প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পোশাক শিল্প

আগের সংবাদ

জালিয়াত জয়নাল নিয়োগ পান বিএনপি আমলে

পরের সংবাদ

ছাত্রনেতারা গান শিখুক! বই পড়ুক!

ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ , ১০:১২ পূর্বাহ্ণ

কয়েকদিন ধরেই বেশ একটা জমকালো মিডিয়া কভারেজ আমরা দেখছি ছাত্রলীগের দুই প্রধান নেতার চাঁদাবাজির খবর ও তাদের সরিয়ে দেয়া নিয়ে। যা হোক নিশ্চয়ই দুয়েকদিন পর তার কিছুটা ভাটা পড়বে আর নতুন কোনো আলোচনায় আমরা চলে যাব। তার আগে আমার সামান্য কয়েকটা কথা এখানে উল্লেখ করতে চাই।
ছাত্ররাজনীতির প্রধান সংকট এখন আর চাঁদাবাজিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটার আপাদমস্তক একটা বড় সংকট তৈরি হয়েছে দেশব্যাপী। একটা গল্প দিয়েই গল্পটা শুরু করি, ছেলে বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ে মাঝে মধ্যে মিছিল-মিটিং করে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা। হঠাৎ করেই সে বিশ^বিদ্যালয়ের নেতা হয়ে যায়। তার পরিবার, আত্মীয় পরিজন, গ্রামবাসী, এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। ছেলে বিশাল নেতা বনে গেছে। এরপর তার কাছে আসতে থাকে নানান ফোন, আমার ছেলেটারে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো যায় কিনা, একটু হলে রাখার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, একটু চাকরির ব্যবস্থা করা যায় কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। এই চিত্রটা খুবই পরিচিত। অন্তত যারা বিশ^বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এটা আমাদের সমাজের মানুষদের একটা বড় অংশের অভিব্যক্তি। আমি একটা সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করেছি দীর্ঘ সময়। আমি দেখেছি ছাত্রদল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতিটি উৎসবে নেতাকর্মীদের সেলামি দিতে এবং তাদের মুখেই শুনেছি এটা না করলে তারা টিকতেই পারবে না। এমনকি একইভাবে তারা সেলামি পায় বড় নেতাদের কাছ থেকে। তার মানে সেলামি একটি চক্রাকার ব্যবস্থা, যেই ব্যবস্থায় সবাই যুক্ত।
সংকটটা আসলে এটা না কে চাঁদাবাজি করল আর কে করল না। সংকটটা হলো ছাত্ররাজনীতি, ছাত্রআন্দোলন তার প্রকৃত রূপ পাল্টে ফেলছে। এক সময় ছাত্রদের অধিকার, শিক্ষানীতির আন্দোলন, স্বাধিকারের প্রশ্নে, গণতন্ত্রের লড়াইয়ে যে ছাত্র সংগঠনগুলো প্রাণপণ লড়াই করেছে। আজ তাদেরই কাউকে কাউকে এই নষ্ট¯্রােতে গা ভাসাতে দেখছি আমরা। তারা প্রকৃত ছাত্রদের অধিকার নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে আর নেই। তারা যুক্ত ক্ষমতাকেন্দ্রিক ভাগ-বাটোয়ারায়। তাদের প্রটোকল লাগে, লাগে অস্ত্র, লাগে অর্থ, লাগে বিলাসবহুল জীবন। তারাও এগুলো শিখে তাদের বড় নেতাদের জীবন থেকে। তাই আমি তাদের দোষ দেই না। সংকটটা তাই রাজনীতির সংকট আর তা হলো ক্ষমতাসীনদের ভোগবাদী, স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের। যেখানে কোনো সৃজনশীলন ও নান্দনিকতার জায়গা নেই। ছাত্রনেতাদের গান না জানলেও চলবে কিন্তু চোখ রাঙানি জানতে হবে। বই না পড়লেও চলবে, শুধু বুলি আওড়ালেই চলবে।
একটা ছাত্র সংগঠনের প্রধান কাজ হলো ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলা। অথচ আমরা দেখি ক্ষমতাসীন সংগঠনগুলো ছাত্রদের নিয়ে সর্বদাই তাদের পালের গরুই বানিয়েছে। হলে থাকতে চাইলে মিছিল করতে হবে, নেতাদের উঠতে বসতে সালাম ঠুকতে হবে, যে কোনো অপকর্মে তাদের সঙ্গ দিতে হবে। ছাত্রদের স্বার্থের যে কোনো আন্দোলনে তাদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না কিন্তু আন্দোলন দমনে তারা ওস্তাদ।
সর্বশেষ কথা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ তার এই উদ্যোগের জন্য। আর একটা কথা হলো নেতা পাল্টিয়ে কোনো লাভ নেই, এদের এই খাইখাই নীতি পাল্টিয়ে ছাত্রদের অধিকারের সংগ্রামে নামতে বলুন দয়া করে। ছাত্রনেতাদের গান গাইতে শিখতে বলুন। কবিতা পড়তে বলুন। আর না হলে এই সংগঠন হবে পলায়নপর। দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের আদর্শিক ধারায় যারা লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবনত সালাম।

সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।

[email protected]