ঐতিহ্য-অন্বেষার অদম্য পথিক

আগের সংবাদ

মাদক নির্মূলে ত্রিদেশীয় বৈঠক আহ্বান ভারতের

পরের সংবাদ

আবদুল করিমের জন্মবার্ষিকী

তার ভূমিকা ছিল আধুনিক ফোকলরবিদদের মতোই

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১০, ২০১৯ , ৭:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ

Avatar

মেধা, শ্রম, ঐকান্তিকতা, অনুসন্ধান ও আবিষ্কারে যিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অজানা অথচ অপরিহার্য ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন, তিনি মনীষী মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ। শুধুমাত্র প্রাচীন পুঁথিপত্র সংরক্ষণের জন্যে নয়, বাঙালি মুসলমানদের আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান এই গবেষকের ১৪৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে ‘সাহিত্যবিশারদের লোকসাহিত্য-চর্চা’ শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক নেহাল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

বাঙালি মুসলমানের মধ্যে লোকসাহিত্যচর্চায় সাহিত্যবিশারদ পথিকৃৎপ্রতিম এমন মন্তব্য করে একক বক্তা অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কেবল পুঁথি সংগ্রাহক ছিলেন না, লোকসাহিত্যচর্চায়ও তাঁর অবদান স্মরণযোগ্য। যদিও পুঁথি সংগ্রহ ও ইতিহাসচর্চার আড়ালে তাঁর এই দিকটি অনালোচিত থেকে গেছে।

তিনি বলেন, লোকভাষার শব্দগত বুৎপত্তি নির্ণয়, ছড়া-ধাঁধা-ব্রত-হেঁয়ালি ইত্যাদি সংগ্রহ, ব্যতিক্রমী বাউল গান উদ্ঘাটন এবং এ সমস্ত লোক-উপাদানের ব্যাখ্যা প্রদানে তার ভূমিকা আধুনিক ফোকলোরবিদের মতই। সামাজিক বিবর্তনের ফলে লোকসাহিত্যের আবেদন-হ্রস্বতা বা লুপ্ততার বিষয়টি তাকে পীড়া দিত। তিনি এর পেছনে ঔপনিবেশিক শাসনকে দায়ী করেছেন। প্রাচীন সাহিত্যের সংস্কার সাধনের বিপরীতে এর আদিরূপ অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষে তার মত ছিল স্পষ্ট এবং দৃঢ়।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি পুঁথি সংগ্রাহক এবং লোকসাহিত্যসহ বহু বিষয়ের গবেষক হিসেবে তাঁর অবদান যথাযোগ্য স্বীকৃতি লাভ করবে।

স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, রক্ষণশীল সামাজিক পরিবেশের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তার একজীবনের শ্রম ও সাধনায় বিপুলসংখ্যক পুঁথি সংগ্রহ করেছেন, পাঠোদ্ধার সম্পন্ন করেছেন। তার আবিষ্কৃত পুঁথিসমূহকে সঙ্গত কারণেই ‘মধ্যযুগের মুসলিম বাংলা সাহিত্যে প্রবেশপথের প্রদীপ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মাহবুবা রহমান।