শ্রীদেবীকে নিয়ে বই লিখলেন কাজল

আগের সংবাদ

সরকারকে জিম্মি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র করাচ্ছে ভারত-চীন

পরের সংবাদ

এখনো অব্যর্থ ৮৭ বছর বয়সী ‘রিভলভার’ দাদি!

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৯, ১:৪৩ অপরাহ্ণ

Avatar

বলিরেখা ভরা মুখ, বয়সের ভারে বাঁ হাতটা কোমরে রেখে হাঁটেন। খুব জোরে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। বয়স হার মেনেছে শুধু একটা জায়গাতেই, অব্যর্থ তার নিশানা। ঈগল চোখের নির্ভুল নিশানায় রিভলভার হাতে আজও যে কোনো লক্ষ্য ভেদ করতে পারেন তিনি। বিশ্বের প্রবীণতম শুটার এ ‘রিভলভার’ দাদির আসল নাম চন্দ্রা তোমর। যে বয়সে কাজ থেকে অবসর নিয়ে নেন সবাই, সেই বয়সেই নতুন জার্নি শুরু করেন চন্দ্রা। ৬৫ বছর বয়সে তিনি প্রথম তার অসামান্য এবং নির্ভুল শুটিংয়ে তাক লাগিয়ে দেন বিশ্বকে।
ছোটবেলা থেকেই শুটিংয়ে আগ্রহ ছিল তার। কিন্তু রক্ষণশীল পরিবারে কোনো দিন মুখ ফুটে নিজের ইচ্ছা জাহির করার অবকাশ ছিল না। এভাবে সংসার, ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি নিয়েই পার হলো জীবনের ৬৫ বছর। নাতনি শেফালির বন্দুকবাজিতে আগ্রহ দেখে একদিন তাকে সঙ্গে নিয়ে গাঁয়ের রাইফেল ক্লাবে ভর্তি করাতে যান। অনেকটা খেলাচ্ছলেই হাতে বন্দুক তুলে শুট করেন। প্রথম শুটিংয়েই লক্ষ্যবিদ্ধ। রাইফেল ক্লাবের সবার তাক লেগে যায় তার বন্দুকবাজি দেখে।

নাতনির সঙ্গে তাকেও প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য জোরাজুরি করেন কোচ। দাদিও তাতে রাজি হয়ে যান। যদিও এর তীব্রবিরোধী ছিল তার রক্ষণশীল পরিবার। সব বাধা উপেক্ষা করে ৬৫ বছর বয়সে শুরু হয় নতুন পথে চলা। পরিবারের কেউ যাতে তার দিকে আঙুল তুলতে না পারেন, সে জন্য ভোরে ঘুম থেকে উঠে দিনভর সংসারের কাজ করতেন। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে অনুশীলন করতেন বাড়িতেই। ভারী বন্দুক ধরে নিশানা করার সময় হাত যাতে কেঁপে না যায়, তাই একটা বড় জগে পানি ভর্তি করে দীর্ঘক্ষণ বন্দুকের মতো ধরে থাকতেন। লক্ষ্যভেদ করে এ পর্যন্ত শতাধিক পদক জিতেছেন তিনি। তার মধ্যে ৩০টি জাতীয় স্তরে সেরার পুরস্কার। শোনা যায়, গ্রামে কোনো মেয়ের বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক চাইলে নাকি দাদি আম্মার কথা বলা হয়। তার নাম শুনে কেউ আর পণ নেন না। অনুরাগ কাশ্যপের পরিচালনায় চলতি বছরই চন্দ্রার বায়োপিক ‘সান্ড কি আঁখ’ মুক্তি পাবে। বিরল-বিস্ময় এ নারী ভারতের উত্তর প্রদেশের বাগপত জেলার জহরি গ্রামের বাসিন্দা। একদিন এই গ্রামে মেয়েদের বাড়ির বাইরে পা রাখাই ছিল মানা। এমন এক গ্রামে থেকে ৬৫ বছর বয়সে বাড়ির বাইরে পা দেয়াটা কঠিন ছিল তার পক্ষে। কিন্তু নিশানা যদি সঠিক থাকে, লক্ষ্যভেদ যে হবেই!