ছাত্রনেতারা গান শিখুক! বই পড়ুক!

আগের সংবাদ

যৌন সহিংসতা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গাদের এনআইডি দিয়ে কোটিপতি

জালিয়াত জয়নাল নিয়োগ পান বিএনপি আমলে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ , ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং এনআইডি পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদিনের নিয়োগ হয় বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে। জয়নাল আবেদিনের আপন মামা নির্বাচন অফিসের যুগ্ম সচিব মো. জকরিয়ার সুপারিশে চাকরি হয় তার। রোহিঙ্গা ভোটার ও এনআইডি কার্ড তৈরিসহ নানা অনিয়ম করে সেই জয়নাল আবেদিন অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া জয়নাল আবেদিন বাঁশখালী পৌরসদরে জমি, বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ, ব্যাংক ব্যালেন্সসহ অনেক সহায় সম্পত্তির মালিক। জানা যায়, ১৪ বছর আগে নির্বাচন কার্যালয়ে অফিস সহায়ক (পিওন) হিসেবে যোগদান করা জয়নাল আবেদিনের গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীতে, রয়েছে তার অবৈধ সম্পদের পাহাড়। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আসকরিয়া পাড়ায় পাকা বাড়ি ছাড়াও বর্তমানে আসকরিয়া শাহ মাজারের দক্ষিণে কোরবাইন্যার দোকানের পাশেই নতুন সাড়ে ৩ গণ্ডা জমির উপর তৈরি করা হচ্ছে ৬ তলার বিশাল অট্টালিকা।

ইতোমধ্যেই ৪ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁশখালী পৌরসভায় রয়েছে ক্রয় করা জমি। রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে স্বনামে-বেনামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। তার এই অবৈধ সম্পদ দেখাশোনার জন্য বাহাদুর নামের একজন লোকও রাখা হয়েছে।

বাঁশখালী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হারুন ভোরের কাগজকে বলেন, জয়নাল আবেদিনের পিতা মোনাফ মাঝি খুবই দরিদ্র ছিল। ২০ বছর পূর্বে ৩ কড়া জমির উপর শুধু বসতভিটাই ছিল তাদের। অর্থের অভাবে সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারেনি। আত্মীয়ের মাধ্যমে নির্বাচন অফিসে পিওনের চাকরি হয়। সে অনেক রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দিয়েছে বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। জয়নাল আবেদিন বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক। তার ভাই এক সময় বাবুর্চির কাজ করেছে। অনৈতিক কাজের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাকে দুবাই পাঠায় জয়নাল। রোহিঙ্গাদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে জয়নালের ভাই সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৬ মাসে আত্মীয়স্বজন ও ভিন্ন ভিন্ন নামে বাঁশখালী উপজেলার জলদীসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক জায়গা ক্রয় করেছে। যে বাড়িটি তৈরি হয়েছে সবকিছু মিলে অন্তত ৬০-৭০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে। তার জলদীতে ক্রয় করা জমি ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে কোটি টাকার জমি রয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে ভিন্ন ভিন্ন নামে টাকা রয়েছে। বাঁশখালী পৌরসভার আসকরিয়া পাড়ায় আবদুল মজিদ নামে এক জমির মালিকের কাছ থেকে প্রতি গণ্ডা ৬ লাখ টাকা করে জয়নাল আবেদিন ও তার বন্ধু মোস্তফা আলী মিলে সাড়ে ৮ গণ্ডা জমি ক্রয় করেন বছর খানেক আগে। সাড়ে ৩ গণ্ডা জমির উপর জয়নাল আবেদিন গত ২ মাসেই মাটি পরীক্ষা করে পাইলিংয়ের মাধ্যমে ৬ তলা ভবনের ৪ তলার কাজ সম্পন্ন করেন। শ্রমিকরা দিনে-রাতেই নির্মাণ কাজ করছেন বলে জানান স্থানীয়রা। বাঁশখালীর পৌরসদরে মার্কেটে একটি কাপড়ের দোকানও রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া জয়নাল আবেদিনের জায়গা জমি, ব্যাংক হিসাব দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার মো. বাহাদুরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

তবে এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জয়নাল আবেদিনের সঙ্গে জায়গা জমি ক্রয়, ব্যাংকের হিসাব-নিকাশ, আত্মীয়স্বজনদের দেনাপাওনা সবকিছু নিয়ে কেয়ারটেকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে। জানা যায়, বাঁশখালী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আসকরিয়া পাড়ায় মোনাফ মাঝির ২ ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে। মোনাফ মাঝির সন্তান অল্প শিক্ষিত জয়নাল আবেদিনের চাকরি হয় মামার সুপারিশে। আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ভাগিনা জয়নাল আবেদিন ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালে একটি ল্যাপটপ হারিয়ে যায়। এই হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ থেকে রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে সহায়তা করেন জয়নাল আবেদনি। এই ল্যাপটপ হারিয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলেই জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা ভোটার করার রহস্য উন্মোচন হয়।