নদী দূষণে এগিয়ে ওয়াসা

আগের সংবাদ

ভোলায় নদীতে ইলিশ মাছের ঝিলিক

পরের সংবাদ

তালিকা ধরে অভিযান

কাগজ প্রতিবেদক :

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ , ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর চালিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। একই সিন্ডিকেটের দখলে রয়েছে নগর ভবন ও গণপূর্তের ঠিকাদারি ব্যবসাও। র‌্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দারা পৃথক তালিকা তৈরি করেছেন। এর সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরো জোরদার করা হবে। তালিকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ছাড়াও বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমনকি চারজন সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

আটকের পর যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূইয়া, জি কে শামীম ও কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজের জবানিতে অনেকের নাম পেয়েছে র‌্যাব। তালিকার সঙ্গে তাদের দেয়া তথ্য মিলে গেছে। ঢাকার অর্ধশতাধিক ক্লাব, ক্যাসিনো ও জুয়ার আসরের সুবিধাভোগী শতাধিক ব্যক্তির নাম পেয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া প্রশাসনের সুবিধাভোগীদের নামও পেয়েছে তারা। র‌্যাব ও ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার বিকেলে ভোরের কাগজকে বলেন, ক্যাসিনো, ক্লাব ও জুয়ার আসরের তালিকা তৈরি শেষ হয়েছে। কারা এসবের সঙ্গে জড়িত সবার নাম রয়েছে। তবে তালিকায় কারা কারা আছেন এই মুহূর্তে তিনি তাদের নাম প্রকাশে ইচ্ছুক নন বলে জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তালিকা পেলে সেটা যে ধরনেরই প্রতিষ্ঠান হোক, তাদের দমন করা হবে। অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি করছে, নিয়ম ভঙ্গ করছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু ঘটানোর চেষ্টা করছে তাদের নজরদারিতে রেখেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। তথ্য-প্রমাণ পেলে যুবলীগ নেতা সম্রাটকেও ধরা হবে।

অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি নির্মূলকে আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে বা অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অথবা অপরাধ করার চেষ্টা করছে, তাদের দমন করা হবে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যে দল-মতেরই হোক, কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে। বর্তমানে যে অভিযান শুরু হয়েছে এটি চলমান থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধি হোক আর প্রশাসনের লোক হোক ছাড় দেয়া হবে না। কারো বিরুদ্ধে অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতির অভিযোগ পেলে প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে আমরা অনৈতিক কাজের অভিযোগ পাচ্ছি, প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জি কে শামীম প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, জি কে শামীমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ছিল, সেই অনুযায়ী তাকে বিচারের মুখোমুখি করেছি। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ থাকলে পর্যায়ক্রমে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।

পুলিশের একটি সূত্র ক্লাব, ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর থেকে সুবিধা পাওয়া চারজন সংসদ সদস্যদের নাম না প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সালাউদ্দিন আহমেদ ঢালী, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জাকির হোসেন স্বপন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক, আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্যা আবু কাউছার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাটসহ প্রায় ১০০ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তারা নানা অপকর্মে জড়িত। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে জমি ও বাড়ি দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ। তালিকাভুক্ত অনেকে গা-ঢাকা দিয়েছেন এবং সাঈদ ও কাউছার বিদেশে রয়েছেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ঢাকায় অর্ধশতাধিক ক্লাব, ক্যাসিনো ও জুয়ার আসর রয়েছে বলে পুলিশের তালিকায় উঠে এসেছে।

এদিকে এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটকের পর র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে নিয়ে রাতে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে পেশাদার ঠিকাদার ও বৈধ আয়করদাতা বলে দাবি করেন। তাকে আটকে রাখা হলে সরকারের হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আটকে থাকবে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তার নেটওয়ার্কের ব্যাপারে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। গতকাল তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কলাবাগান অফিস কক্ষে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছিলেন। এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপও করে আসছিলেন। তার সঙ্গে কারা জড়িত এমন প্রায় এক ডজন ব্যক্তির নাম জানতে পেরেছে র‌্যাব। সিন্ডিকেটের সদস্যদের ধরার চেষ্টা করছে তারা। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিটে থাকবে তাদের নাম। ফিরোজ ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।