চেতনাপ্রবাহ ও জীবনতৃষ্ণা

আগের সংবাদ

দোহারের ছদ্মবেশ

পরের সংবাদ

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ , ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

Avatar

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ নাক গলাবে না বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। ভারতের কাশ্মীরে চলমান অচলাবস্থা ও এনআরসি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী প্রতিনিধি একথা বলেন।

জাতিসংঘের ৭৪তম অধিবেশন যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন বুধবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে সাংবাদিকরা রোহিঙ্গা ইস্যু, এনআরসি ও কাশ্মীর ইস্যু, ইরান-সৌদী উত্তেজনাসহ নানা বিষয়ে স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে জানতে চান।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সাংবাদিকদের আরো জানান, কাশ্মীর এবং এনআরসি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেকথা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে বলেছেন। তবে এনআরসি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ভারত সফরে আলোচনা করতে পারেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন ঝুলে গেছে। গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনের যে কথা ছিলো তা হয়নি। এটা মিয়ানমারের ব্যথর্তা বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। তবে হতাশ হবার কিছু নেই বলে জানান তিনি।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আগামী ২৩ বা ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশন চলাকালে চীন, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে ফলপ্রসূ কোনো সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত করে বলেন, এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। গত বছর চায়নাতে এ নিয়ে কথা হয়েছিলো। তবে এখানেই শেষ নয় জাতিসংঘের অনেকগুলো সাইড ইভেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হবে। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ভাষণেও এ নিয়ে জোরালো প্রস্তাব উত্থাপন করা হতে পারে।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, আঞ্চলিক সংকট বিবেচনায় ভারত, জাপানসহ আসিয়ান অঞ্চলের সকল দেশই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে পারে। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘই মূখ্য ভূমিকা রাখছে। তারা বিষয়টির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং আলোচনা, সমঝোতা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মোমেন বলেন, একদিনের নোটিশে রোহিঙ্গারা বিশাল সমাবেশ করেছে। কিছু অস্ত্রও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইন্ধন দেয়ার জন্য কয়েকটি এনজিওর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। সরকার অনেক কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। থ্রি-জি, ফোর জি মোবাইল সেবা বন্ধ করে শুধু সাধারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বহাল রেখেছে।

তবে মাসুদ বিন মোমেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক পাচার, নারী ও শিশু পাচারসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক। গুটিকতক অপরাধী রোহিঙ্গাদের জন্য সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সরকার বা বাংলাদেশের মানুষের ভুল বোঝাবুঝি হোক তা আমরা চাই না।

সৌদির তেলক্ষেত্রে হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে স্থায়ী প্রতিনিধি সাংবাদিকদের জানান, সৌদী এবং ইরান দুটোই বাংলাদেশের বন্ধু প্রতীম দেশ। কিছুদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। সৌদী আরবে বাংলাদেশের ২৩ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। তবে উভয় দেশ তাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা প্রত্যাশা করেনি।

স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, এবার সাধারণ বিতর্কের মূল প্রতিপাদ্যের আলোকে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সকলের সুস্বাস্থ্য নিশিচতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ণ এবং অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে এবারের অধিবেশনে আলোচনা হবে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তার বক্তব্যে তুলে ধরবেন।

এছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং এসডিজির লক্ষ্য পূরণে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা পূর্ণ মনোভাব নিয়ে একযোগে কাজ করার বিষয়সমূহের ওপর আলোচনা হবে।

জাতিসংঘের এ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচনায় আসবে এবং এ বিষয়ে বেশ কিছু ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৭২-তম অধিবেশনে প্রদত্ত ৫ দফা প্রস্তাব ও ৭৩-তম অধিবেশনে পুণর্ব্যক্ত ৩ দফা এখনো প্রাসঙ্গিক। উপরন্তু রোহিঙ্গা বিষয়ে বিশ্ব নেতৃত্বের আগ্রহ, সার্বিক অবস্থান অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিতকরণে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য এ বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের জোরালো বক্তব্য ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের নেতৃত্বে বিগত বছরগুলোতে অর্জিত বাংলাদেশের সাফল্যসমূহ তুলে ধরার পাশাপাশি দেশে চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সুশাসনের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের কর্মপরিকল্পনা বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে পারেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে গত কয়েক বছরে আমাদের অসাধারণ সাফল্যের বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলাদেশের নেতৃত্বমূলক ভূমিকার বিষয়টি এই সভায় আলোকপাত করা হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট যোগদানসহ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সংক্ষিপ্ত বৈঠক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী প্রতিনিধি ছাড়াও উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মিনিস্টার মনোয়ার হোসেন, প্রথম সচিব ( প্রেস) নূর এলাহি মিনাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।