বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে মোবাইল আউটফিটারস

আগের সংবাদ

উৎসবের সার্বজনীনতা

পরের সংবাদ

টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৭, ২০১৯ , ৯:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৯, ৬:১৬ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

‘বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার উদ্ভাবনী কৌশল হিসেবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল বিশ্ববসতি দিবস পালিত হয়েছে। কিন্তু দেশে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগে তেমন কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বর্জ্যকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যবস্থাপনা করে সম্পদে রূপান্তরের বেশ কয়েকটি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে থাকলেও তাতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতিও নেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন হাল বিশ্বে বসবাসের অনুপযোগী শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকাকে দ্বিতীয় অবস্থানে রাখার পেছনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে। রাজধানী ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ন প্রক্রিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা। এসব অবকাঠামোর জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্জ্য নিষ্কাশনের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা নেই। ফলে অসংখ্য মানুষের বাসগৃহ থেকে প্রচুর পরিমাণ গৃহস্থালি বর্জ্য প্রতিদিন এখানে-সেখানে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে এবং তা পচে-গলে বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। জানা গেছে, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে দৈনিক প্রায় ১০ হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। আরো প্রায় ২০ শতাংশ বর্জ্যই সংগ্রহ করতে পারে না সিটি করপোরেশনগুলো। এমনকি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বাদে বাকি ১০ সিটি করপোরেশন এলাকায় বছরে উৎপাদিত ৩২ লাখ ৮৫ হাজার টন বর্জ্যও প্রক্রিয়াজাত না করেই ফেলা হয় উন্মুক্ত স্থানে। এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে ফেলার মতো অবকাঠামো আমরা এখনো গড়ে তুলতে পারিনি। উৎপাদিত বর্জ্যরে ৮০ ভাগ সংগ্রহ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে দেখতে পাওয়া যায় বিপরীত চিত্র, যদিও কয়েক বছর ধরে কুরবানির বর্জ্য অপসারণে সফলতার বিষয়টি অনস্বীকার্য। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও তা সম্পদে রূপান্তর করতে বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহী বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পৃথকভাবে দুটি প্রকল্প জমাও দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি কি তা আমাদের জানা নেই। সঠিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে রয়েছে। নীতিগত দিক দিয়ে বিবেচনা করলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট কোনো আইনও বর্তমানে তেমন কার্যকর নয়। যদি কুরবানির বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনার মতো এগুলোর পর্যায়ক্রমিক ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে নগর কর্তৃপক্ষ এখনই জোরালো নজর না দেয়, তাহলে এমন একসময় আসবে, যখন প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন হুমকিতে পড়বে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলেও আমাদের এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করতে হবে। এ অবস্থায় টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে আইনি কাঠামো ও বিধিমালা তৈরি জরুরি।