ভিন্নমত বলে মেরে ফেলবে?

আগের সংবাদ

উৎপল দত্তের ঠিকানা

পরের সংবাদ

শিল্পকলায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বহিপীর

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৭, ২০১৯ , ৫:৫৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৯, ৬:০০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন শিক্ষা জীবনের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়, তা প্রশ্নবিদ্ধ। আজও শিক্ষা সৌন্দর্যহীন, অজ্ঞ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ জীবনে চলে আসছে জরাজীর্ণ পুঁথির জ্ঞানকে আঁকড়ে। জীবনের আনন্দ, জীবনের সৌন্দর্য সেখানে অনুপস্থিত। জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন সেই শিক্ষাব্যবস্থার চিত্রটিই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ মেলে ধরেছিলেন তার লেখা বহিপীর নাটকে। বিশ শতকের সূচনা রচিত নাটকটির মঞ্চরূপ দিয়েছে ঢাকা থিয়েটার মঞ্চ। আফরিন হুদা তোড়ার নিদের্শিত নাটদ্যলটির গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মুল মিলনায়তনে নাটকটির প্রদর্শনী হয়।

বাস্তববাদী ধারার নাটক হলেও এ নাটকে প্রচ্ছন্নভাবে জীবন বাস্তবতার নানা অসঙ্গতির চিত্র বিদ্যমান। গ্রামীণ জীবনে ‘পীর’ প্রথার নামে আষ্টেপৃষ্ঠে মিশে আছে ভন্ডামি ও অন্তঃসারশূন্যতা। মুসলিম দীক্ষাগুরু হিসেবে পীর অবশ্যই গুরুত্ববহ। কিন্তু পীরত্বের নামে অশিক্ষা-কুশিক্ষা কিংবা জীবনবর্জিত আচার কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। এ নাটকের মূল চরিত্র পীর সব সময় বইয়ের ভাষায় কথা বলেন। এ জন্য তাকে ‘বহিপীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নাটকের সংলাপে তার মুখে শোনা যায় সাধু ভাষা। নাটকের কাহিনীতে দেখা যায়, জমিদার হাশেম আলি সূর্যাস্ত আইনে জমিদারি হারাতে বসেছেন; যা রক্ষা করতে বজরায় করে স্ত্রী খোদেজা ও পুত্র হাশেমকে নিয়ে রওনা হন তিনি। পথে তাদের বজরায় ঠাঁই পায় সদ্য বিবাহিত তরুণী তাহেরা ও বৃদ্ধ বহিপীর। দীর্ঘদিনের মুরিদানার গুরুদক্ষিণার রূপক যেন তাহেরা। বহিপীর যখন তার স্ত্রীকে উদ্ধারে রত ঠিক তখনই জীবন সচেতন হাশেম যে কোন মূল্যেই পীরের কাছ থেকে তাহেরাকে রক্ষা করতে চায়। জমিদারের স্ত্রী যেন চিরায়ত মুসলিম বাঙালি নারীর চিন্তার প্রকাশ। তাহেরা কার আশ্রিতা হবে তাই নিয়ে চিন্তা যখন চূড়ান্তে পৌঁছায় তখন অন্যদিকে জমিদার তার জমিদারি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। পীর সচেতনতার সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে স্ত্রীর চুক্তিপত্র রচনা করেন। আশ্রিত তাহেরা কাউকেই খুশি করতে পারে না। তাহেরা পরবর্তীতে কি করবে তা নিয়েই এগিয়ে যায় ঘটনাপ্রবাহ। গ্রামীণ জীবনে পীর প্রথার নামে ভন্ডামি এবং অশিক্ষা-কুশিক্ষা ও জীবনবর্জিত আচার-আচরণ তুলে ধরা হয়েছে নাটকে।

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারহাদুল আমিন, নূরুল আলম, সাফায়েত দুর্জয়, আফরিন হুদা তোড়া, অরনিকা শ্রাবণী অথৈ ও শরিফুল ইসলাম।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা