ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপালের জামিন নামঞ্জুর

আগের সংবাদ

উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানীর মামলা

পরের সংবাদ

পটুয়াখালীতে হত্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তারের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ , ৬:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯, ৬:১৬ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

পটুয়াখালীর বাউফলে নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামী জোবায়ের হোসেন জামসেদকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবীতে দাবীতে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত নুরুল ইসলামের বড় ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি বাউফল উপজেলার ইন্দ্রকুল গ্রামে। আমাদের একই বাড়ির নাসির উদ্দিন ও তার ভাই বাহাউদ্দিন বাবুলের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ২৩ আগস্ট দুই ভাই নাসির উদ্দিনগং ও তার ভাই বাহাউদ্দিন বাবুলগংদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে দুই পক্ষের মোট ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ২৪ আগষ্ট বাউফল থানায় নাসির উদ্দিনের পক্ষে তার মেয়ে নাইমা আক্তার দোলন, নুরইসলাম হাওলাদারকে স্বাক্ষী করে মামলার প্রস্তুতি নেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে স্থানীয়ভাবে সালিশ বিচারেরা কথা হলে মামলা করা থেকে বিরত থাকেন দোলন। নুরুল ইসলাম হাওলাদার স্বাক্ষী হওয়ার কথা শুনে বাহাউদ্দিন বাবুল ও তার ছেলে জোবায়ের হোসেন জামসেদগং ক্ষিপ্ত হয় এবং বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় জামসেদ , রাকিব হোসেন, মাসুদ আকন, বাহাউদ্দিন বাবুল, ইউসুফ হাওলাদারসহ ৭/৮জন স্বাক্ষী নুরুল ইসলাম হাওলাদারকে খুন করার পরিকল্পনা করে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে দেশী তৈরী ধারালো অস্ত্রসশ্র নিয়ে বাড়িতে গিয়ে নুরুল ইসলাম হাওলাদারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার অবস্থা অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরুল ইসলামকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। এ গুরুতর আহত ঘটনায় ২৬ আগস্ট নুরুল ইসলামের মেয়ে সালমা সুলতানা বাদী হয়ে জোবায়ের হোসেন জামসেদ, রাকিব হোসেন, মাসুদ আকন, বাহাউদ্দিন বাবুল, ইউসুফ হাওলাদার, নাছিমা বেগম, মমতাজ বেগমকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৪০, জিআর ২৬৬/৩০২। এ মামলার পরে ১ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১১টার সময় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসরত অবস্থায় নুরুল ইসলাম হাওলাদারের মৃত্যু হয়। এ মামলায় প্রধান আসামী ব্যাতীত অন্য আসামীরা হাজির হলে আদালত বাহাউদ্দিন বাবুলকে জামিন দিয়ে বাকি রাকিব হোসেন, মাসুদ আকন, ইউসুফ হাওলাদারকে জেলে প্রেরন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত নুরুল ইসলামের মেয়ে ও হত্যা মামলার বাদি সালমা সুলতানা অভিযোগ করেন, পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামী মাদকসেবী সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামী জামসেদকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। প্রধান আসামী জামসেদসহ সহযোগী সন্ত্রাসীরা বাদী সালমা সুলতানাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য জীবন নাশসহ বিভিন্ন ভয়ভীতির হুমকি দিচ্ছে। বাদি আরও অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার আসামী পক্ষ ১ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে সহ ৭ জনকে আসামী করে বাউফল থানায় মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তার নিহত বাবা নুরুল ইসলামকেও আসামী করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত নুরুল ইসলামের মেয়ে সালমা সুলতানা ও উপস্থিত ছেলেরা প্রধান আসামীসহ জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার এবং পিতা হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবী করেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিহতের ছেলে রাসেল, মনিরুল ইসলাম, নাতি নাইমা আক্তার দোলন, নিহতের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম ও জামাতা শাহাদত হোসেন বাদলসহ অন্যান্য স্বজনরা।

মামলা তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সাকিলা রহমান বলেন, হত্যা মামলার তিন আসামী বর্তমানে কারাগারে আছে। বাকি তিন আসামী আদালত থেকে জামিনে আছে। প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।