পাথর তুলেই শত কোটি টাকা

আগের সংবাদ

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে স্থবির জাবি

পরের সংবাদ

অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ রেনিটিডিন

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২, ২০১৯ , ১২:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৯, ১২:১২ অপরাহ্ণ

Avatar

সাময়িক নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে রেনিটিডিন। ঔষধ প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত রেনিটিডিন ট্যাবলেট বাজার থেকে তুলে নেয়নি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঔষধ প্রশাসনের দায়সারা মনোভাবের জন্যই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি জেনেও বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে রেনিটিডিন। আর ওষুধ ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা বলছেন, সব কোম্পানির নয়, কালো তালিকাভুক্ত ভারতের সারাকা ও ডক্টর রেড্ডি নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি রেনিটিডিন ট্যাবলেট বিক্রিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঔষধ প্রশাসন। এ ছাড়া অন্য কোম্পানির কাঁচামালে তৈরি ওষুধ বিক্রিতে বাধা নেই।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক গবেষণায় এই ওষুধের মধ্যে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকার কথা জানিয়েছেন গবেষকরা। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজার থেকে ওষুধটি তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্রিটিশ কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে)। যার প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশেও। জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রবিবার বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। বৈঠকে দেশের বাজারে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অভিযুক্ত সারাকা ও ডক্টর রেড্ডি ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে কাঁচামাল নিয়ে যারা রেনিটিডিন তৈরি করছেন সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের দেশে অনেক আইন, নীতিমালা ও নির্দেশনা আছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন নেই। ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ এই ওষুধটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আমাদের দেশেও এই ওষুধ বিক্রি, কালো তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির কাঁচামাল দিয়ে তৈরি রেনিটিডিন বিক্রিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এই সুযোগটা নিচ্ছে কিছু অবৈধ ব্যবসায়ী। তারা বলছে, কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানির কাঁচামাল দিয়ে তারা ওষুধ প্রস্তুত করেনি। তাই ওষুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এটি কোনো যুক্তি হতে পারে না। আমি মনে করি, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ‘ক্যাসিনোর মতো’-এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা দরকার। নির্দেশ অমান্য করে যারাই এই ওষুধ বাজারে রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
যেসব ফার্মেসিতে এখনো রেনিটিডিন বিক্রি হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. রুহুল আমিন ভোরের কাগজকে বলেন, জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেনিটিডিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় তাদের উৎপাদিত ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছে। আমাদের কাজ চলছে। একটু তো সময় লাগবে।
এ বিষয়ে হাডসন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির (বিএপিআই) মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের দেশে কিন্তু রেনিটিড পুরোপুরি নয়, সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কালো তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানি ছাড়া অন্য কোম্পানির কাঁচামালে তৈরি ওষুধ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা নেই। বিভিন্ন কোম্পানি কিন্তু স্ব-উদ্যোগে তাদের পণ্য বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। এখানে জোরাজুরির কোনো সুযোগ নেই।