বৃষ্টির পানি ব্যবহারে আইনি বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন

আগের সংবাদ

কোস্টগার্ডের অভিযানে ইয়াবাসহ ৮ রোহিঙ্গা আটক

পরের সংবাদ

মাঠের ভেতরে-বাইরে রিয়াদ-মুশফিক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ , ১২:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯, ১:০৯ অপরাহ্ণ

Avatar

জাতীয় দলের জার্সিতে একজনের পথচলা শুরু ২০০৫ সালে। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০৭ সালে পথচলা শুরু হয় আরেকজনের। এখন তারা দুজনই বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডবের অংশ। দলের নিয়মিত একাদশের সদস্য তারা। বলছি টাইগার ক্রিকেটের অপরিহার্য দুই সদস্য মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথা। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেবার লর্ডসে টেস্ট ম্যাচ খেলার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে এক তরুণের। তিনি হলেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। সে দিনের সেই তরুণ মুশফিক এখন যথেষ্ট অভিজ্ঞ। অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে ইতোমধ্যে তিনি নিজেকে পরিণত করেছেন একজন পরিণত ক্রিকেটারে।

অন্যদিকে ২০০৭ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে যে কজন খেলোয়াড়ের অবদান অনস্বীকার্য তাদের মধ্যে তিনিও একজন। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের জার্সিতে একসঙ্গে খেলছেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। একসঙ্গে দীর্ঘ এক যুগের পথচলায় অনেক বড় জুটি উপহার দিয়েছেন তারা। মাঠের বাইরেও আত্মীয়তার সম্পর্কে আবদ্ধ এই দুই ক্রিকেটার। দুজনই বিয়ে করেছেন একই পরিবারে ।

আত্মীয়তার সম্পর্কে রিয়াদ-মুশফিক ভায়রা ভাই। ২০১১ সালের ২৫ জুন জান্নাতুল কাওসার মিষ্টির সঙ্গে বিয়েবন্ধনে জড়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আর ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টির ছোট বোন জান্নাতুল কেফায়েতের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে জড়ান মুশফিক। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বুধবার জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয় সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। জিতলেই ফাইনালে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে- এমন ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬৫ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় টাইগাররা।

এরপর দায়িত্বটা নিজেদের কাঁধে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়ে তোলেন ৭৮ রানের অসাধারণ এক জুটি। মূলত তাদের এই জুটির কারণেই আগে ব্যাটিং করে জিম্বাবুয়ের সামনে বড় স্কোর ছুড়ে দিতে সমর্থ হয় সাকিবের দল। এটি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ১৫তম সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০ ওভারের ক্রিকেটে টাইগারদের সর্বোচ্চ রানের জুটিটি তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দখলে। ২০১২ সালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে উইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন এক জুটি গড়েছিলেন তারা। এ তালিকায় তিন নম্বরে আছে ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গড়া মুশফিক-সাকিবের ১১২ রানের জুটিটি। গত বছর দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ৮৪ রানের জুটি গড়েন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির তালিকায় সেরা দশে আছে এটি। এ তো গেল টি-টোয়েন্টির কথা।

২০১৪ সালে কিংস্টনে উইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩০ রানের জুটি উপহার দেন রিয়াদ-মুশফিক। সাদা পোশাকে পঞ্চম উইকেটে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জুটি। ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ^কাপের আসর বসেছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। ওই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট পেতে অবশ্যই জিততে হবে এমন ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা। মহাগুরুত্বপূর্ণ ওই ম্যাচের শেষ দিকে পরপর দুই বলে ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে জয় এনে দিয়েছিলেন টাইগার পেসার রুবেল হোসেন। রুবেলের ওই দুটি ডেলিভারির কথা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা কখনোই ভুলতে পারবে না। তবে ওই ম্যাচে জয়ের ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন মূলত মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আগে ব্যাটিং করতে নেমে টাইগাররা যখন ৯৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে প্রচণ্ড চাপে পড়ে যায় তখন হাল ধরেন রিয়াদ ও মুশফিক। পঞ্চম উইকেটে ১৪১ রানের জুটি গড়েন তারা। ওই ম্যাচেই বিশ্বকাপে টাইগারদের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মুশফিকের সামনেও ছিল সেঞ্চুরির সুযোগ। তবে শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে ৮৯ রানে আউট হন তিনি। এই জুটি আক্ষেপেও পুড়িয়েছে টাইগার সমর্থকদের।

২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৪৬ রান তাড়া করতে নেমে ১২৬ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সপ্তম উইকেটে রিয়াদ ও মুশফিক জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি তারা। জয় থেকে ২ রান দূরে থাকতে পরপর দুই বলে তারা দুজনই আউট হয়ে গেলে ম্যাচ হেরে যায় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বল দুই নক্ষত্র। দুজনের সামনে আরো অনেকটা পথ যাওয়া বাকি। এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বাংলাদেশ দলের জার্সিতে আরো অসংখ্য ম্যাচ জেতানো জুটি গড়–ক এমনটিই প্রত্যাশা টাইগার সমর্থকদের।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাগরিকায় চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে টাইগারদের জয় নিশ্চিত করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মুশফিকুর রহিম -কমল দাশ