মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি, ২ ছাত্রলীগ নেতা আটক

আগের সংবাদ

দেশের অর্থনীতিতে ইলিশের সম্ভাবনা

পরের সংবাদ

বেপরোয়া ছাত্রলীগ, অস্থির শিক্ষাঙ্গন

আবরার হত্যাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় নয়

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৮, ২০১৯ , ৯:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ৯:৫০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

ভিন্নমতাবলম্বী সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী এক শিক্ষার্থীকে। হতভাগ্যের নাম আবরার ফাহাদ। একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে ছাত্রশিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারী হিসেবে অভিযোগের আঙুল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। অমানবিক, পাশবিক- এমন ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ-মর্মাহত। আবরার তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। পুলিশ বলছে, আবরার হত্যায় জড়িত ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ। ওই ঘটনায় পুলিশ বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক একটি স্ট্যাটাস এবং শিবিরের নেতা সন্দেহে আবরারকে তারা নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বলে বলা হচ্ছে। আবরার শিবিরের কর্মী বা নেতা ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবরারের পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তবে আবরার মাঝেমধ্যে তাবলিগে যেতেন। ঘটনার পর থেকে বুয়েটে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে শেরেবাংলা হলে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও। ছাত্রলীগ নামধারীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অস্থির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, সরকারি সম্পদ ধ্বংসসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আদর্শিক এই ছাত্র সংগঠনটি। অতিসম্প্রতি চাঁদাবাজি আর নির্মাণকাজ থেকে কমিশন দাবিসহ নানা অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাদ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় স্পষ্ট যে, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের রাশ টানতে পারছে না ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও অভিভাবক রাজনৈতিক দল। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি নিষ্ঠুর ও নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ছাত্রলীগের নাম। ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ছাত্রলীগের নিজেদের কোন্দলে নিহত হন ৩৯ জন। আর এই সময়ে ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ হারান অন্য সংগঠনের ১৫ জন। এমতাবস্থায় সরকারের অনেক ইতিবাচক অর্জন ও সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে ছাত্রলীগের দুষ্কর্ম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনুষ্ঠানে তাদের সতর্ক করেছেন। কিন্তু ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড তাতে সাময়িক থামলেও বন্ধ হয়নি। এ থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে, এর কোনো উত্তর নেই তাদের কাছে। আমরা মনে করি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারীদের সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ করতে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে; অভিভাবক রাজনৈতিক দলকে। অপরাধীর পরিচয় যাই হোক তাকে ছাড় দেয়া যাবে না- এটা যে কথার কথা নয় তার প্রমাণ দিতে হবে নিজেদের পদক্ষেপে। সরকারকেও তার ভাবমূর্তির স্বার্থেই শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস মোকাবেলায় কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনোভাবেই তাদের ছাড় দেয়া যাবে না। খুনিরা উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে- এমন দৃষ্টান্ত দেখতে চাই।