‘কাজ হচ্ছে’ বললেও উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়

আগের সংবাদ

শিক্ষকদের কষ্টের ‘অষ্টপ্রহর’

পরের সংবাদ

পাকিস্তানে ফের সেনা-অভ্যুত্থান!

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৫, ২০১৯ , ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

Avatar

জাতিসংঘে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে বিশ^নেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মসনদ ‘হাওয়ায় দুলছে’, এমন দাবি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের। তারা বলছে, ইমরান খানকে ছাড়াই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কমর জাবেদ বাজওয়া দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর এ ‘বিশেষ হাওয়া’ অনুভূত হচ্ছে। পাকিস্তানের ইতিহাসে সেনা-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের জন্য কুখ্যাত ১১১ ইনফ্যানট্রি ব্রিগেডের ছুটি বাতিলের পর এ ধরনের গুঞ্জন আরো বেশি ডালপালা মেলেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইমরান খান যোগ দিয়ে আসার পর গত বুধবার পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান বাজওয়া। এ ধরনের বৈঠক যদিও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহে ‘স্বাভাবিক নয়’, কিন্তু সভার বিষয়টি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি দিয়েই জানিয়ে দেয় সংবাদমাধ্যমে। বৈঠকের শিরোনাম ছিল ‘ইন্টারপ্লে অব ইকোনমি এন্ড সিকিউরিটি’ (অর্থনীতি ও নিরাপত্তার পারস্পরিক কার্যক্রম)।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সেনাপ্রধান বাজওয়া বলেন, পাকিস্তানের জোরদারকৃত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিবেশ বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিসর বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সেনা-অভ্যুত্থানের শঙ্কার পালে সবচেয়ে বেশি হাওয়া লেগেছে ১১১ ব্রিগেডের ছুটি বাতিল হওয়ার পর। ছড়িয়ে পড়া এক টুইটে দাবি করা হয়, ১১১ ব্রিগেডের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইস্কান্দার মির্জার নির্বাচিত সরকার উৎখাত করতে জেনারেল আইয়ুব খান, জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সরাতে জেনারেল জিয়া-উল-হক এবং নওয়াজ শরিফের সরকারকে উৎখাত করতে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ যে সেনা-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিলেন, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিল এই ব্রিগেডই।

১১১ ব্রিগেডের সদরদপ্তর রাওয়ালপিন্ডিতে। ব্রিগেডটির বিপজ্জনক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে আনাস মালিক নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী বলেন, অভ্যুত্থান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাত করতে এবং বেসামরিক নেতৃত্বকে আটক করতে ভয়ঙ্কর এক ব্রিগেড ১১১ ব্যবহার করা হয়। ভারতশাসিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদায় সংবিধানে সংরক্ষিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ সম্প্রতি নয়াদিল্লি বাতিল করে দেয়ার পর এ বিষয়ে সরব হন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিন্তু তার সরকারের ভ‚মিকা ভারতকে চাপে ফেলতে যথেষ্ট হয়নি বলে মনে করেন পাকিস্তানিদের একাংশ। যদিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও ইমরান এ নিয়ে কথা বলেছেন। গত বৃহস্পতিবারই সেনাপ্রধান বাজওয়া তার বাহিনীর কোর কমান্ডারদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি কাশ্মিরকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ‘ঘাড়ের শিরা’ উল্লেখ করে বলেন, ভারতের যে কোনো ‘মিসঅ্যাডভেঞ্চার’ এর মোক্ষম জবাব দেবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশের সম্মান, মর্যাদা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা যে কোনো মূল্যে সুরক্ষায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী বাহিনীর প্রধান জেনারেল বাজওয়া দেশটির জাতীয় উন্নয়ন পরিষদেরও সদস্য। অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধনে যথাযথ নীতি প্রণয়নে ২০১৮ সালের জুনে গঠিত এ পরিষদে আরো রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান, প্রভাবশালী কিছু মন্ত্রী, প্রদেশগুলোর মুখ্যমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। ইমরান খানকে সেনাবাহিনীর ‘সমর্থিত’ প্রধানমন্ত্রী বলা হলেও এ বছরের মে মাসে খবর ছড়ায়, ইমরান ও সেনাপ্রধান বাজওয়ার সম্পর্ক খুব ভালো যাচ্ছে না। জুনে বাজওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা’ নিয়েও কথা বলেন। যদিও পরে আগস্টে সেনাপ্রধান পদে বাজওয়ার মেয়াদ আরো তিন বছর বাড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেনাবাহিনীর এই ‘রহস্যজনক’ আচরণের মধ্যেই বৃহস্পতিবার কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজল ঘোষণা দেয়, তারা ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘আজাদি মার্চ’ করবে। তবে এই মার্চ কবে করবে, তা তারা এখনো ঘোষণা দেয়নি।