কিউইদের উড়িয়ে সিরিজ জিতল যুবারা

আগের সংবাদ

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর ওপর লেখা উপন্যাস নিয়ে প্রাণবন্ত আড্ডা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৭, ২০১৯ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৯, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

Avatar

অগ্নিকন্যা’, ‘অগ্নিমানুষ’ ও ‘অগ্নিপুরুষ’ ইতিহাসভিত্তিক এই তিনটি উপন্যাস রচনা করেছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল। তিন উপন্যাসেই বর্ণিত হয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের সময়কাল। তাতে অবধারিতভাবেই উপস্থিত হয়েছিলেন একজন মানুষ। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত এ তিন উপন্যাসকে এক সুতোয় গেঁথে প্রাণবন্ত এক আড্ডায় হাজির হয়েছিলেন সাহিত্যিকরা। যার মধ্যমণিতে ছিলেন জনপ্রিয় লেখক ও কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। আলোচক ছিলেন কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান এবং লেখক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবিন আহসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজী নুসরাত শারমীন। গতকাল রবিবার রাজধানীর সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের ড. আসমা চৌধুরী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ বই আড্ডার আয়োজন করে শ্রাবণ প্রকাশনী। সহযোগিতায় রয়েছে ঢাকা ইনিশিয়েটিভ। আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ।

কে এম খালিদ বলেন, ব্যস্ততার জন্য খুব বেশি পড়ার সময় পাই না। তারপরও যখনই সময় পাই, তখন পড়ার চেষ্টা করি। মোস্তফা কামালের লেখা আমি মন দিয়ে পড়েছি। তার রচনা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তিনি ইতিহাসের সত্য ঘটনাকে উপস্থাপনের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। উপন্যাসের আলোয় মেলে ধরেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

সেলিনা হোসেন বলেন, এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বড় কোনো ইতিহাস বই পাঠ না করে, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের উপন্যাস তিনটি পড়ে ইতিহাস জানতে পারবে। এরপর তারা নিজেদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে জেনে নিতে পারবে। তাদের কাছে নতুন দিক উন্মোচন করবে। ইতিহাস পাঠ করার পাশাপাশি ইতিহাসের মানুষকে জানতে পারবে। সময়ের চিত্রকে উপন্যাসে চিত্রিত করা বড় কারিগরের কাজ। সে কাজটি মোস্তফা কামাল করেছেন। মোস্তফা কামাল বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে লেখালেখি শুরু করলেও নিয়মিত লেখালেখি করি ১৯৯১ সাল থেকে। আমি প্রতিদিন লেখি। এটা আমার কাছে প্রার্থনার মতো। বড় একটি কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। আমি ১৮ বছর টানা ইতিহাসভিত্তিক বই পড়া শুরু করি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আমাদের জাতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর এ অধ্যায়ের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, আমি ইতিহাসের বইকে কঙ্কাল বলি। লেখকরা সেই কঙ্কালে জীবন দান করেন। আমি সেই চেষ্টা করেছি। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সময় তিনটি উপন্যাসগুলোর মূল চরিত্র। ইতিহাসের মূল লক্ষ্য সত্যনিষ্ঠতা। এটা উপন্যাসে তুলে ধরা কঠিন কাজ। যেসব চরিত্রকে কখনো দেখিনি, সেসব চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। বই পড়ে চরিত্রগুলোকে আত্মস্থ করার চেষ্টা করেছি। আমি ইতিহাস ও চরিত্রকে ঠিক রেখে লেখার চেষ্টা করেছি। সবাইকে ইতিহাস পড়ানো সম্ভব না। গল্পের মাধ্যমে ইতিহাস বললে, অনেক মানুষকে পড়ানো সম্ভব। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নিজের তাগিদ থেকে এ বইগুলো লেখেছি।

কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বলেন, মোস্তফা কামাল বড় সাংবাদিক হয়েও এত মোটা মোটা বই লিখছেন এটা বিস্ময়কর। এ কারণে তাকে শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক দায় রয়েছে, যা মোস্তফা কামাল নিজের লেখায় বাস্তবায়ন করেছেন। আমরা ইতিহাস বিচ্যুতি জাতি। সে জন্য এ ধরনের ইতিহাস আশ্রিত বই জাতির কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস তিনটিতে মোস্তফা কামাল যে সময়কে তুলে ধরেছেন, সে সময়ের মানুষের মনোজগৎ পাঠ করেছেন, যা বিরল। ফলে ইতিহাস পাঠ করা পাঠকের কাছে এটি ভিন্ন স্বাদ দিচ্ছে। এই বইগুলো ইতিহাস পাঠ না করা পাঠককে ইতিহাস পাঠের স্বাদ দেবে। তিনি সফলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে ইতিহাসকে তুলে এনেছেন। এতটাই বস্তুনিষ্ঠ ছিল যে, ইতিহাসের চরিত্রেরও নামও পরিবর্তন করেননি।

রবিন আহসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৪০টি বই নিয়ে বই আড্ডার আয়োজন করেছি। এর জন্য আমরা শ্রাবণ বইগাড়ি নিয়ে শহরে শহরে ঘুরে ফিরছি। ১৫ দিন পর বই আড্ডার আয়োজন করা হবে। আড্ডায় দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত হলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা মোস্তফা কামালের উপন্যাস নিয়ে আড্ডা ও আলোচনা।

বই আড্ডা শেষে ছিল বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি। আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ, নাজমুল আহসান, জাহান বশির, মাহফুজ আহসান, মাসুদুজ্জামান, মাসুম আজিজুল বাসার, আবু নাসের মানিক, নাঈমা রুম্মান, লিজা চৌধুরী, পলি পারভীন, ফারজানা ইসলাম, আহমেদ মাসুম ও শ্রাবণী আক্তার।