শিবগঞ্জে ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শুদ্ধা জানালেন জয় ও লেখক

পরের সংবাদ

এক বছরে স্থলবন্দরের আয় বেড়েছে ৪২ শতাংশ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ , ২:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯, ২:২২ অপরাহ্ণ

Avatar

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের মাধ্যমে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের স্থলবন্দরগুলো ২১১ কোটি টাকা আয় করেছে। এর আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ১৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে এক বছরে স্থলবন্দরগুলোর আয় বেড়েছে প্রায় ৪২ শতাংশ। সূত্র-বাসস।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত অর্থবছরে স্থলবন্দর থেকে যত আয় হয়েছে, এর ৮২ শতাংশই এসেছে চারটি স্থলবন্দর থেকে। স্থলবন্দরগুলো হলো- বেনাপোল, বুড়িমারী, ভোমরা ও তামাবিল। বরাবরের মতো গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি মাশুল আদায় হয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে। এই স্থলবন্দরের আয় ছিল ৮২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। বুড়িমারী ৫৭ কোটি ২৯ লাখ, ভোমরা ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ও তামাবিল ১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা আয় করেছে।

অন্য স্থলবন্দরের মধ্যে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ৩ কোটি ৪০ লাখ, হিলি ৬ কোটি ৯১ লাখ, টেকনাফ ৩ কোটি ৬৮ লাখ, বাংলাবান্ধা ৩ কোটি ১৫ লাখ, আখাউড়া ১৯ লাখ, সোনাহাট ৩ কোটি ৭২ লাখ, নাকুগাঁও ৬৮ লাখ ও বিবিরবাজার ২ লাখ টাকা। এ ছাড়া এ সময়ে প্রধান কার্যালয়ের আয় ছিল ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্ত্তী সম্প্রতি বাসসকে বলেন, গত কয়েক বছরে স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে নতুন চালু হওয়া বন্দরগুলোর সক্ষমতা। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বেড়েছে। মূলত এসব কারণে স্থলবন্দরগুলোর আয় বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি জানান, এখন সেবা সম্প্রসারণ হওয়ায় দ্রুত পণ্য খালাস হচ্ছে, যা আয় বাড়ার ক্ষেত্রে ভ‚মিকা রাখছে। তপন চক্রবর্ত্তী বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরো দুটি নতুন স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভোমরা ও বেনাপোল স্থলবন্দর সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থলবন্দর থেকে ১৭৯ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে মোটরযান চুক্তির (বিবিআইএন এমভিএ) আওতায় অদূর ভবিষ্যতে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বের পরিমাণও বহুলাংশে বাড়বে বলে মনে করেন তপন চক্রবর্ত্তী। স্থলবন্দরের আয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো খালাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা পণ্যের জন্য শেড ও ইয়ার্ড ভাড়া, ওজন মাপার মাশুল, প্রবেশ মাশুল, শ্রমিক মজুরি, দলিলাদি প্রক্রিয়াকরণ মাশুল ইত্যাদি।

দেশে বর্তমানে ২৩টি স্থলবন্দর আছে। এর মধ্যে ১২টি স্থলবন্দর কার্যকর আছে। বাকিগুলো এখনো শুল্কস্টেশনের মতো চলে। স্থলবন্দর দিয়ে মূলত স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি হয়। প্রায় ৯৮ ভাগ পণ্যই আমদানি-রপ্তানি হয় ভারতের সঙ্গে। মিয়ানমারের সঙ্গে হয় ২ শতাংশের মতো।

উল্লেখ্য, বার্ষিক আয় দিয়েই স্থলবন্দরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উন্নয়নসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করা হয়। বাকি অর্থ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের স্থায়ী আমানতে রাখা হয় এবং সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের কোষাগারে ৩৫ কোটি টাকা জমা দেয়া হয়।

ভারতসহ পাশ্বর্বর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সহজ করতে ২০০১ সালে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়।