ব্রেক্সিট নিয়ে চরম সংকটে ব্রিটেন

আগের সংবাদ

এখনো অপেক্ষায় ছাত্রদলের কাউন্সিলররা

পরের সংবাদ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সুন্দরবন: পারস্পরিক প্রভাব

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ , ১০:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ১০:০৫ অপরাহ্ণ

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

সরকারের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান

সময়ের প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে তার গতি-প্রকৃতি বিচার-বিশ্লেষণ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে এ জন্য যে একে যথাসময়ে যথাপ্রযত্ন প্রদান করা সম্ভব না হলে, উষ্ণায়নের প্রভাবক ক্ষয়ক্ষতিকে যথা নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে সমূহ সম্ভাবনাময় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের অবদান থেকে অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতি শুধু বঞ্চিতই হবে না, সময়ের অবসরে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটি গোটা দেশ ও অর্থনীতির জন্য দুর্ভাবনা-দুর্গতির কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সম্প্রতি অতি উপরের পর্যায় থেকে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্পত্তিতে ঘরবাড়ি তো দূরের কথা কলকারখানা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হচ্ছে। যথার্থ তো বটেই। অনিবার্য কারণও রয়েছে এ ধরনের আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, পরামর্শ প্রদানের। কেননা প্রকৃতির প্রতি যে কোনো অবিচার, অনাচার বা প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার হলে প্রতিশোধ নিতে প্রকৃতি কিন্তু কখনো ভুল করে না। হ্যাঁ প্রতিশোধ নিতে হয়তো একটু সময় লাগে। এমন হতে পারে যে প্রজন্ম প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের আয়োজন করে, কারণ সৃষ্টি করে, প্রতিশোধের খড়গটা তাদের ওপর পড়ে না, পড়ে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর। সুতরাং বর্তমানকে ভবিষ্যতের দুুর্বিষহ পরিণতির কথা মনে রেখেই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে যত্নবান হতে হবে। আমাজন পুড়ছে। সে প্রভাবে বিশ্ব ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপট আজ আক্রান্ত। আজকের সুন্দরবন যাতে ভবিষ্যতে অধিকতর অসুন্দর অবস্থায় আপতিত না হয় সে বিবেচনার দায়ভার বর্তমানের হাতে থাকতে হবে।
বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের দৈর্ঘ্য ৭১০ কিলোমিটার, এর মধ্যে সুন্দরবন ১২৫ কিলোমিটার, নদীর মোহনা ও ছোট-বড় দ্বীপমালা ২৭৫ কিলোমিটার, সমতল ও সমুদ্র সৈকত ৩১০ কিলোমিটার। টেকনাফের নাফ নদের মোহনা থেকে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত নদী রায়মঙ্গল-কালিন্দী পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ১৪টি উপকূলীয় জেলায় বিস্তৃত বাংলাদেশের উপকূলেই দেশের প্রধান দুটি সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলা, বিশ্বের সেরা গহীন গরান বন সুন্দরবন এবং বিশ্বের অন্যতম অখণ্ডিত (ঁহনৎড়শবহ) সমুদ্র সৈকত বা বেলাভূমি কক্সবাজার অবস্থিত। দেশের শতকরা ২৫ ভাগ জনগণ যেমন এই উপকূল অঞ্চলে বসবাস করে তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপির কমবেশি প্রায় শতকরা ২৫ ভাগ অবদানও এই অঞ্চলেরই। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এই অঞ্চল, এর অবকাঠামো এবং বসবাসকারী জনগণের অর্থনৈতিক জীবন নানা দৈব-দুর্বিপাক, বৈষম্য, অবহেলা আর অমনোযোগিতার শিকার। সাম্প্রতিক কালের সর্বশেষ সুদূরপ্রসারী ক্ষতির, অত্যাচারের, ধ্বংসের পাঁয়তারা হচ্ছে সুন্দরবনের গা ঘেঁষে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন। বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তার অনস্বীকার্য বিষয়কে বিতর্কিত করতে নয়, পধঁংব আর বভভবপঃ-এর কচলাকচলিতে আখেরে দেশ ও অর্থনীতির উন্নয়ন রূপকল্প ব্যর্থতার বিবরে যাতে চলে না যায় সেদিকে সবার সজাগ-সজ্ঞান দৃষ্টিক্ষেপ বাঞ্ছনীয়। সেখানেও সুন্দরবন আছে, বলা হয়েছে, সেখানে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানোয় বাধা এসেছে সেখানকার উচ্চ শালিশালয় থেকে অথচ এখানে নিষ্পত্তি নেই নানা আবেদন-নিবেদনের, অন্যের স্বার্থে আত্মস্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়ার আয়াস আয়োজনের, দাবি-দাওয়া উপেক্ষার আস্ফালনের।
