ে আসবে তাদের বাড়ির ভোট কোন দিকে। তাতে তার এতদিনের দুর্নাম যদি কিছু ঘোচে। অথচ তার এ কাজ যে সে অন্য দলের সঙ্গেও করতে পারে, সে কথা অজিয়রও মনে করে। কারণ এমন কথা তো সে আজগরকেও বলেছে। যদিও তারা জানে, পরিতোষের এমন ওস্তাদি বেশি দিন হালে পানি পাবে না!
অজিয়র বলে, ‘বুঝলি পুলক, মানুষ যে কত বিচিত্র!’
‘হঁ।’
ধীরাজ বলে, ‘তয় আমাগে এই পরিতোষের চাইতেও বিচিত্র মানুষ আসলেই কম আছে।’
স্বপন বলে, ‘যাউক ইলেকশন, ওর এই বিচিত্রগিরি আমি ছুটোবো।’

৫.
নির্বাচনের দিন পনের বাদে একদুপুরে গোড়াখালের দীনেশ মলঙ্গি হরিসভা মন্দির পাকা করা নিয়ে হঠাৎ প্রস্তাব পেশ করে। এতদিন সুযোগ ছিল না, এখন সুযোগ এসেছে, এই সুযোগে শুরুতেই কাজটা গুছিয়ে উঠতে পারলে, এ নিয়ে এমপির সামনে কথা তোলা যাবে না।
এই প্রস্তাবের পিছনে দীনেশ মলঙ্গির যে অন্য ধান্দা তাও কেউ কেউ বোঝে। যেমন : শ্রীধর কিংবা পরিতোষ, স্বপন কিংবা হরষিত তো জানে, এটা এই সময়ে বলা মানে হলো, দীনেশের একটা চাল। জমি দেবে রসিক, সেই জমিতে হরিসভা মন্দির হবে। এখন যেখানে আছে সেই জমি রসিকের। কিন্তু সেখান থেকে সামনে আনলে একই পরিমাণ জমির দাম ধরে জমি বাবদ নতুন জমি দিতে কেষ্ট কিংবা তাদের জ্ঞাতি শ্রীধর আর যাদের জমি রাস্তার এই মল্লিক গুষ্টির রাঘব আর রথিনদের তো কোনো আপত্তি নেই। বরং, রাঘব-রথিনের জন্যে ভালো। গুণধরের ঘরের পরে তাদের ঘর। সেখান থেকে পিছনে দক্ষিণে একটু গেলেই এখনকার হরিসভার সীমানা। বরং এই ব্যবস্থা হলে তাদের এক দাগে জমি হয়। বাড়ির পিছনের দিকটা বাড়ে। দরকারে কোনোদিন সেখানে ঘরও তোলা যাবে। নাই-বা তুলল, দক্ষিণ দিকটা তবু পুরো খোলা, ওই দিকের রাস্তা বরাবর তাদের ঘরগুলোর সদরও তো এক সময় হতে পারে। তাদের বাপ বেঁচে নেই। একমাত্র বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তাদের মায়েরও পুরোপুরি সম্মতি আছে। যদিও এই দুই ভাই আয় রোজগারে একটু কাবু, বাপের চিকিৎসায় জমিও কিছু গেছে। ফলে এই সুযোগে তাদের বুদ্ধি দেওয়ার লোকেরও অভাব নেই।
যদিও রাঘবকে এই গুষ্টির কেউ কোনো উলটো বুদ্ধি দেবে না। রসিক তার বাপের খুড়োতো বড়োভাই, সে যা বলবে তাই। রথিন এতসব বুদ্ধি পরামর্শ শোনার লোক না। সে যা বুঝে বুঝেছে, তাকে বোঝাতে যাওয়াও বিপদ। রসিকের এই জমির বদলে সামনে থেকে জমি দিলে সবার ভালো। এটা সে বুঝেছে। আসলে সংসারের কোনো কিছু নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হয় না, তাই এমনতর বিষয় নিয়ে সে ভাবতে নারাজ। ইদানীং কোনো কাজের জন্যে সে খুলনা কি ঢাকা যেতে পারে কিনা এই চিন্তায় বিভোর। বুদ্ধি যদি কিছু দেওয়া যায়, তা রাঘবকে। রাঘব অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডা মাথার লোক, বোঝালে বোঝে। সেই রাঘবকে যে দীনেশ এইভাবে উলটা বুঝিয়ে প্রায় কব্জা করবে তা প্রায় কেউই বুঝতে পারে না। হয়তো তারও তলে তলে আরও কোনো ঘটনা আছে।
ঘটনা যে কিছু একটা আছে, প্রায় কোনো কিছুই না-থাকা শ্রীধর তা বুঝতে পারে। আর স্বার্থ না থাকলে দীনেশের মতন লোক যে অকারণে থুতুও ফেলে না, তাও জানা আছে তার। উপরে দীনেশ যতই বড়োলোকি চাল দেখাক, তলে তলে আস্ত ছোটলোক। সুদে টাকা লাগানো তার মূল কাজ। এনজিওগুলো আসার পরে তার সে দাপট খানিক কমেছে। আবার এনজিওর বিভিন্ন টালবাহানার সুযোগে কোনো জায়গায় দীনেশের খানিক লাভও হয়েছে। কিন্তু এই হরিসভা মন্দির নিয়ে দীনেশের স্বার্থের জায়গাটা অনেক আলোচনা করেও তারা বুঝতে পারেনি। আবার সেই আগের