আলিয়াকে শরীরচর্চা করাচ্ছেন কে!

আগের সংবাদ

তেলে টান : সৌদি অর্থনীতিতে লাল বাতি

পরের সংবাদ

আবারো সংকটে পোশাক খাত

সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগী হোন

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ , ১০:১৫ অপরাহ্ণ

তৈরি পোশাক খাত ঘিরে আবারো অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিজিএমইএর হিসাবে গত সাড়ে ৬ মাসেই বন্ধ হয়েছে ৪৬টি গার্মেন্ট কারখানা। এর মধ্যে গত চার মাসেই ৩৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা। পোশাক কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবেশী প্রতিযোগী দেশের সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের কারখানাগুলোর ক্রয় আদেশ কমে যাচ্ছে। এর ফলে বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা। এভাবে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে এ খাতে সাংঘাতিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশে মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ ভাগের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। সে সুবাদে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা বাংলাদেশের। পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গুরুত্বপূর্ণ এ অবদান সত্ত্বেও পোশাক শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হয়নি। এ খাতের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। তাজরিন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় পোশাক শিল্প। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর নাজুক অবস্থায় পড়ে খাতটি। এসব ধকল কাটিয়ে পোশাক শিল্প যখন ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ঠিক তখনই নতুন ইস্যু দাঁড়িয়েছে সক্ষমতার বিষয়টি। গতকাল ভোরের কাগজের একটি রিপোর্টে এ খাতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তুলে ধরে বলছে, দেশের গার্মেন্টগুলো প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ উৎপাদন খরচ ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। এটাকে সমন্বয় করতে হবে। ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ, উচ্চ সুদহার, জায়গা-জমির দাম, বিদ্যুৎ বিল, ফ্ল্যাট ভাড়া, এমনকি গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনও বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে বস্ত্রের বিক্রয় মূল্য বাড়েনি। এ কারণে প্রতিযোগী সক্ষমতা অন্যান্য দেশের থেকে কমে যাচ্ছে। এ ধরনের সংকট ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। তৈরি পোশাক শিল্প বা আরএমজি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তিনটি রপ্তানিমুখী খাতের মধ্যে পোশাক শিল্পই অন্যতম। দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে পোশাক শিল্পের কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে সে দেশের শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে পোশাক রপ্তানি থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজিএমইএ। এই লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকে উচ্চাভিলাষী বললেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এর জন্য বিদ্যমান অনেক সমস্যা দূর করতে হবে। বিশ্ব পোশাক বাজার এখন ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ এর মাত্র ৫ শতাংশ সরবরাহ করে। এ হার ৮ শতাংশে উন্নীত করতে পারলেই ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। এই টার্গেট পূরণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন। বিশেষ করে সক্ষমতার যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে বাজার পর্যালোচনা করতে হবে। সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু পণ্যের দাম বাড়ালে হবে না, দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাও বাড়ানোর বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।