যতই বলা হোক এই বিদ্যুৎসহ নানা শিল্পকেন্দ্র স্থাপনে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না, যারা যেভাবে বলছেন, তারা তো যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন না সেই সর্বনাশ ভোগ করতে। আন্তর্জাতিক নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে ভাটির দেশ ও জাতির সামাজিক অর্থনীতির হাটঘাট কীভাবে তিলে তিলে পয়মাল করা হচ্ছে তা দেখার পরও অন্ধত্বের অভিনয় তো সুন্দরবনের সঙ্গে অসুন্দর ব্যবহারের বিমূর্ত প্রকাশ। সুন্দরবনের অপর অংশের বনজ ও প্রাণিজ সম্পদের জৌলুশ বৃদ্ধির খবরের পাশাপাশি এ পারের সুন্দরবনের প্রাণিসম্পদের সমৃদ্ধির পরিবর্তে তাদের মরাকটাল অবস্থার খবর এখনই উঠে আসছে। একাংশে শিল্পকেন্দ্র স্থাপনে যে যুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা অন্য ক্ষেত্রে তা কেন খাটে না, বলবৎ হয় না।
ভারত সাগরের উত্তর-পূর্ব ভাগে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের পশ্চিম উপকূলে ২০.২৫ ও ২৩.২ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৩৫ ও ৯২.২৪ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থানই এমন যে কথায় কথায় তার মেজাজ বিগড়ে যায়, মৌসুমি সঞ্চরণশীল মেঘের অবারিত অভিসার যেমন তাকে নাচায় তেমনি জাতীয় কবি নজরুলের ক্ষুধিত বন্ধু সে তৃষিত জলধি যার চিত্ত শত ক্ষুধার উদ্রেক করে উপকূলবাসীদের জীবন তছনছ করতে তার আনন্দ যেন বেশি। বলা নেই কওয়া নেই সমুদ্র প্রায় উত্তাল থাকে। তার মন পবনের ঠিকানা বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর খুঁজে পায় না। তার এই প্রায়শ পাগলামি সুন্দরবন বরাবরই মাথায় পেতে নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালীতে শেলটার দিয়ে চলেছে। ১৭৯৭ থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের শুমারি পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে মোট ৪৭৮ বার মাঝারি ও মোটা দাগের জলোচ্ছ্বাস, গোর্কি, হারিকেন, সিডর, মাহাসেন, নার্গিস, ফণী বাংলাদেশের উপকূলকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ১৭৩ বছরে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে ৩২৯টি, এসেছে গড়ে ৫-১০ বছর পরপর, কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের বিগত ৪৮ বছরে ১৬৪টি ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস ঘটেছে ঘন ঘন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সিডর আর আইলার আঘাতে স্বয়ং সুন্দরবনও পর্যুদস্ত হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল প্রকৃতির বিরূপ আচরণের প্রথম ও প্রত্যক্ষ শিকার সব সময়েই।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনা করলে এটা প্রতিভাত হয়ে ওঠে যে জাতীয় অর্থনীতির অন্তঃসলিলা শক্তির উদ্বোধন যার হাতে সেই সুন্দরবন সবচেয়ে বেদনায় বিবর্ণ। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো অর্থনীতির অনেক প্রবণতার সূচক সন্ধানে কালাতিপাত করে কিন্তু উপকূলীয় জেলা নিচয়ের আর্থ-সামাজিক চালচিত্রের, খানা পুরী থেকে শুরু করে ভূমি বণ্টন ব্যবস্থা, চাষাবাদের হালহকিকত, প্রাণিসম্পদের সালতামামি অনেক কিছুরই বাস্তবতার ব্যাখ্যা তাদের কাছে নেই। উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি যেন শুধু দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মাথাব্যথা সূত্রে সমুপস্থিত শুধু আকালের দিনে নাকালের মোহনায় এবং একমাত্র মিডিয়ায়।
নদীর অববাহিকাই মানব সভ্যতার সূতিকাগার, কৃষিই প্রাচীনতম জীবিকা আর শ্যামল-সবুজ প্রান্তরে প্রাণিসম্পদের সমারোহই জীবনায়নের স্পন্দন। বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল যে এসব সত্য ও সম্ভারে সমৃদ্ধ তা তো চর্যাপদের পাতা থেকেও জানা যায়। সমুদ্র, নদীমেখলা প্রকৃতি আর শ্যামল-সবুজ পরিবেশের সংমিশ্রণে উপকূল অঞ্চল গোটা দেশের, সমাজের, অর্থনীতির জন্য অনিবার্য অবকাঠামো শুধু নয়, উন্নয়ন প্রয়াস প্রচেষ্টায় সার্বিক ভারসাম্য রক্ষার জন্যও জরুরি। এটা সুপ্রাচীন কাল থেকে, ইতিহাসের পথ ধরে এ সত্য সতত সব ভূগোলে স্বীকৃত থাকলেও প্রাচীন এই জনপদে তা যেন সব সময় নতুন করে মনে করিয়ে দিতে হয় যখন পালা করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে সবাই। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পড়ে, তাপমাত্রার পবির্তন প্রসূত তারতম্য সূত্রে সমুদ্রের তলদেশ স্ফীত হয়ে ওঠার ফলে পরিবেশ ভারসাম্যহীনতার যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে চলেছে বিশ্বের প্রায় সব সমুদ্র উপকূল বেষ্টনীতে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বাংলাদেশের জন্য তা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের অশনি সংকেত দিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল, বিশেষ করে অদূরবর্তী দ্বীপাঞ্চল সামান্য জলোচ্ছ্বাসের ছুতানাতাতেই তলিয়ে যাচ্ছে, তা উদ্ধারে বশংবদ কোনো কার্যক্রম সফল হচ্ছে না। সুন্দরবনের প্রাণিবৈচিত্র্য বিপন্ন হতে চলেছে এর প্রভাবে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির জন্য তা দারুণ দুঃসংবাদ বৈকি।