ফাহাদ হত্যার বিচার দাবি

আগের সংবাদ

ফাহাদ হত্যার বিচার চেয়ে মোমবাতি মিছিল

পরের সংবাদ

‘লেখক শেখ হাসিনা’

অক্ষরে অক্ষরে তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৯, ২০১৯ , ৭:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৯, ৮:১৮ অপরাহ্ণ

Avatar

শেখ হাসিনা কোমল-স্নিগ্ধ-পেলব ভাষাভঙ্গিতে বয়ন করে চলেন তাঁর রচনার এক একটি অক্ষর; পরম মমতায়, সংগ্রামে ও সংকল্পে যেমন রচনা করে চলেছেন বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের সামষ্টিক অগ্রগতির সোনালি স্বপ্ন-অক্ষর। শেখ হাসিনা তাঁর রচনায় কঠিন কথাও বলেন অতি সহজ করে। মাটি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ মুদ্রিত রয়েছে তার অক্ষরে অক্ষরে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই লেখালেখিতে তার অসামান্য দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন।

একজন লেখক শেখ হাসিনাকে নিয়ে এভাবেই মূল্যায়ন করলেন বিশিষ্ট লেখক, কবি, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা শেখ হাসিনার লেখক সত্ত্বার দিক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষ্যে তাঁকে নিবেদিত স্বরচিত কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একাডেমি প্রাঙ্গণে শেখ হাসিনা রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

‘লেখক শেখ হাসিনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি কামাল চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল শেখ হাসিনার প্রথম বই ‘ওরা টোকাই কেন’। আজকের এ আলোচনা সে অর্থে শেখ হাসিনার লেখকজীবনের তিন দশক পূর্তিরও আনন্দ-উদযাপন। তিনি কোমল-স্নিগ্ধ-পেলব ভাষাভঙ্গিতে বয়ন করে চলেন তার রচনার এক একটি অক্ষর; পরম মমতায়, সংগ্রামে ও সংকল্পে যেমন রচনা করে চলেছেন দেশের কোটি কোটি মানুষের সামষ্টিক অগ্রগতির সোনালি স্বপ্ন-অক্ষর।

‘লেখক শেখ হাসিনা’ শীর্ষক প্রবন্ধে কবি কামাল চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার মনে সবসময় লেখকসত্তা প্রকাশের আর্তি জাগিয়ে রেখেছিল তার দেশ। তিনি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু তারও আগে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ পাঠক হিসেবে তাকে আমরা জানি তার স্মৃতিকথায়। সাহিত্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ ও অগ্রসর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এ দুয়ের মিলিত প্রকাশ শেখ হাসিনার লেখকসত্তা, সেই সঙ্গে তার সৃজন ও মননচর্চার অভিজ্ঞান।

কবি কামাল চৌধুরী আরো বলেন, শেখ হাসিনার লেখালেখিকে মোটা দাগে আত্মজৈবনিক স্মৃতিকথা আর রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক চিন্তা ও উন্নয়নদর্শন হিসেবে ভাগ করা যায়। প্রথমভাগে উঠে এসেছে তার গ্রাম-জীবন, শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, পারিবারিক জীবন, পিতার অম্লান স্মৃতিচারণ। অন্য অংশে মানবিক অঙ্গীকার, উপলব্ধির সততা আর প্রকাশভঙ্গির সারল্য একজন সফল রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রনায়কের পাশাপাশি তাকে পরিণত করেছে একজন দায়বদ্ধ লেখকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কে এম খালিদ বলেন, রাজীনিতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যতটা আলোচিত হয়েছেন লেখক শেখ হাসিনাও ঠিক ততটা আলোচনা পাওয়ার দাবিদার। বাংলার মানুষের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে নিরলস সংগ্রামের পাশাপাশি এদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণেও শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে চলেছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী আর তার নিজ রাজনৈতিক জীবনেও রয়েছে সাহিত্যের নিবিড় প্রভাব। আমাদের লেখক-সাহিত্যিক এবং সংস্কৃতিজনের যে কোনো প্রয়োজনে, দুর্যোগে তিনি পাশে দাঁড়ান।

ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি বলেন, শেখ হাসিনা তার রচনায় কঠিন কথাও সহজ করে বলেন। মাটি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ মুদ্রিত রয়েছে তার অক্ষরে অক্ষরে। জাতির পিতার মতোই শেখ হাসিনাও লেখালেখিতে তার অসামান্য দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ত্রিশ বছর আগে শেখ হাসিনার প্রথম গ্রন্থ ওরা ‘টোকই কেন’র ভূমিকা লিখেছিলাম। তখন ভাবিনি রাজনীতির প্রবল দাবি মিটিয়ে তিনি লেখালেখি অব্যাহত রাখতে পারবেন। কিন্তু আমাদের বিস্মিত করে দিয়ে রাজনীতির পাশাপাশি লেখালেখিতেও শেখ হাসিনা সমান সক্রিয়তার পরিচয় দিয়ে চলেছেন।

অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি রুবী রহমান, কবি মুহাম্মদ সামাদ। কবি মহাদেব সাহার কবিতা মো. শওকত আলী এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী আহ্কামউল্লাহ। শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা আবৃত্তি করেন ডালিয়া আহমেদ।

শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা রবীন্দ্রসংগীত ও খায়রুল আনাম শাকিল নজরুলগীতি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন। প্রদর্শনীটি চলবে আগামী মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত।