শিল্পকলায় ‘মহাত্মা’

আগের সংবাদ

‘কবিরাজ’র বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

পরের সংবাদ

সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধুর পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচিত হয়নি

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২, ২০১৯ , ৯:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯, ৯:০৩ অপরাহ্ণ

Avatar

সাতচল্লিশের আগে দেশভাগের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু সেই পাকিস্তান সম্পর্কে তার মোহভঙ্গ হতে ছয় মাসও লাগেনি এমন মন্তব্য করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, এর মধ্যে ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ওই সময়ে বঙ্গবন্ধু গোপনে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুত করছিলেন। এ প্রস্তুতি ছাড়া বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসে স্বাধীন হতো না। কিন্তু এই সময়কাল এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা আমরা কিভাবে দেখবো তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। আমি মনে করি এ কারণেই এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধুর পুর্ণাঙ্গ কোন জীবনী লেখা হয়নি।

বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর স্মারক বক্তৃতা’য় তিনি এ কথা বলেন। একই আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধুর পরিবেশ/প্রতিবেশ সচেতনতা : অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচার প্রতিবেশ-সমালোচনা’ শিরোনামে স্মারক বক্তৃত্বা দেন নাট্যকার অধ্যাপক আবদুস সেলিম।

শাহরিয়ার কবির বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বঙ্গবন্ধুর জীবনের এ সময়কাল নিয়ে আমি তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছি। এই তথ্যগুলো সবই ওরাল হিস্ট্রি, কোনো লিখিত তথ্য নেই। আবদুর রাজ্জাক ও কাজী আরেফ আহমেদ তারা দু’জনই আমাকে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৬১ সালে তারা ছাত্রলীগের ভেতরে নিউক্লিয়াস গঠন করেছিলেন। প্রথমে তিনজনের মধ্যে এটা সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর তারা ধীরে ধীরে খুব গোপনে প্রস্তুতিটা গ্রহণ করেছেন। একটা রাষ্ট্র ভাঙ্গার কথা হচ্ছে। সেটা নিশ্চয়ই সবাইকে জানিয়ে হবার নয়।

শাহরিয়ার কবির বলেন, পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশে আগে শুরু করেও ফিলিস্তিন স্বাধীনতার জন্য লড়ছে। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র নয়মাসে স্বাধীন হয়েছে। এর পেছনে বঙ্গবন্ধুর একটি পূর্ব প্রস্তুতি ছিলো।

আগরতলা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে আগরতলা মামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর সঙ্গে সম্পৃক্তরা এখনও কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। তাদের মাত্র কয়েকজনই বেঁচে আছেন। তাদের কেন আমরা স্বাধীনতা পদক দেবো না?

তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষের মানুষেরা দুই ভাবে দেখে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ ইতিহাস রচনা করতে হবে। যা করতে গিয়ে সত্য ও মিথ্যা উভয় ধরণের তথ্য মিলবে। সেখান থেকে সত্য তথ্যটাই বেছে নিতে হবে। এখানে নিরপেক্ষ থাকার কোন সুযোগ নেই। বিএনপিপন্থী অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখেছেন। সেসব ইতিহাস বাংলাদেশকে ৪৭-এ ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে লিখেছেন।