লঙ্কায় যাচ্ছেন মুমিনুল-সৌম্যরা

আগের সংবাদ

টাইগারদের আজ ফাইনালে উঠার লড়াই

পরের সংবাদ

প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রচারণায় প্রার্থীরা

এরশাদ পরিবারে দুই প্রার্থী হওয়ায় নতুন সমীকরণ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ , ১২:১০ অপরাহ্ণ

রংপুরে দলীয় প্রতীক পেয়েই উপনির্বাচনে প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম শাহাতাব উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেন।
রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান গতকাল সকালে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ বুঝে নেন। এরপর গণফ্রন্টের প্রার্থী কাজী মো. শহিদুল্লাহ তার দলীয় প্রতীক মাছ, খেলাফত মজলিস প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মণ্ডল দলীয় প্রতীক দেয়াল ঘড়ি এবং এনএনপি থেকে শফিউল আলম আম প্রতীক গ্রহণ করেন।
এরশাদ পরিবারের বিদ্রোহী প্রার্থী এইচ এম এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি (কার) প্রতীক গ্রহণ করেন। প্রতীক বরাদ্দের সময় সব প্রার্থী উপস্থিত থেকে প্রতীক নিলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় রিটার্নিং অফিসার সাদ এরশাদকে দলীয় প্রতীক লাঙ্গল বরাদ্দ দেন।
প্রতীক পেয়ে প্রায় সব প্রার্থী গণসংযোগসহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কাজে অংশ নেন। বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে আমার এখনো সন্দেহ রয়েছে। কারণ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হলে ফলাফল উল্টানো যায়। এর প্রমাণ বিভিন্ন দেশে আমরা দেখেছি। এরপরও আশা করছি, যেহেতু এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে না সে কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহারিয়ার বলেন, সাদ এরশাদ বহিরাগত প্রার্থী। তাকে রংপুরের মানুষ কখনো দেখেননি, চেনেনও না। ফলে বহিরাগত প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করবেন। আমি এরশাদ পরিবারের সন্তান। আমার প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন আছে। ফলে আমার প্রতীক লাঙ্গল না হলেও মোটরগাড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবেন তারা।
এদিকে রিটার্নিং অফিসার প্রতীক বরাদ্দ করার আগে প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম রাজুর মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে নতুন সমীকরণ দেখছেন অনেকে। এখন এ নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী রওশনপুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ ও বিএনপির রিটা রহমানের শক্ত প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে মাঠে থাকছেন এরশাদের অভিমানী ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ।
ভোটাররা মনে করছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া ৬ প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এ তিন প্রার্থীর মধ্যে। তবে দলীয় প্রতীক থাকায় লাঙ্গল ও ধানের শীষের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলছেন তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা। যদিও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সাদ এরশাদের পক্ষে নির্বাচনে মাঠে না থাকার আগাম ঘোষণা দিয়েছেন।
মহানগর সভাপতি সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেছেন, আমার ইউটার্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমি এখনো আগের সিদ্ধান্তেই আছি।
নব্বই-পরবর্তী প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যক্তি এরশাদের জনপ্রিয়তায় রংপুরের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসায় ভোট পড়েছিল তারই পক্ষে। গত ২৮ বছরের ইতিহাসে কখনোই পরাজিত হয়নি এরশাদের লাঙ্গল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন। এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদকে নিয়ে ক্ষেপে আছেন জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
রওশনপুত্র সাদ এরশাদ এবার তার বাবার আসনে কতটুকু সফল হবেন, তা নিয়ে সংশয় আছে অনেকের মনে। আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়