লঙ্কা মাতাচ্ছেন মুমিনুল

আগের সংবাদ

সম্রাটকে নিয়ে অভিযানে তার কার্যালয়ে র‍্যাব

পরের সংবাদ

সাইত্রিশে মাশরাফি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৬, ২০১৯ , ১:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ১:২২ অপরাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্মদিন উপলক্ষে নড়াইলে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে শহরের আলাদাতপুর এলাকায় মাশরাফি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মাশরাফি ফাউন্ডেশনের সভাপতি মারুফ হাসানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর গোলাম মর্তুজা স্বপন ও হামিদা বেগম বলাকার ছেলে মাশরাফি বিন মুর্তজা নড়াইল শহরের আলাদাতপুরে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারসহ নড়াইলবাসির কাছে কৌশিক নামেই পরিচিত বিশ্ববাসীর চেনা মাশরাফি। যদিও মাশরাফি তার জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকতা, উৎসব আয়োজনে অনাগ্রাহী। ঘটা করে পালন করা হয় না তার জন্মদিন। বহুবার বিভিন্নভাবে কারণটাও জানিয়েছেন তিনি। প্রথম জন্মদিনের সময় ছিলেন নানাবাড়িতে। ওই সময় ধুমধাম করে দিনটি উদযাপন করেছিলেন তার মা, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নানা তার মাকে ডেকে বলেছিলেন, ধর তোমার ছেলে যদি ৭০ বছর বাঁচে, তাহলে ওর বয়স কমছে না বাড়ছে? মা মাথা নিচু করে বলেছিলেন কমছে। নানা তখন বলেছিলেন, তাহলে এভাবে উৎসব না করে গরিব-দুঃখীদের খাওয়াতে পার, নফল নামাজ পড়তে পার। এরপর পরিবার থেকে আর কখনো মাশরাফির জন্মদিন পালন করা হয়নি। বড় হয়ে মাশরাফিও তার মায়ের ভাবনার বিপরীতে যাননি।

তবে মাশরাফি তার জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে গেলেও ভক্ত-সমর্থকরা চুপ করে থাকেন না। এই দিনে তাই জন্মদিনের রাশি রাশি শুভেচ্ছায় কেটে যায় মাশরাফির দিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন ভক্ত ও সতীর্থরা। আর এতিম ও দুঃখী মানুষের মাঝে খাবার, টাকা-পয়সা দেয়ার মধ্য দিয়ে মাশরাফির জন্মদিন পালন করা হয়। মাশরাফির জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আনন্দ র‌্যালি, কেক কাটার আয়োজন করা হলেও এসব কর্মসূচি পালন না করার জন্য অনুরোধ জানান মাশরাফি বিন মুর্তজা।

এ দেশের ক্রিকেটকে অন্যতম এক স্তম্ভে পৌঁছে দেয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের দাবিদার যে মানুষগুলো তাদের মধ্যে অন্যতম একজন মাশরাফি। ডাক নাম কৌশিক হলেও ম্যাশ, সুপারম্যাশ, নড়াইল এক্সপ্রেস, পাগলা, গুরু… এমন হরেক নামেই ভক্তকুলের কাছে পরিচিত তিনি। গতকাল ৩৬ ছাড়িয়ে ৩৭ এ পা দিয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের সফল অধিনায়ক মাশরাফি।

শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও এক অনুকরণীয় ব্যক্তি ম্যাশ। পেয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা। মাশরাফির মতো একজন অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক হয়তো সহজেই পাওয়া যাবে না। যখন ক্রিকেটে এসেছিলেন তখন থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন লাল-সবুজের জার্সিতে নুয়ে পড়ার জন্য আসেননি তিনি। ক্রিকেটের টানে, ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার টানে অনেকবার ডাক্তারের ছুরির নিচে গিয়েও যে আবার মাঠে ফিরেছেন, পা হারানোর ঝুঁকি নিয়ে খেলেছেন, বিশ্বের আর কোনো ক্রিকেটার বোধহয় এমনটা করেননি। নিষিদ্ধ ঘোষিত আইসিএল আর বাজিকরদের থেকে কাড়ি কাড়ি টাকার লোভ যিনি এক নিমিষেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। হাজারো ক্রিকেট ভক্তের ভালোবাসা নিয়ে, হাজারো তরুণ ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা হয়ে শত বছর বেঁচে থাকুক আমাদের মাশরাফি।

বিষয়: