তামিম-রিয়াদ মুখোমুখি

আগের সংবাদ

আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় ছাত্রলীগ

পরের সংবাদ

মঞ্চে ‘ময়ূর সিংহাসন’

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৯, ২০১৯ , ১:১৪ অপরাহ্ণ

 আরণ্যক নাট্যদলের ৩২তম প্রযোজনা ‘ময়ূর সিংহাসন’ প্রথম মঞ্চে আসে ১৯৯৯ সালে। ষাটের দশকে জাগরিত জনতার গণতন্ত্রের দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা আর এরই বিপরীতে তৎকালীন সামরিক শাসকের ছড়িয়ে দেয়া সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প-এ নাটকটির ভিত্তি। বাংলাদেশ ছাড়াও নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে দেশের বাইরেও। ২০০৯ সালে নাটকটির ১০০তম মঞ্চায়ন হয়। মান্নান হীরার রচনায় নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন শাহ আলম দুলাল। অভিনয়ে মামুনুর রশীদ, মান্নান হীরা, শাহ আলম দুলাল, মোমেনা চৌধুরী, তমালিকা কর্মকার। দীর্ঘ বিরতির পর ফেরা আরণ্যকের দর্শকপ্রিয় এই নাটকটির ৩২তম প্রযোজনার প্রদর্শনী হলো গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতি মিলনায়তনে।

শারদীয় নাট্যসন্ধ্যায় সংলাপের ‘বোধ’ : শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গ্রুপ থিয়েটার আয়োজন করেছে ‘শারদীয় নাট্যসন্ধ্যা’। ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব মানুষের মধ্যে পরম শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস জাগ্রত হোক’ এই প্রত্যাশা নিয়ে প্রদর্শিত হলো সংলাপের ২৬তম প্রযোজনা ‘বোধ’ নাটকের বিশেষ প্রদর্শনী। মুন্সী প্রেমচাঁদের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘বোধ’-এর নাট্যরূপ দিয়েছেন স্বপন দাস এবং নির্দেশনায় রয়েছেন মোস্তফা হীরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শিত হয় সংলাপের ২৬তম প্রযোজনা।

নাটকে দেখা যাবে- একটি বোধহীন সমাজ ব্যবস্থায় আমরা বসবাস করছি। এ নাটকের ঘিসু ও মেধো এর বাইরে নয়। পিতা-পুত্র (ঘিসু ও মেধো) বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত। ক্ষুধা তাদের করে তুলেছে অমানবিক, স্বার্থপর পশুসম।বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সম্পর্কের বন্ধন কোনো কার্যকর ভ‚মিকা রাখে না তাদের জীবনে। তাই নাটকে দেখা যায় সামান্য কয়েকটি সেদ্ধ আলু নিয়ে পিতা-পুত্রের লড়াই। নিজের সন্তান সম্ভবা পুত্রবধূর অতিসামান্য খাদ্য কেড়ে নিতে ঘিসু উদ্বুদ্ধ করে পুত্র মেধোকে।

মেধোও বোধহীন এক জন্তুর মতো কেড়ে নেয় বধূর সেই সামান্য খাবার। ক্ষুধা তাদের এমনভাবে তাড়িত করে যে, নিজের পুত্রবধূকে মৃত ঘোষণা দিয়ে কিছু পয়সা পাবার লোভ সামলাতে পারে না ঘিসু। পুত্র মেধোও তা সমর্থন করে। যে কোনোভাবে বেঁচে থাকাটাই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। অথচ কেন তারা আজ দরিদ্র, কেন পাচ্ছে না দুমুঠো খাবার। এর জন্য এ সমাজ কতটা দায়ী। কেন তারা বৈষম্যের শিকার। এ নিয়ে ভাবে না তারা। কোনো দ্রোহ নেই। নিয়তির ওপর সব ছেড়ে দিয়েছে। এদের কি আর সম্পূর্ণ মানুষ বলা চলে? অবশ্য নাটকের শেষ দৃশ্যে স্বপ্নের ঘোরে ঘিসু-মেধোকে দ্রোহী হতে দেখা যায়। ঘেন্না করে এই সমাজ, সমাজপতিদের। মেধো তার সন্তানকে বোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এমনি জীবন কথনে গড়ে উঠেছে নাটক ‘বোধ’।

নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- হাবীবুর রহমান, মঈনুদ্দীন হাসান খোকন, হিমা মৃধা সোমা, শাকিল আহমেদ ও মাসুদ আলম বাবু। পলাশ হেন্ডরী সেনের মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় নাটকের পোশাক পরিকল্পনা করেছেন চিঠি হাবীব। রবিন বসাকের কোরিওগ্রাফিতে আলোক প্রক্ষেপণ ও আবহ সঙ্গীত প্রয়োগ করেছেন সেলিনা আক্তার প্রিয়া ও ওয়ালিদ আহমাদ চৌধুরী।