বার দীনেশদের বাড়িতে মিটিংয়ে যেভাবে কোনো সিদ্ধান্ত ও সমাধান ছাড়া যে আলোচনা হয়েছিল, তাতে এখনও কেউ কেউ এখনও মনে করতে পারে সেদিন দীনেশ কেন আর কোনো জোর প্যাঁচ খেলেছিল। আর সেই প্যাঁচে বাতাসে দেওয়ার লোকের অভাবও ছিল না। দীনেশের ছোটভাই অরুণেশ কিংবা খাঁবাড়ির সর্বজিৎ- এ ব্যাপারে তাকে পরামর্শ দিয়েছে। তবে দীনেশের সবচেয়ে বড়ো জোর ছিল তার জেঠাতোভাই অনিমেশ, সে সম্প্রতি চাকরিতে অবসর নিয়েছে। এখন দেশেও নেই। ছেলের কাছে বেড়াতে গেছে আমেরিকায়, সেখান থেকে কবে ফেরে কে জানে। দীনেশের বাবার কাছে চিঠিতে লিখেছে আমেরিকা থেকে মেয়েরা কাছে অস্ট্রেলিয়ায়ও যেতে পারে।
তবে দীনেশ এখন আর শ্রীধর কিংবা রণজয় অথবা পরিতোষের আলোচনার বিষয় নয়। বিষয়টা হলো : সরকার বদলের পর পরই দীনেশ কী কারও কাছে থেকে কথা আদায় করেছে যে, তাকে এখনই হরিসভা মন্দির তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠতে হবে। এ পাড়ার লোকজন সবাই ভেবেছিল এবারের দুর্গাপূজার পরে রসিকসহ সবার সঙ্গে বসে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। কিন্তু এখনই এমন তৎপরতা?
কোনো ঘটনার পিছনে লাগলে কোনো না কোনো সূত্র তো পাওয়াই যায়। কচুয়া বাজারে সুনীল এমন কথা বলেছে শ্রীধরকে। আর অন্য একদিন কৃপাসিন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে সুনীল ও শ্রীধর তার সঙ্গেও এই বিষয় নিয়ে আলাপ করেছে। সুনীল ভেবেছে, একদিন বাড়ি গেলে সে পার্বতীর কাছে জানতে চাবে তাকে দীনেশ কিছু বলেছে কিনা। সুনীলের কেন যেন মনে হয়, পার্বতীর এর পিছনে কোনো গুটি চালাচালির ব্যাপার থাকতে পারে। আর কাউকে চিনুক কি নাই চিনুক, সুনীল পার্বতীকে চেনে। শুধু চেনে না, ভালো ভাবেই চেনে। আর পার্বতীর সেই চোখ সে কোনোভাবেই ভুলতে পারে না, যখন সুনীলকে বলেছিল, ‘জমি দিয়ে বিয়ে মাড়াইচে তোমার দাদা (কেষ্ট, অর্থাৎ পার্বতীর শ্বশুর), এইয়ে কীভাবে ওই লেঙ্গি (সাবিত্রী) খায় সেয়া আমি দেইখে নেব।’ সুনীলে মতন মানুষ, যেকোনো মানুষের চোখের ভাষা যে একবার দেখলেই বুঝতে পারে, সেও ওই মুহূর্তে পার্বতীর বড়ো চোখের জ্বলুনি দেখে চমকে ছিল। তখন সুনীলের এও মনে হয়েছিল, কেষ্টদা সাবিত্রীকে বিয়ে করে না-জানি কী ভুলটাই না করল। এই-যে প্রথম পক্ষের পুতের বউ আর দ্বিতীয় পক্ষের শাশুড়ির বিরোধ- এ কাটানোর কোনো উপায় তো কারও জানা নেই। আর পার্বতী যে মানুষ! ওদিকে সাবিত্রী যে সিধা! মাঝখানে ফাপড়ে পড়বে কৃপাসিন্ধু!
সুনীলই খোঁজ নিতে বলেছিল শ্রীধরকে। ঘটনা কী? হঠাৎ এভাবে দীনেশ ফরকাল কেন? হরিসভা মন্দির কোন দিকে হবে, কখন হবে এ নিয়ে এপাড়ার মানুষেরই বহুদিনের মাথা ব্যথা! তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে গোড়াখালের সঙ্গে, এখনও দরকারেই তাই হবে, এর ভিতরে হঠাৎ তার এও উজানোর কারণ কী?
শ্রীধর পরিতোষকে বলেছে, সুনীলের কথা। এও বলেছে, সুনীল আর তার দুজনারই মনে হয়েছে, এই ঘটনার পিছনে পার্বতীর কোনো চাল আছে। অথবা পার্বতীকে দিয়ে ঘটনাটার ঘুঁটি উলটাতে চায়। যাতে একসময় রসিক বলে বসে, তোমরা এই নিয়ে কাইজ্জা করো সারাদিন, আমি দেব না আমার জমি! তখন হবে ভালো! সব যাবে।
অমলের দোকানের সামনে পরিতোষকে পেয়ে শ্রীধর ডাকে, ‘এ পরি, এট্টু শুনিস্ এদিক-।’
পরিতোষ বেশ ক্লান্ত, কাছে আসলে শ্রীধর বোঝে। মনে হয়, সানপুকুরিয়ার খাঁবাড়ির কাছে ঘরামি অথবা মণ্ডলবাড়িতে প্রাইভোট পড়িয়ে তারপর ভাসা রাস্তা হয়ে হেঁটে ফিরেছে। (চলবে)