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা গুণগত ও কার্যকারণগত পরিবর্তন সময়ের প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্বাধীনতা লাভের পাঁচ দশকের মাথায় এসে দেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে যতগুলো পরিবর্তন তথা সাফল্যজনিত সূচক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে তার মধ্যে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন অন্যতম। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। সে সময় চাষাবাদযোগ্য ২৫৫ লাখ একর জমিতে ১০০ লাখ টন ধান উৎপাদিত হতো, সে তুলনায় ২০০৮ সালে জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৪০ লাখে দাঁড়ালেও এ সময় ২৬১ লাখ একর জমিতে ধান উৎপাদিত হয়েছে ২৯০ লাখ টন অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ। দ্বিগুণ বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য তিন গুণ বর্ধিত খাদ্যশস্য উৎপাদন নিঃসন্দেহে খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি বা সাফল্য। ১৯৭০ থেকে ২০০৮ সময়ে বাজেটে ক্রমান্বয়ে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দের হিস্যা যথেষ্ট হ্রাস (১৯% থেকে ৭%!) পাওয়া সত্ত্বেও এই প্রবৃদ্ধি একটি নীরব বিপ্লবের সাক্ষ্য বহন করে আর এর অগ্রসাধক হলো দেশের আপামর কৃষক সমাজ।
এই প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির অবদান তুলনামূলকভাবে নিম্নমুখী। উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি খাত প্রধানত শস্য ও অশস্য (নন ক্রপ) এ দুভাগে বিভক্ত। প্রথমত বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত হওয়ার কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদন তুলনামূলকভাবে এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়নি। একটি পরিশীলিত সমীক্ষা-গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা যায় ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যবর্তী মাত্র ১৩ বছরে জাতীয় পর্যায়ে যেখানে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ শস্য (খাদ্য ও অর্থকরী ফসল) উৎপাদিত হয়েছে সেখানে উপকূলীয় অঞ্চলে একই সময়ে শস্য উৎপাদন বাড়েনি বরং কমেছে। উজান থেকে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেলেও চাষাবাদ পদ্ধতি প্রক্রিয়ায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েও কাক্সিক্ষত ফল ততটা আসেনি যতটা অশস্য অর্থকরী খাতে অর্থাৎ মৎস্য চাষসহ প্রাণিসম্পদ চাষ ও বিকল্প পণ্য উৎপাদন ক্ষেত্রে এসেছে। অশস্য খাতে আপাত ব্যাপক সাফল্যের ফলে কৃষি থেকে গড়পরতায় জিডিপিতে এখনো সমানুপাতিক হারে অবদান (২৫%-২৩%) রেখে চলেছে এই অঞ্চল। অশস্য খাতের এই সাফল্যকে টেকসই করা যেমন প্রয়োজন একই সঙ্গে শস্য উৎপাদনে, জমির সঠিক ব্যবহারে, উপায় উপাদান সরবরাহে, চাষ পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটানোয় এবং এমনকি ভূমি প্রশাসনেও সংস্কার আবশ্যক।
মোদ্দা কথায় সময়ের প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে তার গতি-প্রকৃতি বিচার-বিশ্লেষণ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে এ জন্য যে একে যথাসময়ে যথাপ্রযত্ন প্রদান করা সম্ভব না হলে, উষ্ণায়নের প্রভাবক ক্ষয়ক্ষতিকে যথা নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে সমূহ সম্ভাবনাময় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের অবদান থেকে অদূর ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতি শুধু বঞ্চিতই হবে না, সময়ের অবসরে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটি গোটা দেশ ও অর্থনীতির জন্য দুর্ভাবনা-দুর্গতির কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দেশের অন্যতম দুটি সামুদ্রিক বন্দর, প্রাকৃতিক সম্পদের স্বর্গ সুন্দরবন এবং পর্যটন সম্ভাবনা সমৃদ্ধ কক্সবাজারকে কার্যকর অবস্থায় পাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন অভিযাত্রার জন্য যে কত জরুরি তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। সাম্প্রতিককালে সিডর, আইলা ও ফণীতে সুন্দরবন এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার মানুষ ও অন্যান্য প্রাণিসম্পদের ওপর যে দুর্বিষহ ও নেতিবাচক প্রভাব প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় তাতে উপকূলীয় কৃষি অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাববার অবকাশ দেখা দিয়েছে।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ : সরকারের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা