জি কে শামীমের টাকার খোঁজে একাধিক সংস্থা

আগের সংবাদ

বিয়ে রুখে স্বপ্নজয়ের পথে হাঁটছে সাহসী কিশোরীরা

পরের সংবাদ

টকটকে লাল হ্রদে পানি ছুঁলেই পাথর!

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯ , ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

Avatar

টকটকে লাল হ্রদের পানিতে নামলেই ‘পাথর’ হয়ে যাচ্ছে নাকি পশুপাখি! সত্যিই কি এমন ক্ষমতা রয়েছে হ্রদের? দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার উত্তরে এই লবণাক্ত হ্রদটির নাম নেট্রন। সাড়ে ১২০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদের মধ্যে এসে পড়ছে ওয়াসো নায়েগ্রো নদীর পানি। আশপাশের বেশ কয়েকটি উষ্ণ প্লাবনের পানিও এসে পড়ছে এতে, ফলে বিভিন্ন ধরনের খনিজে অতি সমৃদ্ধ এ হ্রদটির পানি। ২০১১ সালে নিক ব্রান্ডট নামে এক বন্যপ্রাণীর আলোকচিত্রী এই হ্রদের সামনে এসে চমকে ওঠেন। হ্রদের চারপাশের তীরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে অসংখ্য পশুপাখির মরদেহ। দেখে মনে হচ্ছিল সবই পাথরের মূর্তি সাজিয়ে রাখা, বলেন ব্রান্ডট। রহস্য জানতে শুরু হয় গবেষণা। সূত্র আনন্দবাজার।
জানা যায়, সোডিয়াম কার্বোনেট এবং সোডার পরিমাণ অত্যধিক বেশি এই হ্রদের পানিতে। বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম এবং কার্বোনেটযুক্ত ট্রাকাইট লাভা দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ বছর আগে প্লাইসটোসিন যুগে গড়ে ওঠে নেট্রন হ্রদের তলদেশ।
পরীক্ষায় দেখা যায়, হ্রদের পানির পিএইচ মাত্রা ১০ দশমিক ৫, যার অর্থ অত্যধিক ক্ষারধর্মী। এ পরিমাণ ক্ষার ত্বক পুড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে যা পশুপাখির জন্য অসহনীয়। বছরের বেশির ভাগ সময় হ্রদের পানির তাপমাত্রা থাকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দ্রুত বাষ্প হয়ে উড়ে যায় এর পানি। নিচে পড়ে থাকে তরল লাভা। সোডিয়াম ও কার্বোনেট থাকার কারণে এই হ্রদে জন্ম নেয় সায়োনোব্যাকটেরিয়া নামের অনুজীব। এই অনুজীবের শরীরে লাল রঞ্জক থাকে। ফলে হ্রদের পানির রঙ হয় রক্তিমবর্ণ। রঙের আকর্ষণেই আকৃষ্ট হয়ে পশুপাখি এ হ্রদে নামে। কিন্তু পানি অতিরিক্ত ক্ষারীয় হওয়ায় মারা যায় সেগুলো।
নেট্রনের পানি ক্ষারধর্মী হলেও এই হ্রদই পূর্ব আফ্রিকার লেসার ফ্লেমিঙ্গোদের সবচেয়ে বড় প্রজনন ক্ষেত্র। কমবেশি প্রায় ২৫ লাখ লেসার ফ্লেমিঙ্গোর বিচরণ রয়েছে এই হ্রদে। কারণ হ্রদের অগভীর পানিতে মেলে প্রচুর নীলাভ-সবুজ শৈবাল। এই শৈবাল খেয়েই তারা বেঁচে থাকে এবং বংশবৃদ্ধি করে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, হ্রদের ক্ষারধর্মী বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে এসব ফ্লেমিঙ্গো, ফলে নেট্রন হ্রদের পানিতে ফ্লেমিঙ্গোদের কোনো জমাট দেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি আজো।