জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজোর প্রতীমা

আগের সংবাদ

রমনা কালী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা

পরের সংবাদ

বইয়ের সমাদর বিন্দুমাত্র কমেনি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ৪, ২০১৯ , ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৯, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য উন্নতির কারণে অনেকে মনে করছে যে মূদ্রিত বই পত্রের ভবিষ্যত বোধহয় ভাল নয়। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখাগেছে ই বুক প্রকৃতির যান্ত্রিক বই-পত্র ছড়িয়ে পড়লেও মূদ্রিত গ্রন্থের প্রতি আকর্ষণ কিছুই কমেনি। ই-বুক মূদ্রিত বইকে বাজার থেকে উধাও করবে এরকম মনে করারও কোন কারণ নেই। নতুন প্রজন্ম এই বইমেলা থেকে উৎসাহিত হবে, বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং বই পড়ার অভ্যেস ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে এই আশা করা যায়। আমি মনেকরি আপনারা যদি নিয়মিত এই বইমেলার আয়োজন করেন, এর পরিসর বাড়বে, এটি বিস্তৃত হয়ে বই প্রেমিকদের চাহিদা পূরণ করবে’।

রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন হলে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে দুই দিনব্যাপী ‘রাওয়া বইমেলা-২০১৯’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এসব কথা বলেন ।

ষষ্ঠ বারের মত রাওয়া ক্লাব আয়োজিত এ বইমেলায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী ও ঢাকা মার্কেন্টাইল কো অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এম আবু জাফর চৌধুরী পিএসসি (অব:)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাওয়া চেয়ারম্যান মেজর খন্দকার নূরুল আফসার (অব:)। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ বি সিদ্দিকী(অব:)। মেম্বার লাইব্রেরির মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন্সের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন কর্ণেল খালেদা খানম।

আনিসুজ্জামান আরো বলেন, দুই দিনব্যাপী বই মেলার যে আয়োজন রাওয়া করেছে তার জন্য তাদের আমি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় বই মেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। এই গ্রন্থমেলার পরিসর প্রতিবছর বাড়ছে, বই বিক্রির পরিমান বাড়ছে, প্রকাশকের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলা একাডেমির বই মেলার বাইরেও প্রকাশকরা একক বা যৌথভাবে নানা সময়ে বই মেলার আয়োজন করে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরে বই মেলার নানা রকম আয়োজন দেখা যায়। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে বইয়ের সমাদর বিন্দুমাত্র কমেনি এবং ই বুক মূদ্রিত বইকে বাজার থেকে উধাও করবে এ রকম মনে করার কোন কারণ নেই।

কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আমরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে একুশে বইমেলাকে জারিত করি, প্রসারিত করি, বত্রিশ কোটি বাংলা ভাষাভাষী পৃথিবীতে বসবাসরত বাঙালির কাছে। বাংলা ভাষা আজ পৃথিবীতে ষষ্ঠতম ভাষা হিসেবে অগ্রগন্য। এই বইমেলা সেই ভাষা প্রকাশের একটি অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম ক্রমশ বই থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ বি সিদ্দিকী অব: বলেন, রাওয়া সৃষ্টির সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে সাহিত্য পত্র বা পত্রিকা বিভিন্নভাবে কখনও মাসিক কখনও ত্রৈমাসিক কখনও বছরে তিনটা প্রকাশ করে আসছে। এর মাধ্যমে আমাদের ভেতর থেকে অনেকেই তাদের সৃজনশীল ক্ষমতাকে প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছে।

রাওয়া চেয়ারম্যান মেজর খন্দকার নূরুল আফসার অব: বলেন, রাওয়া আয়োজিত এই বই মেলায় মূলত আমাদের যে লেখক লেখিকা, আমাদের সন্তান-সন্ততি যারা আছেন তারা তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করার উদ্দেশ্যে যে বই লেখেন তা প্রকাশ করার জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়। আপনার মনের ভাবকে হৃদয়ে প্রবেশ করাতে হলে বইয়ের বিকল্প নেই।

আলোচনা শেষে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী ও গ্রুপ ক্যাপ্টেন এম আবু জাফর চৌধুরীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন রাওয়া চেয়ারম্যান। এরপর ফারিয়া রুমি ও কর্ণেল শাহাদাৎ, এটিএম নজরুল ইসলাম ও কর্ণেল মোহাম্মদ শাহ্ জাহান মোল্লার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অথিতিরা।

মেলায় ৫০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা লেখকদের অন্য ১০টি খ্যাতনামা প্রকাশনীর স্টল রয়েছে। মেলা আজ শনিবার পর্যন্ত চলবে এবং সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত।