কামরাঙ্গীরচরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু

আগের সংবাদ

চসিক নির্মাণ সামগ্রী পর্যবেক্ষণ পরীক্ষাগার উদ্বোধন

পরের সংবাদ

বঙ্গমাতার নামে প্রতিষ্ঠান নির্মাণেও দুর্নীতি, ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ , ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ জেলায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে চক্ষু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট নির্মাণে ১ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ৯৬৫ টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল। খোদ প্রধানমন্ত্রীর মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে চক্ষু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আওতায় চারতলা ভবন নির্মাণে এ দুর্নীতি তথ্য সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত হলে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন কমিটির সকলেই। এ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় ও প্রধান প্রকৌশলী সুপারিশ করলেও অডিট বিভাগ তাতে নারাজি দেয় বলে জানা গেছে।

আজ রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১২তম বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ২০১১-১২ আর্থিক বছরের নিরীক্ষায় এ দুর্নীতি ধরা পড়ে বলে জানা গেছে।

কমিটির সভাপতি রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, আফছারুল আমীন, শহীদুজ্জামান সরকার, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, আহসানুল ইসলাম (টিটু), মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, ওয়াসিকা আয়েশা খান, জাহিদুর রহমান অংশ নেন।
এ বিষয়ে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ জেলায় প্রতিষ্ঠান নির্মাণও দুর্নীতির বাইরে নয় এটা দেখে আমরা বিস্মিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠানেও কোটি টাকার দুর্নীতি। তিনি বলেন,দুর্নীতিবাজদের লজ্জা থাকা উচিত, এ জন্য কমিটি ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের শাস্তির সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে উত্থাপিত কার্যপত্র থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনার মাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নার্সদের জন্য ইউনিটের ৮০০ বর্গফুটের কোয়াটার নির্মাণকাজে সর্বনিম্ম দরপত্র দাতাকে বাদ দিয়ে সর্বেচ্চ দরপত্রদাতাকে অনৈতিকভাবে কাজ দেয়। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ৯৬৫ টাকা।

নিরীক্ষায় দেখা যায়, বর্ণিত কাজে মো. আব্দুল খালেক ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪২ টাকা সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। দ্বিতীয় দরদাতা ইহা ডেল্টা অ্যান্ড বেনজির কনস্ট্রাকশনের দরপত্র মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৬৩ হাজার ৮০ টাকা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অনিয়মিতভাবে দ্বিতীয় দরপত্র নন রেস্পন্সিভ করে দরপত্রের মূল্য সংশোধন করে উচ্চ দরে মোহাম্মদ আব্দুল খালেক এর সাথে ১০ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭ টাকা চুক্তি সম্পাদন করে। তবে দরপত্রসমূহ নিরীক্ষায় তা উপস্থাপন হয়নি। এটা করে গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্টরা অনিয়ম করে।

নিরীক্ষার সুপারিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ পূর্বক সংশ্লিষ্টদের নিকট থেকে এ টাকা আদায় করা প্রয়োজন।

বৈঠকে সভাপতি বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোতে যেন দুর্নীতি না হয় সে জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্ম শতবার্ষিকীতে তাঁর আত্মা যেন শান্তি পায় এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ যেন উজ্জ্বল হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।