শোভন-রাব্বানীর একাকী একদিন

আগের সংবাদ

এমপিওভুক্তির তালিকায় ‘চিরুনি তল্লাশি’

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গাদের হাতে এবার মিয়ানমারের সিম

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ , ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

Avatar

এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা এবার মিয়ানমারের সিম ব্যবহার করে অবাধে তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় টেকনাফ-উখিয়ায় প্রতিবেশী দেশটির মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল। আর এ সুযোগটাই এখন কাজে লাগাচ্ছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমিত রাখার ফলে গত কয়েক দিন ধরে মারাত্মক নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটে। ফলে ক্যাম্পে ও ক্যাম্পের আশপাশে ইন্টারনেট ব্যবহার ও মুঠোফোনে কথা বলা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। এমনকি অনেক এলাকায় মোটেও মোবাইলে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে এ অঞ্চলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জানা যায়, গত দু’সপ্তাহ ধরে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে মুঠোফোনে কথা বলতে পারছে না। ফলে বিকল্প হিসেবে মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও টেকনাফ থেকে মিয়ানমারের সিম সংগ্রহ এবং মিয়ানমারে অবস্থানরত আত্মীয়দের মাধ্যমে মোবাইলে রিচার্জ করছে। মুঠোফোনের ডিসপ্লেতে ‘এমপিটি’ লেখা দেখা গেছে এবং মিয়ানমারের সিমগুলোর নম্বরের সংখ্যা এগারোটি। যা ০৯৮৯১৬৮৮……, ০৯২৬৩১৭৯৬…., ০৯৪০৯৩২০৪…. এভাবে শুরু হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে একজন গ্রাহকের ১৫টি সিম উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের এনআইডি না থাকলেও হাতে হাতে কয়েক লাখ সিম। নামে-বেনামে এই সিম ব্যবহার করে বিদেশে তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা।

সম্প্রতি টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর হত্যা ও উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশসহ বেশ কয়েকটি ঘটনায় ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে রোহিঙ্গারা। মহাসমাবেশে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার ঘটনা ও একই রমের টি-শার্ট, বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড কীভাবে পেল তা নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ শুরু হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পে কর্মরত কয়েকটি এনজিওর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে এবং তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। শুধু তাই নই, গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ থাকলেও স্বেচ্ছায় যেতে রাজি না হওয়ায় একজনকেও প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সশস্ত্র উগ্রপন্থি সংগঠন প্রত্যাবাসনবিরোধী প্রচারণা ও সাধারণ রোহিঙ্গাদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রুপ চ্যাট করে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ফলে সরকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৩জি ও ৪জি ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সীমিত রাখার ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় এবার মিয়ানমারের নেটওয়ার্কনির্ভর হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। সীমান্তবর্তী হওয়ায় মিয়ানমারের মোবাইল নেটওয়ার্ক টেকনাফের প্রায় অঞ্চলে পাওয়া যায়। ফলে মিয়ানমার থেকে সিম এনে ব্যবহার করছে তারা। সরকারের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে ইন্টারনেট ও মুঠোফোন ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। তবে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে মোবাইল জব্দের কোনো প্রকার অভিযান এখনো হয়নি বলে জানা গেছে।
শালবাগান ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কুতুপালং ক্যাম্প থেকে ২০০ টাকায় সিম সংগ্রহ করেছি। মিয়ানমারে থাকা আত্মীয়দের মাধ্যমে মোবাইল রিচার্জ করে থাকি। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মো. আলী বলেন, নেটওয়ার্ক সীমিত করায় আমিও ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে সরকারই ভালো জানেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল মনছুর জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হবে।