এমপিওভুক্তির তালিকায় ‘চিরুনি তল্লাশি’

আগের সংবাদ

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ৫৫ হাজার ২৯৫ জন

পরের সংবাদ

৪২ বছর পর পাঁঠাচোর গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ , ১১:০১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

Avatar

৪২ বছর আগে ৪৫ টাকা দামের পাঁঠা চুরি করেছিল বাবা-ছেলে। ধরাও পড়ে যায়। পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মেলে জামিনও। যার পাঁঠা, ফেরত যায় তার কাছেই। সাড়ে তিন যুগ পরে সেই মামলায় ধরা হলো সেই দিনের ১৬ বছরের ছেলেকে। তার বয়স এখন ৫৮ বছর। বাবা প্রয়াত। আর পাঁঠার মালিকের বয়স ৮৬। কানে শোনেন না। আর সে পাঁঠাও আজ নেই। খবর আনন্দবাজার।
ত্রিপুরার বোধজং থানার ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরী ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানান, ১৯৭৮ সালে আগরতলার নন্দননগর এলাকার কুমুদ ভৌমিকের একটি পাঁঠা চুরি হয়। তিনি থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত মোহন কল ও তার ছেলে বাচ্চু কল। সে সময় কী হয়েছিল তা ওসি জানেন না। তবে গত ১২ আগস্ট ত্রিপুরা হাইকোর্ট রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেন, ২৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এরপরই বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা পেয়ে থানার ওসি সুকান্ত সেন চৌধুরী মামলাকারীর ঠিকানা জোগাড় করে তার সঙ্গে কথা বলে জিরানিয়া মহকুমার রানীরবাজারের মেখলিপাড়া চা বাগান থেকে গত শনিবার বাচ্চু কলকে গ্রেপ্তার করেন। গতকাল রবিবার বাচ্চুকে কোর্টে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগকারী কুমুদ ভৌমিককে ফোন করলে তার স্ত্রী বিজয়প্রভা ভৌমিক জানান, ৮৬ বছরের কুমুদ কানে কম শোনেন। ৪২ বছর আগের পাঁঠা চুরির গল্প বলেন তিনি। তখন তার দুধের ব্যবসা ছিল। স্বামীর ছিল চা ও ফলের দোকান। একদিন সন্ধ্যায় বাড়ি বাড়ি দুধ দিতে বেরিয়েছিলেন তিনি। ফিরে দেখেন তার পাঁঠাটি নেই। গরু-ছাগল যে ছেলেটি দেখত সেই বাচ্চুর বাড়িতে যান তিনি। তারা বাপ-ছেলে কেউই বাড়িতে ছিল না।
পরের দিন সকালে স্বামীর কাছে কান্নাকাটি করেন মহিলা। বিজয়প্রভার কথায়, সে দিন ছিল রানীরবাজারের হাটবার। সেখানে গিয়ে পাঁঠাসহ বাপ-ছেলেকে হাতেনাতে ধরেন আমার স্বামী। পাঁঠা পেয়ে তাদের আমিই স্থানীয় মানুষের হাত থেকে রক্ষা করি। পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। কদিন পর তারা ছাড়া পায়। এখন ৪২ বছর পর কেন আবার তা নিয়ে নাড়াচাড়া, বোধগম্য হচ্ছে না বিজয়প্রভারও।