শুভজনের বর্ষপূর্তি উদযাপন

আগের সংবাদ

আবরার হত্যা: ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানে আবুল মকসুদ

বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস শত্রুও রচনা করতে পারবে না

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৭, ২০১৯ , ৯:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

Avatar

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস তার ঘোরতর শত্রুও রচনা করতে পারবে না এমন মন্তব্য করে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আবুল মকসুদ বলেছেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে বিভিন্নস্থানে যাতায়াতের সুযোগ পেয়েছি। তাকে অনেক কাছে থেকে দেখেছি। তার জীবন কাহিনী শতাব্দীর পর শতাব্দী লিখিত হবে, বিচার বিশ্লেষণ করা হবে। কখনো তিনি নন্দিত হবেন, কখনো হবেন সমালেচিত। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস তার ঘোরতর শত্রুও রচনা করতে পারবে না।

শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পকলা একাডেমির নিয়মিত ও ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে সোমবার (৭ অক্টোবর) একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয় এই বক্তৃতানুষ্ঠান। এতে আরো বক্তৃতা করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে আবুল মকসুদ বলেন, এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য লিখিত দলিল। এই গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু যা লিখে গেছেন, তা সত্যিই বাস্তব। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। মানুষকে ভালোবেসেছেন, তাদের সম্মান দিয়েছেন। তার সবথেকে বড় উদাহরণ ৭ মার্চের ভাষণ।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের নতুন ভবন পরিদর্শনে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু রামপুরাস্থ টিভি ভবনে গেলেন। অভ্যর্থনাকারীদের সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তরুণ প্রযোজক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাকে দেখে বঙ্গবন্ধু জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি, তোমাদের নাটক কেমন চলছে?’ সে সময় প্রমথ কর ও সেন্সরশিপের আইন কড়াকড়িভাবে প্রয়োগ করার ফলে ঢাকার নিয়মিত নাট্য চর্চা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

মামুন জবাব দিল, আপনি তো নাটক বন্ধ করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু কারণ জানতে চাইলে মামুন দুটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। পাশে দাঁড়ানো অর্থমন্ত্রী ড. এ আর মল্লিককে ডেকে বঙ্গবন্ধু বললেন ‘কি মল্লিক সাহেব ‘নাটকের লোকদের কাছ থেকে টাকা না নিলে কি আমার সরকার চলবে না?’ বঙ্গবন্ধু পরদিনই মামুনকে তার সঙ্গে দেখা করতে বললেন। আমি আর মামুন গণভবনে গিয়ে হাজির হলাম। তখন রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সচিব ফরাস উদ্দিনকে ডেকে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আজই রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করে দাও, যে এখন থেকে সৌখিন নাট্যদলগুলোকে কোন প্রমথ কর দিতে হবে না এবং সেন্সর পুলিশের বদলে সেন্সর কমিটির মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক মঞ্চায়ন হবে।

মন্ত্রণালয়ে পাঠালে জটিলতা হবে ভেবে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কথা বললেন। তারপরই নাটকের উপর থেকে প্রমথ কর উঠে গেল এবং সেন্সরের দিক থেকে নাটক সহজতর হলো। এরপর আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা ২০০০ সালে নাটক সেন্সর আইন পুরোপুরি বাতিল করেন।