টেকনাফে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার বিজিবির

আগের সংবাদ

বাংলাদেশ দূতাবাস ও ব্রিটেনে বাংলা গণমাধ্যম

পরের সংবাদ

সরকারের শুদ্ধি অভিযান

দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তমুক্ত হোক দেশ

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৬, ২০১৯ , ৭:৪৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে গতকাল শনিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) একই সঙ্গে তার সহযোগী ক্যাসিনো আরমানকেও গ্রেপ্তার করেছে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই চলমান অভিযান দেশের সর্বত্রই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়। দল ও অঙ্গ সংগঠনের ভেতরে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দেয়ার পর রাজধানীতে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়ালেও দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতি জনসমর্থন যেমন বেড়েছে, তেমনি শেখ হাসিনার প্রতি জনশ্রদ্ধাবোধ আরো গাঢ় হচ্ছে। এই অভিযান চলমান রাখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের চারদিনের মাথায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ওইদিনই রাজধানীর ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের ক্যাসিনোয় অভিযান চালানোর পাশাপাশি গুলশান থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর নিকেতনে নিজের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগ নেতা জি কে শামীমকে। যুবলীগের এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়। রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, এরা সরকারি দলের সুবিধাভোগী। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তাদের সঙ্গে লিয়াজোঁ রেখে অপরাধ করে থাকে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই ক্লাবের কমিটিতে যুবলীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা অন্তর্ভুক্ত হন। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগে হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েছে। কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের হাত ধরে অনেকে নৌকায় উঠেছেন। এদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে নাশকতা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ মাদক মামলা। এমন বাস্তবতায় শুদ্ধি অভিযানের পথে হাঁটছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। অভিযানের পর অপকর্মের সঙ্গে জড়িত যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। অনেক নেতা এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। র‌্যাবের অভিযানে ক্ষমতাসীন দল বা সহযোগী সংগঠনের ক’জন নেতা গ্রেপ্তার হলেন, কটি ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ হলো, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এর পেছনের অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিষয়টি এখন আলোচনায় এসেছে। অপরাধ সমাজের সর্বস্তরে, সর্বত্র বিস্তৃত। প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক দল ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, শিল্প-ব্যবসা-ব্যাংকিং থেকে নিয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অপরাধের জগৎ এখন বিস্তৃত। ফরিদপুরে বালিশ কাণ্ড এবং চট্টগ্রামে পর্দা কাণ্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে লুটপাটের খবর বেরিয়ে আসছে। আমরা মনে করি, সবক্ষেত্রে এই অভিযান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন কাজের নামে একশ্রেণির অসাধু রাজনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে যে অশুভ চক্র তৈরি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দলে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড, বহিরাগত এবং দখল-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত নেতাদের চিহ্নিত করে সংগঠন পুনর্গঠনের সময় এসেছে বলে মনে করছি।