ফুটপাতেও নিরাপদ নয় জীবন

আগের সংবাদ

যে কারণে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

শিক্ষকদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ , ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

Avatar

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে একটি নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালার বিষয়বস্তু তুলে ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবগত করা হয়। তারপরও এক শ্রেণির শিক্ষক নামধারী আইন ও সরকারি নির্দেশনা অবজ্ঞা করেই চলেছে। রাজধানীর মিরপুরে বনফুল আদিবাসী গ্রিন হার্ট কলেজের শাহরিয়ার আলম আকাশ নামে এক শিক্ষার্থী কলেজ ভবনের দোতলা ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ছাত্র। গত সোমবারের এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আচরণের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে। এর আগেও আমরা একই ধরনের ঘটনা লক্ষ করেছি। গত বছর ডিসেম্বরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে বহিষ্কার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অরিত্রীর বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে তার সামনেই অপমান করা হয়। বিষয়টি সহজভাবে নিতে না পেরে আত্মহনন করে অরিত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে বা অপরাধ করলে তাদের অভিভাবকদের তলব করা হবে এটি আমাদের সমাজে সাধারণ ঘটনা। কিন্তু শিক্ষকরা অভিভাবকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে অনেক শিক্ষার্থী তা মেনে নিতে পারেন না। শাহরিয়ার আলম আকাশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ভিন্ন নয়। জানা গেছে, আকাশ পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করায় কলেজ কর্তৃপক্ষ আকাশের মাকে ফোন করে অপমান করে। এ ঘটনা মানতে পারেনি আকাশ। রাগে-ক্ষোভে কলেজের দোতলা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে আকাশ। কিন্তু ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যায়। গুরুতর আহত আকাশকে আগারগাঁওয়ের নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, নিজেদের দোষ ঢাকতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলেছে। ঘটনার বর্ণনা দেখে মনে হচ্ছে কোনো সুস্থ শিক্ষক এমন আচরণ করতে পারেন না। মানসিকভাবে অসুস্থ এমন লোক কীভাবে শিক্ষকতার দায়িত্ব পান সে প্রশ্নও উঠে আসছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনা একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় এ নির্যাতন শারীরিক ও মানসিক পর্যায়ে হয়ে থাকে, যা মানবাধিকারেরও লঙ্ঘন। অথচ এ ব্যাপারে শিক্ষকরা তেমন সচেতন নন। শাস্তি কখনোই শিক্ষার্থীর চরিত্র বা আচরণে পরিবর্তন ঘটায় না। এসবের পাশাপাশি আরো একটি বড় কারণ হচ্ছে ‘কিশোর-কিশোরীদের মনোবিজ্ঞান’ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের, বিশেষ করে শিক্ষকদের তেমন কোনো ধারণা নেই। তাই তারা মনে করেন শাস্তি প্রদানই শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি থেকে সুরক্ষার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে, তা কেবল আত্মহত্যা নয়, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। অরিত্রী আত্মহননের পেছনে তৎকালীন প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মিরপুরের আকাশের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায়ও তদন্ত দরকার। পাশাপাশি দেশের সব স্কুল শিক্ষার্থীবান্ধব হোক, শিক্ষার্থীদের প্রতি মমত্ববোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল হোক এটাই চাইব আমরা। সে ক্ষেত্রে শিক্ষকদের মানসিকতার পরিবর্তন সবার আগে জরুরি।