এবার শিরোপা জয়ে আত্মবিশ্বাসী সাকিব

আগের সংবাদ

কে হচ্ছেন রিয়ালের কোচ?

পরের সংবাদ

সবার ওপরে সাইফউদ্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ , ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ২:১৮ অপরাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন সেনসেশন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন যেন প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে বল হাতে প্রতিটি ম্যাচেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন ডানহাতি এই পেসার। ঘরের মাঠে চলমান ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারদের তালিকায় এখন শীর্ষে আছেন তিনি। এই সিরিজে লিগ পর্বের ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট শিকার করেছেন সাইফ। অবশ্য এককভাবে শীর্ষে নেই এই টাইগার পেস বোলিং অলরাউন্ডার। সমানসংখ্যক ম্যাচে সাইফের সমান ৭টি উইকেট পেয়েছেন আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানও।

আগামীকাল ত্রিদেশীয় এই টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে সাকিব আল হাসানের দল। সাইফ ও মুজিব দুজনের সামনেই রয়েছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার হওয়ার সুযোগ। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা চান ফাইনালে বল হাতে আফগান ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে সাইফউদ্দিনই সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার হোক।

গত জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসে বসেছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলা। তাই দলে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকাটা ছিল যেন অপরিহার্য। বিষয়টি উপলব্ধি করে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট প্রায় এক বছর আগে থেকেই সাইফউদ্দিনকে একাদশে রাখা শুরু করে। বিশ্বকাপের দলেও জায়গা হয় তার। সুযোগ পান একাদশেও। আর সুযোগ পেয়ে নিজের ওপর টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দিতে ভুল করেননি ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। যা ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে টাইগার বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বেশি ২০ উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান।

বিশ্বকাপের পর গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যায় বাংলাদেশ। ওই সফরের জন্য শুরুতে ঘোষিত স্কোয়াডে ছিলেন সাইফ। কিন্তু দেশ ছাড়ার ঠিক আগের দিন সন্ধ্যায় অনুশীলনের সময় পিঠে চোট পান তিনি। যে কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ছিটকে পড়েন শ্রীলঙ্কা সফরের দল থেকে। ইনজুরি কাটিয়ে ঘরের মাঠে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে ফের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হয় তার। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। যা ছিল সাইফউদ্দিনের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ। ওই ম্যাচে ২৬ রানের বিনিময়ে ১ উইকেট শিকার করেন এই পেসার।

সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের মুখোমুখি হয় টাইগাররা। ওই ম্যাচে সাইফের বোলিং মুগ্ধ করে সবাইকে। ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। যা ২০ ওভারের ক্রিকেটে সাইফউদ্দিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। পরের ম্যাচে তিনি ১৪ রানে নেন ১ উইকেট। আর লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৩ রানে ১ উইকেট নেন ফেনী থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার। সব মিলিয়ে চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজে এ পর্যন্ত খেলা ৪ ম্যাচে ১৬ ওভার বোলিং করে ৯৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট পেয়েছেন সাইফ। ইকোনমি রেট মাত্র ৬.০। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে এত কম ইকোনমি রেটে বোলিং করতে পারাটা যে কোনো বোলারের জন্যই গর্বের।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এ পর্যন্ত ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। পেয়েছেন ১২ উইকেট। বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংটাও খুব একটা খারাপ করেন না এই অলরাউন্ডার। ১৩ টি-টোয়েন্টিতে ৯ বার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৮ গড়ে ১০৮ রান করেছেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি তার। তবে এ পর্যন্ত খেলেছেন ২০টি ওয়ানডে। যেখানে ব্যাট হাতে ২৬২ রান করার পাশাপাশি বোলিংয়ে ২৪ উইকেট পেয়েছেন সাইফউদ্দিন।