ইমরান খানকে বিমান থেকে নামিয়ে দিলেন সৌদি প্রিন্স

আগের সংবাদ

শোকের মাতমে রায়ডাঙ্গায় ফাহাদের দাফন

পরের সংবাদ

ফাহাদ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৮, ২০১৯ , ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১:৪৮ অপরাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (২১) হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা। ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে ছাত্র-শিক্ষকের সমাবেশ মিছিলে আবরারের হত্যাকারীদের সর্বচ্চো শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবিসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়।

আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের দাবিতে বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে ছাত্র-শিক্ষকের সমাবেশ

সোমবার (৭ অক্টোবর) হত্যার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পরে শিক্ষার্থীরা। তারা প্রভোস্টের অফিস কক্ষ ঘেরাও করে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার দাবী জানায়।

পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের কারও বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিবেদনে জানা যায় হত্যার সাথে ১১ ছাত্রলীগ নেতা জড়িত। পরে বুয়েট ছাত্রলীগের ১১ নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

এছারাও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবরার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও বিচারের দাবিতে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা।

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে

এর আগে, বুয়েট শেরেবাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহাদ বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ই লেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ১৭ ব্যাচের ছাত্র। তিনি শেরেবাংলা ছাত্র হোস্টেলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। হত্যার সাথে জড়িত আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে হত্যার পরে কোলে তার লাশ সিঁড়ি দিয়ে ২০১১ নম্বর রুমের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ফরেনসিক ভিভাগে পাঠানো হলে মারধরের কারণেই ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।

সোমবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে শেষবারের মতো বুয়েট ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয় ফাহাদের লাশ। জানাজার জন্য ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে নেয়া হয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। রাত ১০টার দিকে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। শেরেবাংলা হলসহ বুয়েটের অন্যান্য হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রাও জানাজায় অংশ নেন। এরপর লাশবাহী গাড়িতে করে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়ির পথে ফাহাদের লাশ নিয়ে রওনা দেন স্বজনরা। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রায়ডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে আবরারের দাফন সম্পন্ন করা হয়