ফাহাদ হত্যার বিচার চেয়ে মোমবাতি মিছিল

আগের সংবাদ

লন্ডন গেলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি

পরের সংবাদ

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সচেতনতাও দরকার

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৯, ২০১৯ , ৭:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৭:৫০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

গতকাল থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে ইলিশের আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু জেলেরা এই নির্দেশ কতটুকু মানছে, সেটা দেখার বিষয়। দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন জায়গায় কারেন্ট জালের মাধ্যমে মা ইলিশ ধরছে জেলেরা। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সময়ে ৮০ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। আর এই ডিম পাড়ে মূলত মিঠা পানিতে। তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার চার দিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন মোট ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীর মোহনাসহ যেসব জেলা ও নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়, সেখানে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। প্রজনন মৌসুমে এই ডিমওয়ালা মাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই দরকার। মৎস্য বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী ইলিশের মূল উৎপাদন কেন্দ্র ছয়টি অভয়াশ্রম হচ্ছেÑ উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দী, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া পয়েন্ট, উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট, দক্ষিণ-পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী পয়েন্ট এবং বরিশালের আড়িয়াল খাঁ, নয়াভাঙ্গুনী ও কীর্তনখোলার আংশিক। ইলিশ অভয়াশ্রমের বেশিরভাগ চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলা সংলগ্ন নদ-নদীগুলো। তাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বরিশাল বিভাগ ও চাঁদপুর জেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ মাছ রক্ষা অবশ্যই জরুরি একটি পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপের প্রয়োজন রয়েছে। বিগত কোনো কোনো বছর প্রজনন মৌসুম যথাযথভাবে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গলদ থাকার ফলে সংরক্ষণের সময় পার হওয়ার পরও ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা মাছ ধরা পড়তে দেখা গেছে। প্রজনন সময়ে জেলেদের ইলিশ আহরণ থেকে পুরোপুরি বিরত রাখাও অতীতে কখনোই সম্ভব হয়নি। এ সময়ে জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করা হলে, তাদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। আমরা মনে করি, এই ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল দেশের উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ জেলের জন্য বিকল্প আয়ের বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা খুবই দরকার। এ ছাড়া দরকার এ ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরি করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করা। এখন প্রস্তুতিমূলক এ কাজগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা রক্ষার পদক্ষেপ পুরোপুরি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রুপালি ইলিশের সুদিন আমাদের হাতছাড়া হবে না। এর জন্য ইলিশ আহরণকারী, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সবার সচেতন ও সংযমী ভূমিকা প্রত্যাশিত।