ডেঙ্গুর পর অ্যানথ্রাক্স ও কঙ্গো নিয়ে শঙ্কা

আগের সংবাদ

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ট্যাক্স সুবিধা আরো বাড়ানো হবে

পরের সংবাদ

চর উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ নিয়ে প্রশ্ন পরিকল্পনা কমিশনের

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ , ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

Avatar

চর উন্নয়নের একটি প্রকল্পের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ‘চর ডেভেলপমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪-অতিরিক্ত অর্থায়ন’ প্রকল্পটি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্প থেকে ভ্রমণ ভাতা, ওভার টাইম, সম্মানিসহ বেশকিছু খাতের প্রস্তাবিত খরচ বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন খরচের যৌক্তিকতার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ভ্রমণ ভাতা ১৫ লাখ, ওভার টাইম ৪০ লাখ, ট্যাক্স ৩ লাখ, পোস্টেজ ১ লাখ, টেলিফোন/টেলিগ্রাম/টেলিপ্রিন্টারের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার, টেলেক্স/ফ্যাক্স/ইন্টারনেটে ১ লাখ, ফুয়েল ও গ্যাসের জন্য ১২ লাখ, পেট্রল ও লুব্রিকেন্টে ৩৬ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ে এক লাখ ৫০ হাজার, স্টেশনারি/সিল ও স্ট্যাম্প ৯ লাখ, বুকস ও প্রেয়ডিক্যালস ১ লাখ, অডিও-ভিডিও প্রোডাকশন ৪ লাখ, প্রচার ও বিজ্ঞাপন ১ লাখ ৫০ হাজার, সেমিনার ও কনফারেন্স ২০ লাখ, আপ্যায়ন খরচ ৬ লাখ, ক্লিনিং ও ওয়াশিং এক লাখ ৫০ হাজার, সম্মানি/ফি/চাঁদা ৪ লাখ, জরিপে ১১ লাখ ৭১ হাজার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারে ৬ লাখ, অন্যান্য খরচ ৬৩ লাখ, সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশন ৬ লাখ, যানবাহন মেরামত ১৪ লাখ, আসবাবপত্র মেরামত ৩ লাখ, কম্পিউটার ও অফিস যন্ত্রপাতি মেরামত ৭ লাখ ৫০ হাজার এবং পরিবারের ক্ষতিপূরণে ৩০ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে কিছু কিছু কমানো ও বাদ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, কারিগরি সহায়তা বাবদ প্রকল্পে সাহায্যের জন্য ৪৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এনজিও কার্যক্রমের সহায়তার জন্য ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রকল্পে অতিরিক্ত খরচের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। পরিকল্পনা বিভাগের সভায় সেক্টর প্রধানদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এখন থেকে যদি কোনো প্রকল্পের প্রস্তাব আসে, তাহলে তার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) খুব ভালো করে দেখতে হবে। অতিরিক্ত বা অসামঞ্জস্য কোনো খরচ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে। তারা যদি সংশোধন করে দেয় তাহলে সেই ডিপিপি প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১৯৮০ সাল থেকে ভ‚মি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্র থেকে ভ‚মি পুনরুদ্ধার ও চর উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চল বিশেষ করে, নোয়াখালী জেলায় চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপনে কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যাপক চর উন্নয়ন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভ‚মি বন্দোবস্তের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়।

প্রকল্পটির যাবতীয় প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।
প্রকল্পটিতে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।