মেসিকে পেছনে ফেললেন আনসু ফাতি, বড় জয় পেল বার্সেলোনা

আগের সংবাদ

বিএনপির ভুলের সুযোগ নিয়েছে অন্যপক্ষ

পরের সংবাদ

ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার ধাক্কা বাজারে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ , ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

প্রতি বছরই নানা কারণে পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ বাড়ে। আবার সরকারের তদারকিতে কমেও যায়। কিন্তু এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির ঝাঁজ কোনোভাবেই কমাতে পারছে না সরকার। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। নতুন করে আবার যুক্ত হয়েছে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা। ফলে আরেক দফা দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দামের ঝাঁজে নাকাল ক্রেতারা। গতকাল শনিবার হিলি বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ টাকা করে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে। ভারত যে ন্যূনতম দাম ঠিক করে দিয়েছে, তাতে খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।
জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। ভারত রপ্তানিমূল্য বাড়িয়ে দেয়ায় বাংলাদেশে এর অনেক প্রভাব পড়বে। বিকল্প ক্ষেত্র থেকে কিভাবে পেঁয়াজ আমদানি করা যায়, সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। ভারত পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে, তার কার্যকারিতা শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। কিন্তু এর অনেক আগে থেকেই দেশীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি থাকার কারণ সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেরও কয়েকটি স্থানে বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়েই খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। অন্য দেশ থেকেও আমরা হয়তো পেঁয়াজ আমদানি করতে পারি। কিন্তু কনজ্যুমার টেস্টের সঙ্গে মিলে না বলে আমদানি করা হয় না। তিনি আরো বলেন, আমরা কিছুদিন বাজার মনিটরিং করব। ভারতের মূল্যবৃদ্ধি যদি দেশীয় বাজারে বেশি প্রভাব ফেলে, সে ক্ষেত্রে এনবিআরের সঙ্গে কথা বলে শুল্ক কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।
বিষয়টি নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা কোনো একটি পণ্য নিয়ে প্রতি বছরই কারসাজি করে থাকেন। তবে এবারে ভারতে বৃষ্টি বেশি হওয়াতে সেখানে এই পণ্যটির অনেক ক্ষতি হয়েছে। ফলে তাদের দেশে দাম বেড়ে গিয়েছে। আর এর প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। তিনি বলেন, দাম বাড়ে মূলত, যখন আভ্যন্তরীণ সংকট থাকে। তখন বাইরে যেন রপ্তানি বন্ধ করা যায়, এ জন্য দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। আর আমাদের দেশে সব সময় ভারতের দাম প্লাস থাকে। অর্থাৎ ‘ইন্ডিয়ান প্রাইজ ইজ দ্য বেঞ্জমার্ক’ কারণ আমরা বহুলাংশে ভারতের পণ্যের ওপর নির্ভরশীল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় রপ্তানিতে লাগাম টেনে দিয়েছে ভারত সরকার, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। গত সপ্তাহে প্রতি টন ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে আমদানি হলেও নতুন নির্ধারিত ন্যূনতম রপ্তানি অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। ভোরের কাগজের প্রতিনিধির তথ্য অনুযায়ী, হিলি স্থলবন্দরে আগে টনপ্রতি পেঁয়াজ ২৫০-৩০০ মার্কিন ডলার দামে আমদানি হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৮৫২ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে ভারতের কাঁচা পণ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাপিড। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি হিলি কাস্টমসে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার থেকেই নতুন দামে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। তবে শনিবার ছুটির দিন, তাই ব্যাংক বন্ধ থাকায় এলসিগুলো সংশোধন না করার কারণে শনিবার পেঁয়াজ আমদানির সম্ভাবনা ছিল না। অবশ্য কিছু সময় বন্ধ থাকলেও সোনালি ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি সংশোধন করে আবার পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়।
চলতি বছর বন্যার কারণে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে পেঁয়াজের উৎপাদন বড় ধাক্কা খেয়েছে। ফলে পেঁয়াজের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে গত কিছুদিন ধরে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লি আর কলকাতার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ রুপিতে, যা সপ্তাহ দুই আগেও ২০ থেকে ৩০ রুপি ছিল। আর ঢাকার বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালের শেষ দিকেও একবার ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করেছিল। তখন ঢাকার খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা পেরিয়ে গিয়েছিল।
কারওয়ান বাজারের লাকসাম বাণিজ্যালয়ের পেঁয়াজ আমদানিকারক হাবিবুর রহমান মোস্তফা ভোরের কাগজকে জানান, এতদিন পেঁয়াজ আমদানিতে ন্যূনতম কোনো রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা ছিল না। তারা যে দামে পেঁয়াজ কিনতেন, সে দামেই আমদানি করা হতো। প্রতিটন পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৫০-৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি হতো। কিন্তু আজ (শনিবার) থেকে ন্যাপিড পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৮৫২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছে। এখন খরচও বাড়বে। পাশাপাশি ডলারের দাম বাড়তে থাকলে পেঁয়াজের দামেও আরো বেশি প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, ভারত ছাড়াও মিয়ানমার, পাকিস্তান, চায়না থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হতো। কিন্তু এখন আর আসে না। কারণ এসব পেঁয়াজ চলে কম। আর তাই ভারতের পেঁয়াজের প্রতি আগ্রহটা একটু বেশি।