শিল্পকলায় ‘হিরণ কিরণ ছবিখানি’

আগের সংবাদ

পদ হারালেন শোভন ও রাব্বানী

পরের সংবাদ

সৈয়দ মহিদুল ইসলাম পদক পেলেন আসাদুজ্জামান নূর

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ , ৯:৩০ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চ নাটকে প্রথম সারির একজন সৈয়দ মহিদুল ইসলাম। ১৯৭৭ সালে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) থেকে নাট্যতত্ত্বে স্নাতকোত্তর করে এসেছিলেন তিনি। সহপাঠী হিসেবে সেখানে পেয়েছিলেন রাজ বাব্বর, স্মিতা পাতিল, নাসিরউদ্দিন শাহকে। তার সেই পড়া ঢাকার নাটককে সমৃদ্ধ করতে কাজে দিয়েছিল। ১৯৮৪ সালে ঢাকায় তিনি চালু করেছিলেন ‘স্কুল অব অ্যাকটিং’। অভিনয় শিখে ঢাকার ছেলেমেয়েরা অভিনয়শিল্পী হবে, এই ছিল তাঁর স্বপ্ন। শিক্ষক হিসেবে সুনাম ছিল সৈয়দ মহিদুলের।

ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর আয়োজনে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৈয়দ মহিদুল ইসলাম স্মরণ উৎসব-২০১৯ এর আয়োজন করা হয়েছে। এবার সৈয়দ মহিদুল ইসলাম পদক পেলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে বসে এই আয়োজন।

সৈয়দ মহিদুল ইসলাম পদক ছাড়াও বেশ কজন নাট্যবন্ধুকে মঞ্চবন্ধু সম্মাননা দেওয়া হয়। এবার সম্মাননা পেলেন তনিমা হামিদ, সুজিত সাহা (ভারত), শুভব্রত দে (ভারত), মীর জাহিদ হাসান ও সাধনা আহমেদ। দেওয়া হয় যুগল সম্মাননাও। এই সম্মানে ভূষিত হলেন মোশাররফ করিম ও রোবেনা রেজা, আলী হায়দার ও সামিনা লুৎফা, মৈথিলী গুহ ও সীমান্ত মৈত্র, মাসুদ সুমন ও মুমু মাসুদ এবং অভিজিৎ সেনগুপ্ত ও দীপ্তা রক্ষিত।

উৎসবের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর এ উৎসবটি এক যুগে পড়েছে। শনিবার শুরু হওয়া উৎসবটি চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতি সন্ধ্যায় দেখা যাবে দেশ ও বিদেশের নাটক। প্রথম দিন থিয়েটার আরামবাগের নাটক ‘দ্রৌপদী পরম্পরা’। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের জলপাইগুড়ির অনামী থিয়েটার সেন্টারের নাটক ‘আর একটি প্রেমের গল্প’, ১৬ সেপ্টেম্বর থিয়েটার আর্ট ইউনিটের নাটক ‘সুতায় সুতায় হ্যানা ও শাপলা’, ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর ‘তক্ষক’ ও ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রন্থিক নাট্যগোষ্ঠীর ‘গিরগিটি’ নাটকটি দেখা যাবে। নাটকগুলো মঞ্চস্থ হবে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে।

১৯৭৬ সালে সৈয়দ মহিদুল ইসলাম কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন নিজের নাটকের দল ‘ব্যতিক্রম’। ১৯৭৮ সাল থেকে দলটি কাজ শুরু করে ঢাকায়। তিনি নিজে লিখতেন, বিদেশি নাটক অনুবাদ করতেন, নির্দেশনা দিতেন, স্টেজ সাজাতেন। তার নাটকে অতিকায় সেট থাকত না, অভিনয়টাই সেখানে গুরুত্ব পেত। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘বিশ্বনাটক’ শুরু করেছিলেন তিনি। নিজে অভিনয় করেছেন টিভি নাটকে, চলচ্চিত্রে, এমনকি চলচ্চিত্র নির্মাণও করেছেন। তাঁর নির্মিত ছবি দুটি ‘আমি কার’ও ‘স্বপ্নযাত্রা’।