টেকসই উন্নয়নে একত্রে কাজ করবে ডিএনসিসি ও ম্যানচেস্টার

আগের সংবাদ

শারদীয় নাট্যমঞ্চে দুই নাটক মঞ্চস্থ

পরের সংবাদ

শান্তনু বিশ্বাসের ‘স্মৃতির শহরে’

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৫, ২০১৯ , ৭:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ৭:৫০ অপরাহ্ণ

Avatar

বহুরৈখিক নিভৃতচারী শিল্পী ছিলেন শান্তনু বিশ্বাস। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তিনি ছিলেন কনিষ্ঠতম শিল্পী। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাটক লেখা, অভিনয় ও নির্দেশনা শুরু করেন। ১৯৭৬ সালের দিকে চট্টগ্রামে শান্তনু বিশ্বাস আরো কয়েকজন নাট্যকর্মীসহ অঙ্গন থিয়েটার গড়ে তোলেন। ‘কালো গোলাপের দেশ’ তাঁর লেখা প্রথম নাটক। মঞ্চেও দেখা গেছে শুরু থেকে। ‘অঙ্গন’ এবং ‘গণায়ন’-এ অভিনয় করে তিনি ওই সময়ে সাড়া ফেলেছিলেন। তিনি নাটকের নির্দেশনা আবহও তৈরি করেন তৃতীয় নাটক ‘নবজন্ম’-তে।

মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিন্ন আঙ্গিকে লেখা তাঁর নাটক ‘ইনফরমার’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। মৌলিক নাটকের পাশাপাশি অনুবাদ বা রূপান্তরেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। লিখতেন গানও। যে গান যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতাকে কথা-সুরে সাজিয়ে গান বানাতেন শান্তনু বিশ্বাস। তার গানে উঠে আসতো মানুষ, মানবতা, চলমান জীবনের আনন্দ-বিষাদের নানা দিক। যার ফলে অন্য অনেকের গানের ভীড়ে শান্তনুর গান চিহ্নিত করা যায় আলাদাভাবে।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় শান্তনু বিশ্বাসের গানের বই ‘গানের কবিতা- খোলাপিঠ’। ২০০৭ সালে শান্তনু বিশ্বাসের কথা ও সুরে এটিএন মিউজিক থেকে একটি সংকলন বের হয় যেটিতে কণ্ঠ দেন শিল্পী সুবীর নন্দী ও কলকাতার ইন্দ্রাণী সেন। ২০০৮ সালে ইমপ্রেস অডিও ভিশন থেকে শান্তনুর লেখা সুরে শিল্পী অরুনিমা ইসলাম ও নিজের গাওয়া যৌথ সংকলন বের হয়। ২০০৯ সালে জি সিরিজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অগ্নিবীণা বের করে শান্তনু ও শিল্পী বাপ্পা মজুমদারের যৌথ অ্যালবাম। ২০১২ সালে বের হয় একক সংকলন ‘পোস্টম্যান’ ও ২০১৪ তে ‘খড়কুটো’।

গুণী এই শিল্পী প্রয়াত হয়েছেন গেল জুলাইতে। তবে তার অসামান্য সৃষ্টিকর্ম রেখে গেছেন সবার জন্য। তার সৃষ্টি করা ৮টি গান নিয়ে সাজানো হয়েছে একটি সংকলন। সেই অ্যালবামের নাম দেয়া হয়েছে ‘স্মৃতির শহরে’।

শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকালে জি সিরিজের অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করা হলো। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীত তারকা বাপ্পা মজুমদার, অ্যাক্টিভিস্ট সাগর লোহানী, জি-সিরিজ কর্ণধার নাজমুল হক ভুইয়া প্রমুখ।

‘স্মৃতির শহরে’ সংকলনের সঙ্গীত আয়োজন করেছেন সুদীপ্ত সাহা। এর প্রতিটি গানই শান্তনু বিশ্বাসের লেখা ও সুর করা। আর গেয়েছেনও তিনি নিজেই।

এই সংকলন মূলত ভালোবাসার গানেই তৈরি করা হয়েছে। ভালোবাসা নিয়ে শান্তনু বিশ্বাসের মন্তব্য ছিল এরকম- ‘ভালোবাসা, এই বোধ ও অনুভবের একটা অবাধ উন্মোচন হয়তো থাকে। যৌথজীবনের শুরুটা একটা অন্তঃশায়ী টান থেকে জন্ম নেয় যেখানে আগুনে বা অসুখে দু’জনকে পুড়তে হয় পোড়ার সমুজ্জ্বল আনন্দে।’

‘স্মৃতির শহরে’ সংকলনে রয়েছে- ‘স্মৃতির শহরে’, ‘সময়ের চাকাটা’, ‘আমার সকাল বেলার পাখি’, ‘কৃষ্ণকলি’, ‘এমন দিনে তারে’, ‘ঢেউ তোলো’, ‘দেখছি আর ভাবছি’ ও ‘বললে আমি যাই’ গানগুলো।

শান্তনু বিশ্বাসের জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামে সেন্ট প্লাসিড স্কুলে। সেখানকার শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কনিষ্ঠ শিল্পী হিসেবে তিনি গান গেয়েছেন।

সঙ্গীত ও নাটকের প্রতি শান্তনুর আগ্রহ স্কুল জীবন থেকেই। নিভৃতে কাজ করে যাওয়া শান্তনু বিশ্বাস নাটকের সাথে গানেও জড়িয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। এক এক করে গানের মোট সাতটি অ্যালবামে তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন। গান রচনা, সুরারোপ করা এবং সেই গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এবং দেশে-বিদেশে বহুবার তিনি মঞ্চে উঠেছেন নিজের গানকে সঙ্গে করে।

চলতি বছরের ১২ জুলাই শান্তনু বিশ্বাস প্রয়াত হন এবং তার ইচ্ছে অনুযায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তার মরণোত্তর দেহদানের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়।