ক্যাসিনো আতঙ্কে বিএনপি

আগের সংবাদ

সেফুদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পরের সংবাদ

নদনদীর পানি বাড়ছে ফের বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২, ২০১৯ , ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

Avatar

গত কয়েকদিন ধরে গঙ্গা, পদ্মা অববাহিকার উভয় অংশে নিম্নচাপে অতিবৃষ্টির ফলে নতুন করে পানির উচ্চতা বাড়ছে এবং সে কারণেই উজানে ভারতের বিভিন্ন জেলায় ও ভাটিতে বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আশ্বিনের মাঝামাঝিতে এসে মৌসুমি বায়ুর শেষে প্রায় প্রতিদিনই সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নদীর পানি বেড়ে যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তার মূল কারণ অতিবর্ষণ, ফারাক্কা বাঁধ নয়।

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি এবং উজানে পানি বাড়ায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে পদ্মা অববাহিকার রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর অঞ্চলে স্বল্পকালীন বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়া দেশের প্রায় সব প্রধান নদনদীর পানির সমতলই বাড়ছে। পদ্মা নদীর পানি মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল। আর কুষ্টিয়ার কামারখালী পয়েন্টে গড়াইয়ে বইছিল বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।

গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বাড়ার এই প্রবণতা আগামী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও ভাগ্যক‚ল পয়েন্টে পদ্মার পানি সমতল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বন্যার এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় অংশের ফারাক্কা বাঁধের কোনো প্রভাব নেই। এই মৌসুমে ভারত অংশের ফারাক্কা বাঁধের গেটগুলো খোলাই থাকে। এই সময় নদী যে আচরণ করে তা খুবই স্বাভাবিক আচরণ।

তিনি বলেন, গত জুলাই মাসের বন্যাও হয়েছিল ভারি বৃষ্টির কারণে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে এখন একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন আমাদের দেশে যে পানিটা আসছে সেটা বৃষ্টিপাতের কারণে। ভারি বৃষ্টির কারণে ভারতের বিহারের পাশাপাশি পশ্চিমঙ্গের কিছু এলাকাতেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে আরিফুজ্জামান বলেন, ভাটির দেশ হওয়ায় সেই পানিটা অবশ্যই আমাদের অংশের নদনদী দিয়ে প্রবাহিত হবে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে আমাদের মধ্যাঞ্চল হয়ে পানিটা নেমে যাবে। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

প্রসঙ্গত, এবার ভরা বর্ষায় জুলাই মাসে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জসহ ২৮টি জেলা প্লাবিত হয়। বন্যায় শতাধিকের মৃত্যুর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩০ লাখের বেশি মানুষ।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৬ বছর পর বিপদসীমা অতিক্রম করল পদ্মার পানি : ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিপদসীমা অতিক্রম করল পদ্মার পানি। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড হাইড্রোলজি বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২টি ইউনিয়নে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত : চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে বিপদসীমার ওপরে পদ্মার পানি : রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট, মিজানপুর, খানগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।