শিক্ষাপ্রশাসনে বহাল তবিয়তে জামায়াতিরা!

আগের সংবাদ

সংস্কৃতি বনাম মিডিয়া সংস্কৃতি

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গাদের হাতে মিয়ানমারের সিম

প্রশাসনকে নজরদারি বাড়াতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ , ১০:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার প্রায় অর্ধেকেরই বাংলাদেশি সিম ব্যবহারের বিষয়টি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ায়। স্থানীয়দের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব সিম ব্যবহার করে তারা অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য পাচার, মাদক পাচার এমনকি খুনাখুনির মতো ঘটনা ঘটছে। এসব সিম ব্যবহার করে সীমান্তের এপার এবং ওপারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিল তারা। এতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিমিষেই পাচার হয়ে যাচ্ছিল। গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠান করার পর বিষয়টি নজরে আসে যে, এরা কীভাবে নিজেদের মাঝে যোগাযোগের মাধ্যমে এমন সমাবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মোবাইল সেবা বন্ধের নির্দেশনা আসে। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর অপারেটরদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর বিটিআরসি অনির্দিষ্টকালের জন্য উখিয়া ও টেকনাফে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক সেবা শিথিল করে দেয়। এতে ওই এলাকায় কোনো রকমে মোবাইলে কথা বলা গেলেও ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি আমাদের সাময়িক স্বস্তি দিলেও ইতোমধ্যে বিকল্প উপায় খুঁজে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। দেশি সিমের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের কারণে গত দু’সপ্তাহ ধরে তারা মিয়ানমারের সিম ব্যবহার করছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় টেকনাফ-উখিয়ায় দেশটির মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল। আর এ সুযোগই এখন তারা কাজে লাগাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের একের পর এক এসব কর্মকাণ্ড আমাদের জাতীয় জীবনে ভয়ঙ্কর অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে মোবাইল ব্যবহার করার কারণে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা যথেষ্ট হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সরকার দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে। এতে আমাদের রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল হতে দিচ্ছে না তাদের একটি শক্তিশালী চক্র। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে মনে হয় না। অচিরেই তাদের প্রত্যাবাসন করা না গেলে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে মোবাইল জব্দের কোনো প্রকার অভিযান এখনো হয়নি বলে জানা গেছে। আমরা চাই, নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে এসব ফোন ও সিম জব্দ করা হোক। এতে কিছুটা হলেও ক্যাম্পে ফোনের ব্যবহার কমবে। সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর নজর দিতে হবে ও উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা