সম্রাটের শান্তিনগর-মহাখালীর বাসায় র‌্যাবের অভিযান

আগের সংবাদ

চাঁদপুরে বজ্রপাতে একই পরিবারের ৪ জন নিহত

পরের সংবাদ

মো. গোলাম ফারুক

‘বাংলাপে’ পরিশোধ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৬, ২০১৯ , ৪:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ৫:২৩ অপরাহ্ণ

Avatar

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক ‘সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল ব্যাংকটি যাত্রা শুরু করে। সে হিসাবে ব্যাংকটি ষষ্ঠ বছর শেষে সপ্তম বছরে পদার্পণ করেছে। আর্থিক খাতের নানান সংকটের মধ্যেও ব্যাংকটি সাফল্য, জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আর এই সফলতার পেছনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. গোলাম ফারুকের মেধাবী নেতৃত্বের অবদান সর্বজনবিদিত। এ ব্যাংকে যোগদানের পূর্বে তিনি রাষ্ট্রীয় খাতের জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। ভোরের কাগজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি ব্যাংকিং খাত ও এসবিএসির নানা বিষয় তুলে ধরেছেন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মরিয়ম সেঁজুতি

ভোরের কাগজ: দেশের অর্থনীতিতে এসবিএসি ব্যাংক কীভাবে ভূমিকা রাখছে?
গোলাম ফারুক: যে কোনো ব্যাংকের প্রধান কাজ হলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আমানত একত্রিত করে পরিকল্পিত বিনিয়োগে খাটানোর ব্যবস্থা করা। এসবিএসি ব্যাংকও জনগণের কাছ থেকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে অর্থ সংগ্রহ বিনিয়োগকে বেগবান করছে। আমরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছি। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিনাজামানতে ঋণ নিশ্চিত করেছি।

ভোরের কাগজ: আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আপনার ব্যাংক কীভাবে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে?
গোলাম ফারুক: চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে প্রথম দিন থেকেই এসবিএসি ব্যাংক ব্যবহার করে আসছে বিশ্বমানের প্রযুক্তি। আমাদের রয়েছে রিয়েল টাইম অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাসহ এটিএম, ইএমভি চিপসংযুক্ত ডেবিট কার্ড, লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড, ই-কমার্স সুবিধা। ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট, ট্রান্সজেকশন অ্যালার্টসহ রয়েছে আমদানি-রপ্তানির সব সুবিধা।

আমরা সর্বশেষ অ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট সার্ভিস ‘বাংলাপে’ চালু করেছি। যা পরিশোধ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। এই অ্যাপের মাধ্যমে অতিসহজে যে কোনো ব্যাংকের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বিকাশ ওয়ালেটে টাকা স্থানান্তর, মোবাইল রিচার্জসহ ডিজিটাল সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন।

ভোরের কাগজ: আপনার ব্যাংকের আর্থিক সূচকে অগ্রগতি কেমন?
গোলাম ফারুক: কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো করতে হলে তার অ্যাসেট কোয়ালিটি (গুণমানসম্পন্ন সম্পদ) ভালো থাকতে হবে। সেজন্য আর্থিক সূচকে একটি ধারাবাহিক উন্নতি থাকা প্রয়োজন। এসবিএসি ব্যাংক ২০১৮ সালে ২০৩ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ কোটি টাকা। এটাকে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বলা যায়। ২০১৯ সালের জুন শেষে এসবিএসি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩০৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময় শেষে ছিল পাঁচ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালের জুন শেষে ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।

ভোরের কাগজ: ব্যাংকিং খাতের মূল সমস্যা খেলাপি ঋণ, এ ব্যাপারে আপনার ব্যাংকের পরিস্থিতি কী?
গোলাম ফারুক: পুরো ব্যাংকিং খাত যেখানে খেলাপি ঋণে জর্জরিত, তখন আমাদের খেলাপি ঋণ অনেক কম। আমি মনে করি, এ ব্যাংকের বড় সাফল্য হলো, আমাদের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ২.৬১ শতাংশ। এটা সম্ভব হয়েছে, ব্যাংকের নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর, ঋণ দেয়ার আগে আমরা ঋণঝুঁকির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিই। প্রতি মাসে আমরা মনিটরিং সেল নিয়ে বৈঠক করি, শীর্ষ নির্বাহীদের ব্যাংকের শাখা পরামর্শক নিয়োগ করা আছে, যারা নিয়মিত রিপোর্ট করছে।

ভোরের কাগজ: আপনার ব্যাংকের স্থিতিশীল আর্থিক সূচকের কারণ কী?
গোলাম ফারুক: আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে, একইসঙ্গে ঋণ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা সতর্কতার সঙ্গে এগিয়েছি। যাতে করে ঋণ-আমানতের হার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থাকে। আমরা বরাবরই আগ্রাসী ব্যাংকিং পরিহার করেছি। সম্পদের মান খারাপ হয়ে গেলে খেলাপির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ব্যাংকের সম্পদের মান বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।

ভোরের কাগজ: সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার নামিয়ে আনতে পারছেন কী?
গোলাম ফারুক: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর এসবিএসি ব্যাংক পর্যায়ক্রমে সুদহার কমিয়ে আনছে। আমরা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় গ্রাহকদের শ্রেণিবিন্যাস করে প্রথমে ভালো গ্রাহকদের সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ নিশ্চিত করেছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭ শতাংশে ঋণ দিয়েছি, কৃষি ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট রয়েছে।

ভোরের কাগজ: নতুন ব্যাংকগুলো বৈদেশিক বাণিজ্যে পিছিয়ে রয়েছে, এ ব্যাপারে আপনাদের অবস্থান কেমন?
গোলাম ফারুক: নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোকে শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। উন্নত দেশের ব্যাংকগুলো যথাযথ কমিটমেন্ট চায়, আমরা ইতোমধ্যে নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের সঙ্গে বিশ্বের ১৮৭টি ব্যাংকের সঙ্গে করেসপন্ডিং রয়েছে।

ভোরের কাগজ: নতুন ব্যাংকগুলো উদ্ভাবনী কোনো পণ্য বাজারে আনতে পারছে না কেন?
গোলাম ফারুক: চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলো অনুমোদনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু শর্তারোপ করে দেয়। তার প্রতিটি নির্দেশনা এসবিএসি ব্যাংক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিপালন করে আসছে। আমরা শাখা খোলার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরে ১:১ অনুপাত মেনে চলেছি। কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের একটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা রয়েছে।গ্রাহকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমরা সম্প্রতি ডিজিটাল ওয়ালেট সেবা ‘বাংলাপে’ চালু করেছি।