অলঙ্ঘনীয় বাস্তবতার কথাও বলছে- ‘লঙ্কাবি যাত্রা’

আগের সংবাদ

দোহারের ছদ্মবেশ

পরের সংবাদ

ঋণের বোঝা বইতে পারছিলেন না বায়েজিদ…

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১০, ২০১৯ , ৭:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৯, ৭:১০ অপরাহ্ণ

Avatar

বায়েজিদ আহমেদ (৪৭) ব্যবসা করতেন। তবে নানা কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছিল। এ অবস্থায় তার মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী অঞ্জনা (৪০) আর একমাত্র ছেলে কলেজ পড়ুয়া ফারহানকে (১৭) হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে ৫ নম্বর সড়কের ১০/১ নম্বর বাড়ির তিনতলা বাসা থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারের পর এমনটাই ধারণা করছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানান, মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় বায়েজিদ অনেকদিন থেকেই বসরাজবাস করেন। তিনি ব্যবসার জন্য ব্যাংকসহ অনেক জায়গা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তবে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় সেই টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। সে কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঋণে ভারাক্রান্ত বায়েজিদ হতাশাগ্রস্ত হয়ে স্ত্রী সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আহমেদ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভেতর থেকে ঘরের দরজা আটকানো ছিল। বায়েজিদের লাশ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। আর বাকি দুইজনের লাশ ঘরের মধ্যে শোয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।

বায়েজিদের আত্মীয়-স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে ডিসি মাসুদ জানান, তিনি অনেক দিন ধরে ঋণগ্রস্ত ছিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না বলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানকে খাবারের সঙ্গে কিছু খাইয়ে হত্যা করে বায়েজিদ নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহের ময়নাতদন্তে জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারি কমিশনার খায়রুল আমীন জানান, স্বজনরা ফোন দিয়ে তাদের না পেয়ে বাসায় গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

ওই বাসায় একাধিক চিরকুট পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বায়েজিদ ব্যবসা করতেন। কিন্তু নানা কারণে ব্যবসায় লস হচ্ছিল। এ অবস্থায় তার মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। আমরা ধারণা করছি বুধবার রাতের কোনো একসময় স্ত্রী ও সন্তানকে খবারের সাথে কিছু মিশিয়ে হত্যা করে বায়েজিদ আত্মহত্যা করেন।