পেঁয়াজ নেই তবুও বিক্রির ঘোষণা টিসিবির

আগের সংবাদ

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইন্দোনেশিয়ান নাগরিকের মৃত্যু

পরের সংবাদ

অরিত্রীর পথেই হাঁটলেন আকাশ, ভাগ্যক্রমে রক্ষা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ , ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

Avatar

পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে বহিষ্কার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অরিত্রীর বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে তার সামনেই অপমান করা হয়। যা সহজভাবে নিতে পারেননি অরিত্রী। গত বছরের ডিসেম্বরে এ ঘটনার পরই আত্মহত্যার করেন তিনি। প্রায় একইরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছিল রাজধানীর মিরপুর বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজে। পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করায় কলেজটির দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার আলম আকাশের মাকে ফোন করে অপমান করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা মানতে পারেননি আকাশ। রাগে ক্ষোভে কলেজের দোতলা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যক্রমে এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এরপরই কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দরজা-জানালার কাচ ও ভেতরে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করেন তারা। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করে বলছে, আকাশ কলেজের দোতলার সিঁড়ি থেকে একতলায় পড়ে যায়। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।
কলেজের রেক্টর সজল চন্দ্র সরকার বলেন, আকাশ আগামী বছর উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা দেবে। সম্প্রতি পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় গতকাল আমরা ফোন করে তার বাবাকে কলেজে আসতে বলি। এ কথা জেনেই সে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। এরপরই এই ঘটনা ঘটে।
সাইদ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ‘সম্প্রতি আমাদের কলেজের ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আকাশ রেজাল্ট একটু খারাপ করায় কলেজের শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ তাকে বকা দেয়। পাশাপাশি গতকাল সকালে আকাশের মা-বাবাকে কলেজে আসতে খবর দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের চাপে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে বাধ্য হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নিজেদের দোষ ঢাকতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে ফেলেছে। তবে এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পরপরই ‘আকাশ মারা গেছে’ ক্যাম্পাসে এমন গুজব রটে গেলে শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে বিক্ষোভ করে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিজ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ থামাতে এলে তাদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। শিক্ষার্থীরা এ সময় জানালার কাচ, স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রাইভেট কার ভাঙচুর করে। পরে ঘটনাস্থলে যান কাফরুল থানার ওসি সেলিমুজ্জামান ও ইন্সপেক্টর তদন্ত ফারুকুজ্জামান।
জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় ওসি সেলিমুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। ছাত্রের অভিভাবক অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
মিরপুর বনফুল আদিবাসী গ্রিনহার্ট কলেজের স্কুল শাখাও রয়েছে। কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরের সময় ভেতরে স্কুলের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আটকা পড়ে। পরে বেলা দেড়টার দিকে তাদের অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী উপকমিশনার (এডিসি) কামাল হোসেন বলেন, ছেলেটির চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা তার খোঁজখবর নিচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আকাশের অবস্থা সম্পর্কে জানতে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে যোগাযোগ করলে চিকিৎসক মনসুর আহমেদ বলেন, ছেলেটি সুস্থ আছে। কথাবার্তা বলছে। তার সিটি স্ক্যান হয়েছে। রিপোর্ট পেলে অবস্থা বোঝা যাবে। সে এখন স্বাভাবিক আছে।