কঙ্গনার হাত থেকে সম্মাননা নিলেন জাহিদ খান

আগের সংবাদ

ছাত্রনেতারা গান শিখুক! বই পড়ুক!

পরের সংবাদ

প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পোশাক শিল্প

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ , ১০:১২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

Avatar

তৈরি পোশাক কারখানায় চলছে অশনিসংকেত। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিজিএমইএর হিসাবে গত সাড়ে ৬ মাসেই বন্ধ হয়েছে ৪৬টি কারখানা (গার্মেন্ট)। এর মধ্যে গত চার মাসেই ৩৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা। এই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরো একটি পোশাক কারখানার অন্তত আটশ শ্রমিক। মূলত, ক্রয় আদেশ না পাওয়া ও গার্মেন্ট পরিচালনায় মালিকপক্ষের ব্যর্থতার কারণেই মিরপুরের ‘জারা জিন্স’ নামের কারখানাটি বন্ধের পথে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গার্মেন্ট খাতের এ অবস্থা সার্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়বে।

মূলত প্রতিবেশী প্রতিযোগী দেশের সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের কারখানাগুলোর ক্রয় আদেশ কমে যাচ্ছে। এর ফলে বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা। নতুনভাবে বন্ধের উপক্রম হওয়া চিড়িয়াখানা রোডের জারা জিন্স নামের কারখানাটির মালিক পাঁচজন। তবে শ্রমিকরা রিয়াজুল ইসলাম রাজুকেই মালিক হিসেবে জানেন। আর কারখানাটিতে

তাকেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এর আগে, গত রবিবার বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় নামে জারা জিন্সের কর্মীরা। বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ বলেন, জারা জিন্স নামের পোশাক কারখানাটি চালাতে পারছে না বলে এখন বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের কোনো অর্ডার (ক্রেতা) নেই। প্রতিষ্ঠানটি এক সময়ে শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। তিনি বলেন, কোনো মালিক ইচ্ছা করে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে না। ফ্যাক্টরি বন্ধ ও চালু দুটিই কঠিন প্রক্রিয়া। ক্রেতা না থাকার কারণেই মালিকপক্ষ ফ্যাক্টরি বন্ধের দিকে এগোচ্ছে।

একের পর এক পোশাক কারখানা বন্ধের বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আামদের গার্মেন্টগুলো প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ উৎপাদন খরচ ও ব্যয়ের (কস্ট অব প্রোডাকশন এন্ড এক্সপেন্ডিচার) মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। এটাকে ম্যাচ করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ, উচ্চ সুদহার, জায়গা-জমির দাম, বিদ্যুৎ বিল, ফ্ল্যাট ভাড়া, এমনকি গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতনও বেড়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে বস্ত্রের বিক্রয় মূল্য বাড়েনি। এ কারণে প্রতিযোগী সক্ষমতা অন্যান্য দেশের থেকে কমে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, চায়না, পাকিস্তানে টাকার মান কমছে, ভারতে প্রায় বাংলাদেশি কারেন্সির সমান হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং ফ্যাক্টরিগুলো সার্ভাইভের জন্য স্ট্রাগল করছে। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে লোন নিয়ে বেতন পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা কারো নেই। আবার ব্যাংকেরও তারল্য সংকট রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে এ সেক্টরে এখন অনেক চ্যালেঞ্জিং একটা সময় অতিবাহিত করছে আমাদের তৈরি পোশাক খাত।

বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, এভাবে একর পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে এ খাতে সাংঘাতিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, বলা হচ্ছে আমরা ভালো করছি। অথচ ব্যবসার বৈশ্বিক যে আবহাওয়া তাতে আমি মনে করি না, আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের আগে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এত মাস আমরা সামলাব কীভাবে? সবাই বলছে-আমেরিকার জন্য ব্যবসা বাড়বে। কিছু লোক হয়তো রপ্তানি বেশি করবেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কারখানাগুলো একটার পর একটা বন্ধ হচ্ছে।

রুবানা হক বলেন, আমাদের আরো মার্কেট স্টাডি করতে হবে। সমস্যার সমাধানের জন্য বায়ারদের (ক্রেতা) শুধু পণ্যের দাম বাড়ালে হবে না, দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাও বাড়াতে হবে।