জুয়ার জৌলুসে হতবাক দেশ

আগের সংবাদ

৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘুমে

পরের সংবাদ

অ্যাকশন এবার আওয়ামী লীগে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ , ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

ক্ষমতাসীনদের শক্তির দুর্গ ছাত্রলীগ-যুবলীগে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর এবার অ্যাকশন শুরু হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগে। বাদ যাবেন না মন্ত্রী-এমপিরাও। শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশেই অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল স্বস্তিতে নেই কেউই। চলমান অভিযান থেকে রেহাই পাবেন না মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে মদদ দেয়া রুই-কাতলারাও। সবাইকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

সূত্রমতে, আগামী কাউন্সিলের আগেই দলকে জঞ্জালমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন দলীয় সভাপতি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দলে ঢুকে যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে তাদের সরিয়ে দেয়া, দলে বিএনপি-জামায়াত অনুপ্রবেশকারী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত দলে শুদ্ধি অভিযান চলবে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজি, ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দলের কোনো নেতাকর্মীকেই ছাড় দেয়া হবে না। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার এসব রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

মুজিব বর্ষের আগে আওয়ামী লীগের একটি ক্লিন ইমেজ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্যই আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজস্ব উদ্যোগে দলের শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। সূত্র জানায়, টানা দুই মেয়াদে দলে হাজার হাজার অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপিদের হাত ধরে জামায়াতে ইসলামীর আমির থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ২ থেকে ৩ হাজার নেতা নৌকায় উঠেছেন। বিএনপির নেতারাও অনেকেই ধানের শীষ পেছনে ফেলে নৌকা আর মুজিব কোট গায়ে চাপিয়েছেন। এদের অনেকেই নাশকতা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ মাদক মামলা থেকে বাঁচতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত রয়েছেন।

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুই বছর আগে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলীয় সভাপতি। কিন্তু বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে এবার সরাসরি অ্যাকশন শুরু করেছেন তিনি। এ ব্যাপারে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ভোরের কাগজকে বলেন, অপরাধের প্রমাণ পেলে মন্ত্রী-এমপি কেউ ছাড় পাবে না। যারা সীমা লঙ্ঘন করছেন, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে আওয়ামী লীগের ইমেজ কমবে না; বরং আরো বাড়বে।

আওয়ামী লীগ নেতারাও নজরদারিতে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। যারা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কোনো গডফাদারই ছাড় পাবে না। যারা আগামীতে এসব অপকর্ম করবেন, তাদের জন্য এটা সতর্কবার্তা। এদের বিরুদ্ধে শুধু সাংগঠনিক নয়, প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

এদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানকে সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনকালীন একটি সমঝোতা হয়েছিল। সমঝোতায় দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে দেশ পরিচালনা করার কথা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার নিজ দলের অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি এই অভিযানের সর্বাত্মক সমর্থন করে।